• সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

জেট লেগ দূর করার সেরা ছয় উপায়!

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:৩৩

জেট লেগ
ছবি : প্রতীকী

ভিন্ন ভিন্ন সময় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করলে আপনার শরীরে খানিকটা পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। আপনার ঘুম, ক্ষুধাবোধ- সবকিছুই পাল্টে যেতে পারে। খানিকটা অসুস্থতাও বোধ করতে পারেন আপনি। ভ্রমণের মাধ্যমে ঘটা এই সমস্যাটিই হলো জেট লেগ।

অনেকেই জেট লেগ থেকে বাঁচার কোনো উপায় খুঁজে পান না। একে তো বড় একটা ভ্রমণ, তার উপরে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছেই হাতে আছে নানারকম কাজ। কীভাবে জেট লেগের ক্লান্তিকে সহজেই সামলে কাজে মন দেবেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক এই সমস্যার সাতটি চমৎকার সমাধান।

জেট লেগ কেন হয়?

সাধারণত, আমাদের প্রত্যেকের শরীরেরই একটি নির্দিষ্ট ঘড়ি থাকে। এই ঘড়ি যদি কোনো কারণে পরিবর্তনের সম্মুখীন হয়, তাহলে সেই অবস্থাকে জেট লেগ বলা হয়। সাধারণত, আমরা কখন খাচ্ছি, কতটা আলো কখন পাচ্ছি, কখন মানুষের সাথে কথা বলছি- এই সবকিছুর উপরে নির্ভর করে বডি ক্লক কাজ করে।

ধরুন, আপনি যদি এমন কোনো স্থান থেকে আরেকটি স্থানে ভ্রমণ করেন যাদের মধ্যকার সময়ের পার্থক্য প্রায় ১২-১৩ ঘণ্টা। ফলে এক স্থানে যখন দিন, তখন অন্যখানে রাত। এক্ষেত্রে আপনার কাজকর্ম তো পরিবর্তিত হবেই। এই প্রভাব গিয়ে পড়বে শরীরেও।

জেট লেগ সহজে কাটানোর উপায়গুলো হলো-

১। ঘুমানোর সময় পাল্টে নিন-

আপনি যদি পশ্চিমে ভ্রমণ করে থাকেন, তাহলে আপনার ঘুমের সময়কে একটু পিছিয়ে নিন। ঠিক এর উল্টো কাজটা করুন পূর্ব দিকে গেলে। প্রতিদিন আধ ঘণ্টা আগে ঘুমিয়ে পড়ুন। এভাবে ভ্রমণের কিছুদিন আগ থেকেই অভ্যাস শুরু করুন। খাবারের সময়টাও যেখানে যাচ্ছেন তার উপরে নির্ভর করে ঠিক করুন। এতে করে হুট করে আপনার শরীরে বদল আসবে না। আপনার শরীরের ঘড়ি ঠিকঠাকভাবে মানিয়ে নিতে পারে জেট লেগের সাথে।

২। ভ্রমণের সময় ঘড়ির সময় বদলান-

অনেকেই কোথাও ভ্রমণ করলে নিজের ঘড়ির সময় পাল্টান না। এতে করে প্রভাব পড়ে আমাদের মনে। ভ্রমণের ঠিক আগেই যেখানে যাচ্ছেন সেখানকার ঘড়ির সাথে নিজের ঘড়ির সময় মিলিয়ে নিন। এতে করে আপনার ভ্রমণ শেষ হতে হতে মন নতুন সময় দেখে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। ইতিবাচক প্রভাব পড়বে আপনার শরীরেও।

৩। আলোকে নিয়ন্ত্রণ করুন-

জেট লেগের একটা বড় অংশ জুড়েই থাকে আলো। আলো বেশি বা কম না করে, আপনি যে স্থানে যাবেন সেই স্থানের আলোর সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন। সেখানে যখন রাত তখন একটু কম আলোর মধ্য থাকুন ভ্রমণের আগে। ভ্রমণের পরেও আলোর এই ব্যাপারটির দিকে খেয়াল রাখুন। দেখবেন, জেট লেগের প্রভাব অনেক কম পড়ছে।

৪। সময় নিয়ে ভ্রমণ করুন-

আপনার যদি কোথাও গিয়ে কোনো দরকারি কাজ করতে হয়, তাহলে সেখানে নির্দিষ্ট মিটিং-এর দুই-তিনদিন আগে পৌঁছে যান। এতে করে আপনার শরীরে জেট লেগের যে প্রভাব সেটা কেটে যাবে এবং আপনি সময় নিয়ে আরো ভালোভাবে মিটিং শেষ করতে পারবেন।

৫। অ্যালকোহল ও কফি পান করবেন না-

অ্যালকোহল বা কফি হয়তো আপনার অস্বস্তি কাটাতে বা ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করবে। তবে এমনিতেই বিমানে বাতাস আর্দ্র থাকে। অ্যালকোহল আর কফি আপনার শরীরকে আরও আর্দ্র করে তোলে। এতে করে শরীর নতুন স্থানের সাথে সহজে মিশ খেতে পারে না। তাই, চেষ্টা করুন এই ধরণের পানীয় থেকে দূরে থাকতে।

৬। খাবারের দিকে নজর দিন-

শুধু পানীয় নয়, খাবারও এক্ষেত্রে আপনার শরীরকে অনেক বেশি প্রভাবিত করে। তাই সঠিক সময় সঠিক পরিমাণে খাবার গ্রহণ করুন।

এছাড়াও ভ্রমণের সময় সারাক্ষণ ঘুমিয়ে না থেকে হালকা শরীরচর্চা করুন। খাবার, আলো, কার্যক্রম- এই সবকিছুই আপনাকে জেট লেগ থেকে সহজেই মুক্তি পেতে সাহায্য করবে।

মূল লেখক- ডক্টর স্যামুয়েল লো, পার্কওয়ে হসপিটাল।

স্বাস্থ্য-ভোগান্তি, নতুন পরিচিত অসুস্থতার কথা জানাতে অথবা চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ পেতেই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যার পরামর্শ দেবার প্রচেষ্টা থাকবে আমাদের।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড