• বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সিংহাসনে বসেন না জাপানের সম্রাট!

  ফিচার ডেস্ক

২৩ অক্টোবর ২০১৯, ১১:১৪
সম্রাট নারুহিতো
সম্রাট নারুহিতো; (ছবি- ইন্টারনেট)

একেক দেশে একেক নিয়ম মানা হয়। বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের মানুষদের মেনে চলতে হয় নির্দিষ্ট কিছু রীতিনীতি। সম্প্রতি জাপানের ১২৬তম সম্রাট হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন নারুহিতো। ২২ অক্টোবর (মঙ্গলবার) কিছু রীতিনীতি পালনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজসিংহাসনে আরোহণ করেন তিনি। 

কী রীতিনীতি মেনেছেন তিনি? কী কী মানতে হয় দেশটির সম্রাটকে? আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এএফপির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে জাপান সম্রাটের রাজ্যাভিষেকের কিছু অনুষঙ্গ। চলুন জেনে নিই সেগুলো কী- 

সোনালি রঙা বিশেষ সিংহাসন- 

জাপানের যে রাষ্ট্রীয় কক্ষে সম্রাট আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাকে ‘সেইদেন-মাৎসু-নো মা’ বলা হয়। এই কক্ষে ষড়ভুজ আকারের দুটি মঞ্চ থাকে। দর্শকদের অবস্থান থেকে বামদিকে যে মঞ্চ থাকে তার অবস্থান দ্বিতীয় মঞ্চের তুলনায় কিছুটা উঁচু। 

ষড়ভুজ আকারের বেদির ওপরই সম্রাট নারুহিতোর সিংহাসন, যার নাম ‘তাকামিকুরা’। এই সিংহাসনের উচ্চতা প্রায় সাড়ে ছয় মিটার। পাশে থাকা নিচু আসনটি সম্রাজ্ঞী মাসাকোর। এর নাম ‘মিচোডাল’। ওজনে প্রায় আট টন এই সিংহাসনটি। সোনালি বার্নিশ করা চিরহরিৎ বৃক্ষের কাঠ দিয়ে তৈরি এটি। এর ওপর থেকে ঝুলছে বেগুনি রঙা পর্দা। এগুলো সিংহাসনের পাঁচ খুঁটিতে বাঁধা।

পঞ্চভুজের মাথায় আছে সোনালি রঙের বিভিন্ন পাখির মূর্তি। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে রাজকীয় এই অনুষ্ঠানের সময় সিংহাসনে বসতেই পারেন না সম্রাট। তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। জাপানের প্রাচীন রাজধানী কিয়োটোর রাজপ্রাসাদে থাকে এই সিংহাসনটি। অনুষ্ঠানের জন্য সেখান থেকে একে টোকিওতে আনা হয়। অনুষ্ঠান শেষে আবার রেখে আসা হয় আগের স্থানে। 

সম্রাটের পোশাক ছিল যেমন- 

এই অনুষ্ঠানে ‘সোকুতাই’ নামের রাজকীয় পোশাক পরেছিলেন সম্রাট। সিল্কের এই বিশেষ পোশাক ও সাজসজ্জায় সম্রাটকে খুব কম দেখা যায়। এই পোশাকটি লম্বা, প্রশস্ত হাতা ও একটি চাঁচা কোমরযুক্ত বাদামি-স্বর্ণের রঙা। রাজকীয় এ পোশাকে পাখির প্রতিচিত্র থাকে। একে স্বর্গীয় দূত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সম্রাটের রাজকীয় পোশাকের গৌরব হলো ‘কানমুরি’ টুপি। এ পেছনে থাকে গাঢ় কালো রঙের লেজ, যা ৬০ সেন্টিমিটার (প্রায় ২৪ ইঞ্চি) উঁচু।

সম্রাজ্ঞীর পরনে ছিল ভারী পোশাক- 

রাজকীয় এ অনুষ্ঠানে সম্রাজ্ঞী মাসাকো পরেছিলেন ১২ স্তরের চাকচিক্যময় রাজকীয় কিমোনো। এই বিশেষ পোশাকের নাম ‘জুনিহিটোই’ (বহু স্তরযুক্ত পোশাক)। লাল হাতা ও বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের একাধিক স্তরের পোশাক এটি। এর শীর্ষ স্তরগুলোতে রয়েছে হালকা বেগুনি ও সবুজ রং। 

বিস্তৃত ঐতিহ্যবাহী এই পোশাক এতটাই ভারী যে তা পরে চলাচলে বেগ হতে হয়। আর তাই রাজকীয় অনুষ্ঠান ও বিবাহের বাইরে সম্রাজ্ঞীকে এই পোশাক খুব কমই পরতে দেখা যায়। মাসাকোর চুলের পেছন থেকে দীর্ঘ পনিটেল এবং তার কপালের ওপরে একটি বৃহৎ সোনালি চুলকোটা পিন্টেল দিয়ে প্রসারিত করে পাশের দিকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

সম্রাটের বৈধতার প্রমাণ ‘পবিত্র রত্নভাণ্ডার’- 

রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘পবিত্র ধনরত্ন’। এটি ছাড়া এই অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হয় না। জাপানি পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দুই সহস্রাব্দ পূর্বে সূর্যদেবী আমাতেরাসু রাজকীয়ভাবে এর ভার অর্পণ করেছিলেন। ভাণ্ডারগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘ইয়াতা নো কাগামি’ নামের একটি আয়না, ‘কুসানগি নো তসুরুগি’ নামের একটি তলোয়ার এবং ‘ইয়াসাকানি নো মাগাতামা’ নামের অগণিত রত্ন।

এই তিনটি ‘পবিত্র ধন’ সম্রাটের বৈধতার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এই জিনিসগুলোর কোনো ছবিও নেই। এমনকি সম্রাট কখনো এসব স্বচক্ষেও দেখেননি। ঐতিহ্যগতভাবে এগুলো কাপড়ে মুড়িয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আনা হয়।

ওডি/এনএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড