• শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ও বন্ধু আমার

  ডা. সাকিয়া হক

০৪ আগস্ট ২০১৯, ১৭:২৬
বন্ধুত্ব
এই স্কুটিতে করেই নেত্রকোনা পৌঁছেছিলাম চারজন। (ছবি : লেখক)

বন্ধুত্ব মানে কী? অনেকেই বলবেন বন্ধুত্ব মানে অনেক কিছু। একজন আরেকজনের সুখে পাশে থাকা, দুঃখেও সাথে থাকা। অনেক সেক্রিফাইস, অনেক কম্প্রোমাইজ, আরেকজনের সাফল্যেও ছোটখাট হিংসা বাদ দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়া। বন্ধুত্ব ঠিক এমনই। সবার জীবনেই বন্ধু থাকে। বন্ধু শব্দটার অনেক শক্তি। এই শক্তিতেই এক বন্ধুর বিপদে আরেকজন ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের অজান্তেই। সমস্যাকে নিজের মনে করে এগিয়ে আসতে জানে বন্ধুরাই। আমার বন্ধুরাও এক্ষেত্রে কম যায় না। আজ বন্ধু দিবসে আমার এক বন্ধুর আমার বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ার এক ঘটনা বলবো।

মানসী আর আমার বন্ধুত্ব দীর্ঘ ১৪ বছরের। শুরুটা একই স্কুল দিয়ে। তারপর একই কলেজ, একই মেডিকেল কলেজ। এখানেই শেষ না হলের একই রুমে, একই বেডে ছিলাম আমরা দুজন। এমন বন্ধুত্ব পেতে সৌভাগ্য লাগে। আমরা সত্যিই অনেক সৌভাগ্যবান। একসাথে থাকার ফলে আমার সব উদ্ভট আইডিয়ার সঙ্গীও মানসীই।

২০১৭ সালে হুট করে মাথায় এলো পুরো দেশটা ঘুরতে হবে। মানসীর সাথে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা মোটরসাইকেলে করে ভ্রমণের প্লান করি। তারপর তাকে নিয়েই শুরু করি যাত্রা। ২০১৯ সালে একসাথেই শেষ করি দুজন ৬৪ জেলা ভ্রমণ। এই দীর্ঘ যাত্রায় তার সাথে অসংখ্য দারুণ স্মৃতি জমা হয়ে আছে। আজ একটা বলতে চাই সবার কাছে।

স্কুটিতে চেপে আমরা তখন নেত্রকোনা পৌঁছেছি। একটা সেতুর অবস্থা এত খারাপ ছিল বলে বোঝানো যাবে না। সেতু দেখে আমাদের মুখে রা ওঠে না। তখনও আমরা জানতাম না সামনে কী অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। বেহাল অবস্থা সেতুর। আর রাস্তা তো নয় যেন কাদার সমুদ্র। এক পা সমান গভীর থকথকে পুডিং এর মতো কাদা। স্কুটার নিয়ে কোনভাবেই এগোনো যাচ্ছে না। শরীরের পুরো শক্তি দিয়ে সামনে যেতে হচ্ছে। আমার পেছনে সিলভী। মানসী আর অর্থী অন্য আরেকটা স্কুটিতে আমাদের পেছন পেছন আসছে। আমি অনেক ক্লান্ত হয়ে গেছি। হাত কাঁপছে আমার সামনে এগিয়ে যেতে। পেছনে অনেক ট্রাক-বাস। হুট করে থামবো সে উপায়ও নেই।

প্রায় ঘণ্টাখানেক বাদে শেষ হলো গজবের রাস্তা। অবশেষে একটা ভালো রাস্তায় উঠলাম। আরও ক্লান্ত হয়ে গেছি। হুট করে দেখি একগাদা বালু। মুহূর্তের মধ্যে আমি বুঝতে পারলাম বাইক স্লিপ করে দুর্ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। আমার মনে আছে, একটা হাত উপরে তুলে মানসীকে ইশারা করছি। মুহূর্তেই ও বুঝতে পেরেছিল আমি কী বলতে চাচ্ছি। আমি আর সিলভী যখন বাইক থেকে ছিটকে পড়লাম তখনই মানসী ওর বাইক রাস্তার মাঝে থামিয়ে দু হাত মেলে ট্রাক থামানোর জন্য দাঁড়িয়ে পড়লো।

যে ট্রাকটি ছুটে আসছিল দানবের গতিতে। সেটি আমাদের একদম কাছে এসে থামলো। আমি মাথা ঘুরে তাকিয়ে দেখলাম একবার। আর আকাশের দিকে মুখ ফিরালাম। বেঁচে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা। আমার মনে কেবলই একটি কথা বাজছিল আরেকটু সময় কী এভাবে শুয়ে থাকা যায়? একবার চোখ বন্ধ করে আবার খুললাম। ঝকঝকে নীল আকাশ। আহ! জীবন কত সুন্দর! একটা মুখ এসে আমার মুখের ওপর ঝুঁকে পড়লো। বাড়িয়ে দিল তার হাত। আমি হাত ধরলাম। আমার বন্ধুর হাত।

ওডি/এসএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড