• সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দান করা মৃতদেহ দিয়ে কী করা হয়?

  ফিচার ডেস্ক

১০ আগস্ট ২০১৯, ০৯:০২
মৃতদেহ
ছবি : প্রতীকী

মানুষের মৃত্যু হওয়ার পর মৃতদেহকে সৎকার করা ধর্মীয় নিয়মানুসারে। কেউ কেউ অবশ্য মেডিকেল কিংবা বিভিন্ন গবেষণার কাজে মরণোত্তর নিজের দেহ দান করে যান। আবার অনেকে প্রিয়জনের মৃতদেহ দান করেন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার কাজে।  

এমনই এক ব্যক্তি নিজের মায়ের মৃতদেহ দান করেছিলেন আলঝেইমার্স রোগের গবেষণার জন্য। কিন্তু সেই কাজে শবটি ব্যবহৃত হয়নি। বরং তা ব্যবহৃত হয় বিস্ফোরক পরীক্ষা করার কাজে। গত সপ্তাহে আমেরিকার অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে একটি বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের বিরুদ্ধে করা মামলার বিস্তারিত প্রকাশ পাওয়ার পর জানা গেছে এসব তথ্য। 

২০১৪ সালে মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই এই সেন্টারটিতে অভিযান চালান এবং কয়েকশ মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পান। এই সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে তারা মৃতদেহ দানকারী ব্যক্তির ইচ্ছা অনুযায়ী সেগুলোকে ব্যবহার না করে অবৈধভাবে বিক্রি করে দেন। 

আদলতের কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, মৃতদেহ দানকারী পরিবারগুলোর দাবি, তারা চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণার কাজে মৃতদেহ দান করেছেন। এক মামলার বাদী জিম স্টফার জানান, তার মা আলঝেইমার্স রোগের চিকিৎসার গবেষণার জন্য মরণোত্তর দেহ দান করেছিলেন। কারণ তিনি আলঝেইমার্স রোগে ভুগছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে স্টফয়ার খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন আলঝেইমার্স রোগের গবেষণা কাজে নয়, তার মায়ের মৃতদেহ ব্যবহার করেছিল সেনাবাহিনী এবং তা বিস্ফোরকের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য। 

শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের হেলথ এন্ড হিউম্যান সার্ভিসেস বিভাগ নিয়ন্ত্রণ ও দেখভাল করলেও মৃতদেহ দান করার বিষয়টি দেখভালের কেউ নেই। আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে মৃতদেহ কেনা-বেচা করা অপরাধ। কিন্তু মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া, সংরক্ষণ করা, পরিবহন করা এবং ফেলে দেওয়ার জন্য কিছু যৌক্তিক অর্থ নেওয়া আইনসিদ্ধ কাজ। যদিও এই যৌক্তির অর্থের বিষয়টি এখনো ধোঁয়াশায় রয়ে গিয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর চিকিৎসা গবেষণায় জন্য কতটি মৃতদেহ দান করা হয় তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে ধারণা হয়, বছর প্রতি কয়েক হাজার মানুষ চিকিৎসা ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন কাজের জন্য মৃতদেহ দান করে থাকেন। তারা মনে করেন, গবেষণার কাজে এই মৃতদেহ ব্যবহার করা হবে। 

বিশেষত মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানবদেহের বিভিন্ন বিষয় শেখানোর ক্ষেত্রে এই মৃতদেহগুলো ব্যবহার করা হয়। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা স্বচ্ছ উপায়ে এ কাজটি করে থাকে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যানাটমিক্যাল সার্ভিসেসের এক কর্মকর্তা বলেন, মৃতদেহগুলো কোথায় যাচ্ছে সে বিষয় নির্ধারণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক্ষেত্রে যে নিয়মগুলো মানা হয় তা যথেষ্ট নয়। 

আইনের সুনির্দিষ্ট প্রয়োগের অভাবে দান করা মৃতদেহগুলো যে উদ্দেশ্যে দেওয়া হচ্ছে, সেটি পুরোপুরি পালন করা হচ্ছে না। অর্থাৎ শবদেহগুলোর অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

যেসব প্রতিষ্ঠান মৃতদেহ দান করা নিয়ে কাজ করেন তাদের সনদ দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব টিস্যু ব্যাংকস। যদিও এমন সনদ এক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়। উদাহরণস্বরূপ, অ্যারিজোনার যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মৃতদেহ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে তাদের কোনো সনদ ছিল না। অর্থাৎ তারা সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। 

মানুষকে আকৃষ্ট করতে এই প্রতিষ্ঠানটি বিনা খরচে মৃতদেহ নিয়ে আসা এবং সমাহিত করার ব্যবস্থা করে। এই বিষয়টি নিম্ন আয়ের মানুষদের বেশ আকৃষ্ট করে। 

পৃথিবীর অন্যান্য দেশে মৃতদেহ দান- 

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও অন্যান্য দেশে মৃতদেহ দানের প্রচলন রয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠান মৃতদেহ নিয়ে কাজ করে থাকেন। ২০০৭ সালে কাতারে চালু হয় কাতারের অ্যাসপিটার হাসপাতাল যারা শব নিয়ে কাজ করেন। ১২ বছর ধরে এই হাসপাতালটি চিকিৎসা গবেষণার জন্য মৃতদেহ আমদানি করছে। 

ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে হিউম্যান টিস্যু অথরিটি নামে একটি সংস্থা আছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা গবেষণার উদ্দেশ্যে মৃতদেহ দান করা হয় সেখানে ‘টিস্যু অথরিটি’ নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকি করতে যান। ব্রিটেনে এমন ১৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা দান করা মৃতদেহ গ্রহণ করে।

আবার অনেক দেশে ধর্মীয় কারণে এই মৃতদেহ দানের বিষয়টি বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকে। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে অঙ্গ-প্রতঙ্গ দানের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সামাজিক বিধিনিষেধ রয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় বায়োলজিক্যাল রিসার্চ সেন্টারে সম্প্রতি যে ঘটনা ঘটেছে তা মৃতদেহ দানকারী শিল্পে অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে। তারপরও চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে দান করা মৃতদেহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, মানবদেহকে একটি অমূল্য বিষয় বোঝানো হয়। 

এর আগে মৃতদেহ দান সংক্রান্ত আরেকটি ঘটনাও সবার নজরে আসে। সেটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভারের সুসান পর্টারের ঘটনা। ২০১৫ সালে এই বৃদ্ধ নারী তার মৃতদেহ দান করেন কলোরাডো ইউনিভার্সিটির ভিজিবল হিউম্যান প্রজেক্ট-এর ড. ভিক স্পিটজারের কাছে। মানবদেহকে ভার্চুয়াল নমুনায় রূপান্তরের কাজ করা হয় এই প্রোজেক্টের মাধ্যমে। 

সুসান পর্টারের মৃতদেহ কেটে ২৭০০০ টুকরায় বিভক্ত করা হয়। এরপর প্রতিটি টুকরোর ছবি নিয়ে সেগুলোর ভার্চুয়াল স্তূপ করা হয় এবং তার মাধ্যমে সুসানের শরীরের থ্রিডি ইমেজ তৈরি করা হয়। 

সূত্র- বিবিসি। 

ওডি/এনএম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪, ০১৯০৭৪৮৪৮০০ 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড