• বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আপনাকে কেউ পছন্দ করে না?

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

২০ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:০৯
ভয়
ছবি : প্রতীকী

কখনো কি এমন হয়েছে যে ঘরভর্তি মানুষ, তাদের সাথে আপনার কথা বলতে ইচ্ছে করছে, অথচ কথা বলতে পারছেন না? এই সময়ে আর কেউ না, একজন মানুষ নিজেই নিজেকে পেছন থেকে টেনে ধরে রাখেন। কারণ, তিনি ভয় পান যে, অন্য মানুষের সাথে কথা বলতে গেলেই কিছু নেতিবাচক কথা শুনতে হবে। মন খারাপ হবে। 

মানুষের জটলা যত বেশি হয়, এই ভয় উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে। অনেকগুলো মানুষকে কথা বলতে দেখলে তারা ভাবেন, হয়তো তাদেরকে নিয়েই কোনো নেতিবাচক কথা বলছে বাকিরা। খুব ভালো করে লক্ষ করতে থাকেন বাকিদের কথা বলার ভঙ্গী, সন্দেহ করেন। এতে করে দিনশেষে মানসিক অশান্তিতেও ভুগে থাকেন তারাই। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এমন হয়? এই ‘অন্যরা আমাকে খারাপ ভাবছে, আমাকে নিয়ে বাজে কথা বলছে’ ধরনের চিন্তা করা- ব্যাপারটি কিন্তু মোটেও স্বাভাবিক কোনো ব্যাপার নয়। এটি একরকমের মানসিক সমস্যা। 

সাধারণত-
হতাশা
নেতিবাচক সম্পর্ক
উদ্বিগ্নতা
বাইপোলার ডিজঅর্ডার
আত্মবিশ্বাসের অভাব
আগের বা বর্তমান সময়ে ঘটে যাওয়া কোনো বাজে ঘটনা

অন্যান্য মানসিক সমস্যা ইত্যাদি এমন মানসিকতার পেছনে কাজ করে। থেরাপি এবং সাধারণ কিছু চিকিৎসার মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব। কিন্তু এই পুরো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধৈর্য্য ধরে যাওয়াটা অত্যন্ত কঠিন কাজ। কী করবেন এই সময়? কীভাবে নিজের অনুভূতির সাথে মানাবেন? চলুন, জেনে নেওয়া যাক কার্যকরী কিছু কৌশল- 

আপনি যদি সারাক্ষণ ভাবতে থাকেন যে, চারপাশের মানুষ আপনাকে অপছন্দ করে এবং আপনার সমালোচনা করছে তাহলে এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়াটা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময় আপনি যে কাজগুলো করতে পারেন সেগুলো হলো-

অন্য মানুষটির ব্যাপারে জায়গা থেকে ভাবা- 

সাধারণত, অন্যদের সাথে যোগাযোগের সময় নেতিবাচকভাবে চিন্তা করেন যারা, তাদের ক্ষেত্রে কেউ হাসির উত্তরে না হাসলে, মেসেজের উত্তর না দিলে বা কম কথা বললে অন্য মানুষটির ব্যাপারে উল্টোপাল্টা চিন্তা করা শুরু করেন তারা। 

এছাড়াও, অন্যদের কথার ভেতরে লুকিয়ে থাকা অন্য অর্থও খুঁজে বের করতে অনেক চেষ্টা করেন। এমনটা আপনার সাথে না চাইতেও হয়ে থাকলে নিজেকে অন্য মানুষটির জায়গায় দাঁড় করিয়ে একটু ভাবুন। হতেই পারে যে, অন্য মানুষটির এমন ব্যবহার করার পেছনে যুক্তিযুক্ত কোনো কারণ ছিল। অন্যের দিক থেকে ব্যাপারগুলো আর কী কী কারণে হতে পারে সেটা চিন্তা করতে শুরু করলেই এই মানসিক সমস্যাটি দূর হয়ে যাবে।

আবেগ ছাড়া চিন্তা করুন- 

অনেকসময় আমরা শুধু আবেগের কারণেই অনেক যুক্তিকে তুচ্ছ করে ফেলি, ছোট কোনো ব্যাপারকে বড় করে দেখি। চেষ্টা করুন যখন কোনো কষ্টদায়ক ঘটনা ঘটবে তখন আবেগকে পাশে রেখে ভাবতে। এতে করে অন্য মানুষের যে কাজে আপনি কষ্ট পেয়েছেন সে কেন সেই কাজটি করেছে সেটা বুঝতে এবং পুরো ব্যাপারটিকে স্বাভাবিকভাবে দেখতে সহজ হবে। 

হয়তো আপনার অন্য দুইজন বন্ধু আপনাকে ছাড়াই দেখা করেছে। ব্যাপারটি আপনাকে কষ্ট দিতেই পারে। কিন্তু যদি এমন ভাবেন যে, তাদের হুট করে দেখা হয়ে গিয়েছে কিনা, তারা আপনি ব্যস্ত আছেন ভেবেছে কিনা ইত্যাদি, তাহলে ব্যাপারটি অনেক সহজ হয়ে যায়।

উপরের কৌশলগুলো খুব ছোট্ট এবং সহজ। তবে আপনি যদি মানুষকে ভয় পাওয়ার এবং মানুষের সাথে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করার ব্যাপারে ভয় পান ও সমস্যা বোধ করেন, সে ক্ষেত্রে উপরের দুটো কৌশল অবলম্বন করা আপনার জন্য প্রথমদিকে বেশ কষ্টকর হবে। 

বারবার হয়তো নিজেকে বোঝাতে হবে, সামলাতে হবে আপনার। তবে, কিছুদিন এই প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করলেই একটা সময় আপনি মানসিকভাবে অনেক ভালো বোধ করবেন। আর সবার সাথে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগও করতে পারবেন। 

সূত্র- মেডিকেল নিউজ টুডে।

ওডি/এনএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড