• শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

বাবল ট্রাবল : কিডনির সিস্ট যখন মারাত্মক একটি সমস্যার নাম

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:৪২
কিডনি
ছবি : সম্পাদিত

অসুখের নামটা শুনতেই খুব মজার কিছু মনে হচ্ছে, তাই না? বাস্তবে এটি কিডনির এক রকমের সমস্যা। কিডনির সিস্ট সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষই খুব একটা ধারণা রাখেন না। ফলে, চিকিৎসকের কাছে এ সংক্রান্ত কোনো সমস্যার কথা শুনলে সেটা বেশ ভীতিপ্রদ কিছু মনে হয়। অনেকে তো নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ দেখা দিলে যে কিডনির সিস্ট হয়েছে কিনা তা বোঝার জন্য চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন সেটাই বুঝতে পারেন না। 

তবে অন্যান্য অনেক অসুখের মতো কিডনির সিস্টও বেশ গুরুত্বপূর্ন একটি ব্যাপার যেটি নিয়ে প্রাথমিক অবস্থাতেই চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন। চলুন, তাই এই ব্যাপারে কিছুটা জেনে নেওয়া যাক- 

কিডনির সিস্ট কী?

কিডনির সিস্ট পানিভর্তি ছোট ছোট মান্সের মতো। এটি কিডনির ভেতরেও হতে পারে, আবার বাইরেও হতে পারে। সাধারণত বেশিরভাগ কিডনি সিস্টেরই কোনো লক্ষণ থাকে না। অন্যান্য কোনো রোগের চিকিৎসা করতে গেলে বা আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করলে এই সিস্ট ধরা পড়ে। 

যদি আপনার কিডনির সিস্ট আপনাকে শারীরিক কোনো সমস্যার মুখোমুখি না করে থাকে, তাহলে এ নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। আপনার চিকিৎসক শুধু নিয়মিত একটি পরীক্ষা করবেন এটা দেখার জন্য যে, এই সিস্ট কোনো সমস্যা তৈরি করতে পারে কিনা। 

তবে এরপর বেশ কিছু কারণে আপনার কিডনির সিস্টের চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। এই যেমন- সিস্টের আকার পরিবর্তিত হওয়া, ব্যথাবোধ হওয়া, রক্তপাত, জ্বর, সংক্রামক কোনো ব্যধি বা কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে এ বিষয়ে আপনাকে চিকিৎসা নেওয়া শুরু করতে হবে। 

কিডনির সিস্ট থেকে কি ক্যান্সার হতে পারে?

কিডনির সিস্ট থেকে ক্যান্সার হতে পারে। নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত রেডিওলজিস্ট মরটন বসনিকের নাম অনুসারে এ ব্যাপারটির পরিমাপ করা হয়। 

বসনিক ১ : এটির মাধ্যমে ক্যান্সারের সম্ভাবনা ১ শতাংশ থাকলে তার নিদর্শন বোঝায়। এ সময় চিকিৎসার প্রয়োজন নেই।

বসনিক ২ : ৫ শতাংশের কম ঝুঁকি থাকলে এটি বোঝায়। এতেও কোনো চিকিৎসার দরকার নেই।

বসনিক ৩ : ৫ শতাংশ ঝুঁকি। এই সময় চিকিৎসক সিস্টের দিকে নজর রাখবেন।

বসনিক ৪ : ৫০ শতাংশ ঝুঁকি বোঝায়। এই সময় অপারেশনের মাধ্যমে সিস্ট সরিয়ে ফেলা প্রয়োজন। 

বসনিক ৫ : ৮০-৯৫ শতাংশ ঝুঁকি বোঝায়। এই ক্ষেত্রেও অপারেশনের প্রয়োজন পড়বে। 

সাধারণত, আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে চিকিৎসকেরা আপনার কতটা চিকিৎসা প্রয়োজন তা বলে দিতে পারবেন।

সিটের অপারেশনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা কী পদ্ধতি বেছে নেন?

সাধারণত, যদি কিডনিতে শুধু ব্যথাবোধ হয় এবং সিস্ট খুব বেশি সংক্রামক না হয়, চিকিৎসকেরা সিস্টের মধ্য থেকে তরল বের করে সেখানে ওষুধ প্রবেশ করিয়ে ধীরে ধীরে সমস্যাটিকে দূর করে দেন। 

তবে সমস্যা একটু বেশি হয়ে গেলে অপারেশনের মাধ্যমে শরীরে ৪ সেন্টিমিটার কেটে সিস্টগুলো সরিয়ে ফেলেন চিকিৎসকেরা। যদিও যতটা সম্ভব কিডনির অংশ রেখে দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। চেষ্টা থাকে যেন কিডনির এই সমস্যা থেকে পরবর্তীতে হৃদপিণ্ডের কোনো অসুখ না হয়ে যায়।

তবে সিস্টের অবস্থা খুব খারাপ পর্যায়ে চলে গেলে এবং কিডনির কাজ বাধাগ্রস্থ হলে চিকিৎসকেরা একটি কিডনি ফেলে দিয়ে থাকেন। 

মাল্টিপল সিস্ট কি বেশি ক্ষতিকারক?

হ্যাঁ, এটি সাধারণত অন্যান্য সিস্টের চাইতে এবশি ভোগায়। সাধারণত, পারিবারিকভাবেই এই সিস্ট চলে আসে। এটির জন্য নিয়মিত চিকিৎসা থেকে শুরু করে খাবারে নিয়ন্ত্রণ ও নানা ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হয়। 

ভয় পেয়ে গেলেন কিডনির সিস্ট নিয়ে? ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। প্রতি ৬-১২ মাস পরপর চিকিৎসকের কাছে গিয়ে একবার কিডনির পরীক্ষাটি করিয়ে আনুন। তাহলে আপনার কোনো সমস্যা থাকলে সেটি সহজেই চিহ্নিত করা যাবে এবং সারিয়ে তোলা যাবে। 

মূল লেখক- ডক্টর তান ইয়াও মিন, মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটাল। 
 

স্বাস্থ্য-ভোগান্তি, নতুন পরিচিত অসুস্থতার কথা জানাতে অথবা চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ পেতেই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যার পরামর্শ দেবার প্রচেষ্টা থাকবে আমাদের।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড