• সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

শোকের মাস আগস্ট

  মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান তামিম, ডিসি প্রতিনিধি

০১ আগস্ট ২০১৯, ১৬:২২
আগস্ট
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (ছবি : সংগৃহীত)

আজ পহেলা আগস্ট। আগস্ট মানে বাঙালির শোকের মাস, বেদনার মাস, ব্যথার মাস। আগস্ট মানেই বাঙালি জাতির বেদনা বিধুর শোকের মাস। এই শোকের মাসেই বাঙালির স্বাধীনতার স্থপতির বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল স্বাধীন শ্যামল বাংলার মাটি।

এক বছর ঘুরে আবার এসেছে বাঙালি জাতির ইতিহাসে রক্তের কালিতে লেখা শোকাবহ আগস্ট। আজ বৃহস্পতিবার আগস্টের প্রথম দিন। বাঙালি জাতির জন্য যিনি স্বাধীনতার বিজয় কেতন আকাশে উড়িয়েছিলেন, তাকেই হত্যা করে তার আদর্শের পরিসমাপ্তি ঘটানোর মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার মাধ্যমে ইতিহাস কলঙ্কিত করতে চেয়েছিল হায়েনারা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করলেও হায়েনারা তাদের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বাঙালি জাতি ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে শোককে শক্তিতে পরিণত করার মাধ্যমে প্রতি মুহূর্তে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায় আগস্ট মাসের ১৫ তারিখ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কতিপয় বিপথগামী সেনাসদস্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে।

বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার বীজসূত্র বপন করার মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়ে তা বাস্তবে পরিণত করেছিলেন। আর এই স্বাধীনতার স্বপ্নপুরুষ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার মাধ্যমে বীর বাঙালির ইতিহাসে কলঙ্কিত এক অধ্যায় সূচিত হয়েছে এই আগস্ট মাসেই।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতি হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতাকে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট কালরাতে হায়েনারা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, ঘাতকদের নির্মমতার শিকার হতে হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগনে শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিণী আরজু মনি, কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ সদস্য ও আত্মীয়স্বজন। সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা দেশে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প।

ঘাতকরা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে তার আদর্শের পতন ঘটাতে, কিন্তু ঘাতকরা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। যে কাজটি বর্বর হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীও করার সাহস করেনি, সেটিই করল এই দেশের কিছু কুলাঙ্গার। স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি চক্রের ষড়যন্ত্রের শিকার হলেন স্বাধীনতা আন্দোলনের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গঠন করতে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন তখনই ঘটানো হয় এ নৃশংস ঘটনা। পরিসমাপ্তি ঘটে একটি ইতিহাসের। সে থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম বাংলার আকাশ-বাতাস ও মানুষের মন থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছে ষড়যন্ত্রকারী ঘাতকরা, যা কোনোদিন হয়নি, হবেও না। পৃথিবীতে বাঙালি জাতি যতদিন থাকবে ততদিনই থাকবে বঙ্গবন্ধুর নাম, তার কর্ম।

‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা

গৌরী মেঘনা বহমান 

ততকাল রবে কীর্তি তোমার 

শেখ মুজিবুর রহমান’

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, ত্যাগ, দূরদর্শিতা এবং অকুতোভয় আপোসহীন নেতৃত্বে দেশ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কবল থেকে দেশমাতৃকা মুক্ত হয়েছিল। বাঙালি জাতি পেয়েছিল হাজার বছরের আকাঙ্ক্ষিত প্রিয় স্বাধীনতা, স্বাধীন পতাকা, স্বাধীন মানচিত্র। বজ্রকণ্ঠে তিনি ডাক দিয়েছিলেন স্বাধীনতার। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে রক্তনদী পেরিয়ে অর্জিত হয়েছিল মহার্ঘ স্বাধীনতা। যে বিশাল হৃদয়ের মানুষকে কারাগারে বন্দী রেখেও স্পর্শ করার সাহস দেখাতে পারেনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, অথচ স্বাধীন বাংলার মাটিতেই তাকে নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়েছে।

শোকার্ত বাঙালি জাতি আগস্ট মাসজুড়ে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার সঙ্গে সঙ্গে স্মরণ করবে বাঙালি জাতির এই মহানায়ককে। ইতিহাসের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বাঙালি জাতি সে নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণার চেতনাকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে এ মাস।

ওডি/আরএআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড