• রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

চিকিৎসকের কাছে এই কথাগুলো কখনোই লুকোবেন না!

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:৩৪
ডাক্তার
ছবি : প্রতীকী

কথায় বলে ‘উকিল আর চিকিৎসকের কাছে তথ্য গোপন করতে নেই’। তবুও আমরা হরহামেশাই আমাদের জীবনের অনেক তথ্যই গোপন করে যাই চিকিৎসকদের কাছ থেকে। আপনিও কি এমনটা করে থাকেন? তাহলে আজ জেনে নিন এমন কিছু ব্যাপার সম্পর্কে, যেগুলো চিকিৎসকের কাছ থেকে মোটেই গোপন করা উচিত নয়।

১। অত্যাধিক মদ্যপান করা- 

অনেকেই লজ্জায় বা কুন্ঠায় চিকিৎসকের কাছে নিজের মদ্যপানের কথা বলেন না। এটি যে শুধু রোগীর শারীরিক অবস্থাকেই খারাপ করে দেয় তা না, এই বাজে অভ্যাসটিকেও নাছোড়বান্দা বানিয়ে দেয়। 

আপনার মদ্যপানের সমস্যাটি যদি স্থায়ী না করতে চান, তাহলে চিকিৎসকের সাথে খোলাখুলিভাবে এ নিয়ে কথা বলুন। চিকিৎসক খুব সহজেই আপনাকে এই সমস্যাটি থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করতে পারবে।

২। ধূমপান না ছাড়া- 

চিকিৎসক হয়তো আপনাকে আরও আগেই বলেছেন ধূমপান না করতে। অথচ, ধূমপান ছাড়তে পারেননি আপনি। এই তথ্য চিকিৎসক জানলে খানিকটা রেগে যাবে এটা সত্যি। হয়তো আপনাকে অনেকটা সময় চিকিৎসকের কথা শুনতে হতে পারে। তবুও চিকিৎসকের কাছে ব্যাপারটি গোপন করবেন না। কারণ, এতে করে চিকিৎসা কাজ না করতে পারে। আপনার শরীর ভালো না হতে পারে।

৩। ঘুমোতে না পারা- 

হয়তো আপনি ভাবছেন, ঘুম খুব ছোট একটি ব্যাপার। মানুষের ঘুম না আসতেই পারে। এটা নিয়ে চিকিৎসককে জানানোর কিছু নেই। বাস্তবে ঘুমোতে না পারা অনেক রোগের নিদর্শন হতে পারে। তাই চিকিৎসককে রোগ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে তাকে ঘুমের সমস্যার কথাও জানান।

৪। ওষুধ না খাওয়া-

হয়তো আপনি ওষুধ সেবন করতে ভুলে গিয়েছেন, কিংবা ওষুধ ইচ্ছে করেই খাচ্ছেন না। যে কারণেই ওষুধ সেবন করা বন্ধ করেন না কেন, চিকিৎসককে সেটা জানান। হতেই পারে যে, শরীর একটু ভালো হয়ে গিয়েছে বলে আপনি আর ওষুধ সেবন করছেন না। তবে, ব্যাপার যেটাই হোক, সেটা চিকিৎসককে খুলে বলুন।

৫। অন্ত্রের সমস্যা থাকা- 

ছোটবেলা থেকেই আমাদেরকে শেখানো হয় যে, মল ও মূত্র সম্পর্কে কথা বলাটা লজ্জাজনক। বিছানা ভিজিয়ে ফেললে সেটা নিয়ে কত হাসাহাসিই তো করা হয় বাচ্চাদের সাথে, তাই না? তাই না চাইলেও আমরা বড়বেলাতেও এই ব্যাপারগুলো লুকিয়ে রাখতে, গোপন করতে শিখে যাই।

অথচ, আপনার শারীরিক যেকোনো অসুস্থতার পেছনে বড় নিদর্শন হিসেবে কাজ করে এই জিনিসটি। তাই এ ব্যাপারেও চিকিৎসকের কাছে লুকোবেন না মোটেই।

৬। অবসাদবোধ করা-

আপনি হয়তো কোনো কারণ ছাড়াই বা অল্পতেই অনেক বেশি হতাশা, মানসিক ক্লান্তি, চাপ অনুভব করছেন। কেন এমনটা হচ্ছে? এমনিতে ব্যাপারটি নিয়ে আমরা খুব একটা পাত্তা না দিলেও এটি আপনার মানসিক সমস্যার কোনো কারণ হতে পারে। তাই, আপনি ঠিক কেমন বোধ করছেন তা চিকিৎসককে খুলে বলুন। 

৭। যৌনমিলনের সময় ব্যথাবোধ করা- 

এমনটা হতেই পারে যে আপনার যৌনমিলনের সময় যৌনাঙ্গে ব্যথাবোধ হচ্ছে। যৌনাঙ্গে আরও সমস্যা দেখা দিতে পারে। এগুলো প্রাথমিকভাবে চিকিৎসককে জানানোর মাধ্যমে কমিয়ে না আনলে পরবর্তীতে বড় সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই, যে সমস্যাই হোক না কেন সেটা জানান আর ব্যবস্থা নিন।

৮। অত্যাধিক ওষুধ সেবন করা-

আপনি কি অনেক বেশি ওষুধ সেবন করছেন? অনেক বেশি ওষুধ সেবন করলে সেটি আপনার শরীরকে পানিশূন্য করা থেকে শুরু করে নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। আপনি যখন কোনো চিকিৎসকের সাথে কথা বলবেন, তখন তাকে আপনার আগের সমস্ত ওষুধ সম্পর্কে জানান। হতেই পারে যে, এক্ষেত্রে আপনাকে নতুন ওষুধ নিতে হবে। 

সমস্যা লুকিয়ে যাওয়ার মধ্যে কোনো ইতিবাচক ব্যাপার নেই। বিশেষ করে চিকিৎসকের কাছে কোনো কথা লুকিয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক আর কিছু হয় না। তাই, চিকিৎসককে তথ্যগুলো খুলে বলুন এবং সঠিক চিকিৎসা নিন।

মূল লেখক- ডক্টর ওথেলো ডেভ, পার্কওয়ে হসপিটাল। 
 

স্বাস্থ্য-ভোগান্তি, নতুন পরিচিত অসুস্থতার কথা জানাতে অথবা চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ পেতেই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যার পরামর্শ দেবার প্রচেষ্টা থাকবে আমাদের।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড