• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

জেলখানার বন্দি : কে কয়েদি, কে হাজতি

  সৈয়দ মিজান

১৮ জুন ২০১৯, ১৩:৫৯
জেলখানা
ছবি : প্রতীকী

কারাগার, জেলখানা বা লাল দালান যে নামেই ডাকা হোক এর মধ্যে যাদেরকে রাখা হয় মোটেও এটি তাদের জন্য সুখকর স্থান নয়। কারাগারে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে বন্দি  করে রাখা হয়। কাগজে কলমে কারাগার বলতে বোঝায় এমন স্থান সাধারণ বা সরকারি নির্দেশে স্থায়ী বা সাময়িকভাবে ব্যবহৃত অবকাঠামো যেখানে বন্দিদের আবদ্ধ রাখা হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে কেন্দ্রীয় কারাগার, জেলা কারাগার ও বিশেষ কারাগার এই তিন ধরনের কারাগার রয়েছে। কারাগারে যাদের রাখা হয় তাদেরকে হাজতি এবং কয়েদি বলে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু এই ভিন্ন নামে ডাকা হয় কেন?

জেলখানায় বন্দিরা মূলত আসে হাজতি এবং কয়েদি হিসেবে। পরিচালনার সুবিধার্থে এইসব বন্দিদের কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। সিভিল বন্দি , মহিলা বন্দি , বিচারাধীন বন্দি , ২১ বছরের কম বয়সী পুরুষ বন্দি , কিশোর বন্দি এরকম হয়ে থাকে ভাগগুলো। তবে মূল ভাগ থাকে দুটিই। হাজতি এবং কয়েদি।

হাজতি :

হাজতি বলতে এমন বন্দিদের বোঝানো হয় যারা অপরাধী হিসেবে গ্রেফতার হয়েছে কিন্তু তাদের বিচার প্রক্রিয়া এখনো চলমান। যাদের বিচার কার্য শেষ হয়নি অর্থাৎ মামলার রায় হয়নি কিন্তু তারা বন্দি  হিসেবে জেলখানায় থাকে তারাই হাজতি হিসেবে গণ্য হয়। হাজতিরা জেলখানায় থাকলেও মামলা চলমান থাকায় তাদের নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজিরা দিতে হয়। হাজতি বন্দিদের দিয়ে সাধারণত কোনো কাজ করতে দেওয়া হয় না।

কয়েদি :

বিচার কার্য শেষ হয়ে যাদের মামলার রায় হয়ে গেছে তারাই কয়েদি বন্দি  হিসেবে গণ্য। অর্থাৎ যাদের আদালতের নির্দেশে সাজা হয়েছে তারাই কয়েদি। সাজাপ্রাপ্ত এইসব বন্দিদের জেলখানায় নানা রকম কাজ কাজ করতে দেওয়া হয়। শারিরীক যোগ্যতা এবং কাজের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী তাদের কাজ করতে দেওয়া হয়। নানা রকম হস্তশিল্পের কাজ থেকে শুরু করে পত্র লেখক, রাঁধুনি, ধোপা, নাপিত, বন্দিদের পাহারাদার এবং কারা হাসপাতালের রাইটারের মতো কাজও করতে দেওয়া হয় এইসব কয়েদিদের। কয়েদিদের বয়স এবং নামের আদ্যাক্ষর অনুযায়ী তাদেরকে আলাদা আলাদা ওয়ার্ডে রাখা হয়।

বন্দিদের খাবার :

হাজতি এবং কয়েদিদের আলাদা নামে ডাকা হলেও খাবারের ক্ষেত্রে দুই ধরনের বন্দিদের একই খাবার দেওয়া হয়। সরকার নির্ধারিতভাবে জেলখানার বন্দিদের দিনে তিন বেলাই খাবার দেওয়া হয়। গুড় এবং রুটি দিয়ে সকালের নাস্তা, দুপুর এবং রাতের খাবারে ভাতের সাথে থাকে মাছ অথবা মাংসের সাথে সবজি বা ডাল। তবে যারা প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণীর বন্দি হিসেবে জেলখানায় থাকে তাদের খাবারের মান একটু ভালো হয়ে থাকে।

জেলখানার ইতিহাস বলে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল শাস্তি প্রদানের জন্য। কিন্তু বর্তমানে একে সংশোধনাগার হিসেবেই ব্যবহার করা হয়। জেলখানায় অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি এখানে চিত্ত বিনোদন থেকে শুরু করে লাইব্রেরি, হাসপাতাল সবই রয়েছে। এছাড়া নানান কাজে প্রশিক্ষণ দিয়ে বন্দিদের পুনর্বাসনের চেষ্টাও করে থাকে জেলখানাগুলো।

ওডি/এসএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড