• বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

হাত নেই, পা দিয়েই জেসিকার বাজিমাত!

  ফিচার ডেস্ক

২৪ মে ২০১৯, ০৯:২৫
জেসিকা কক্স
জেসিকা কক্স; (ছবি- সম্পাদিত)

ইচ্ছাশক্তি নাকি মানুষকে অনেকদূর নিয়ে যায়, কেবল ইচ্ছা আর আত্মবিশ্বাসের জোরেই মানুষ অসাধ্য সাধন করে ফেলেন। এই কথাগুলোর এক জলজ্যান্ত উদাহরণ জেসিকা কক্স। কেন? বিমান চালক বলতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে এমন একজন ব্যক্তি যিনি নিজ হাতে সুদক্ষভাবে ওড়াচ্ছেন বিমান। জেসিকার বেলায় ব্যাপারটি ব্যক্তিক্রম। হাত নয়, পা দিয়েই বিমান চালান তিনি! 

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা জেসিকা কক্স। অন্যদের মতো দুই হাত নিয়ে এ পৃথিবীতে আসেননি তিনি। মাতৃগর্ভে থাকাকালীন সময়ে তার হাত বিকশিত হয়নি। কেন হয়নি সে কারণ এখনো রহস্যই রয়ে গেছে। তবে হাত না থাকা জেসিকার চলার পথে বাঁধা সৃষ্টি করতে পারেনি। নিজ উদ্যমেই তিনি এগিয়ে চলছেন প্রাপ্তির শিখরে। তার বিমান চালনা থেকেই ব্যাপারটি অনুমান করা যায়। 

জেসিকা বলেন, ‘অন্যান্য পাইলটরা যা হাত দিয়ে করে থাকেন, তা আমি পা দিয়েই করে থাকি।’

জন্মের পর জেসিকাকে দেখে প্রচণ্ড ধাক্কা খান জেসিকার বাবা-মা। এরপর যখন ডাক্তার জানান যে তাদের সন্তানের কোনো হাত নেই, তখন পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে পরেন তারা। 

তবে জেসিকার এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দমিয়ে রাখতে পারেনি তাকে। সব ধরনের বাধা অতিক্রম করে আজ সফলদের কাতারে এসেছে তিনি। অবশ্য নিজের সব কৃতিত্ব পরিবারকেই দিতে চান তিনি। জেসিকা বলেন, ‘আমার পরিবার আমাকে সাহস যুগিয়েছে। আমি যেন স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারি সেজন্য সব ধরনের সাহায্যই করেছে।’

বর্তমানে দক্ষতার সাথে পা দিয়েই বিমান চালিয়ে সবাইকে তাক লাগালেও, শৈশবে একবার বিমানে উঠে প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিলেন জেসিকা। সে সময় ছোট একটি বিমানে উঠেছিলেন তিনি। পাইলট তাকে নিয়ে যান বিমানের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে। তিনি কন্ট্রোল থেকে নিজের হাত সরিয়ে নিয়ে জেসিকাকেই বিমানটি চালাতে বলেন। সেই ঘটনায় পাল্টে দেয় জেসিকার জীবন। 

জেসিকা বলেন, ‘এমনকি কোনো জিনিস যদি আপনার কাছে ভীতিকর মনে হয়, তাহলে সেটার মোকাবিলা করাই গুরুত্বপূর্ণ হবে।’

২০০৫ সালে অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করার পর জেসিকা পাইলট হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। যদিও তার জন্য ব্যাপারটি এতটা সহজ ছিল না। এক্ষেত্রে একজন নিবেদিত বিমান প্রশিক্ষকের প্রয়োজন ছিল জেসিকার। বিমান চালানো শেখার জন্য অনেকের কাছেই তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এরপর নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য তিন বছর তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন।

কিন্তু শুধু প্রশিক্ষণ নিলেই তো হবে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তার উপযোগী সঠিক বিমান খুঁজে পাওয়া।  অবশেষে সেই বিমান খুঁজে পান জেসিকা। এটি ছিল এরকো এরকুপ নামক হাল্কা একটি স্পোর্টস বিমান। নিচু ডানার এই বিমানটি তৈরি করা হয় যুক্তরাষ্ট্রেই। 

২০০৮ সালে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এই এরকুপ বিমান চালানোর জন্য সার্টিফিকেট দেয় তাকে। এই ঘটনার পর জেসিকার মনে হয়েছে তার স্বপ্ন যেন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। তিনি জানান, অনেক উদ্বেগ ছিল, ছিল অনেক সন্দেহ। আদৌ এটা সম্ভব হবে কি না সে ব্যাপারেও প্রশ্ন ছিল। কিন্তু একাগ্র সাধনার কাছে হার মানতে বাধ্য হয় সব প্রতিবন্ধকতাই।

জেসিকা মনে করেন মানুষকে অনুপ্রাণিত করতেই জন্ম হয়েছে তার। তিনি জানান, আর দশজন সুস্থ স্বাভাবিক শিশুর মতই তার শৈশব কেটেছে। পড়ালেখা করেছেন স্কুলে। এর বাইরে অন্যান্য কর্মকাণ্ডেও অংশ নিয়েছেন। নাচ শিখেছেন, মার্শাল আর্টে দক্ষতা অর্জন করেছেন, শিখেছেন সাঁতার থেকে শুরু করে স্কাউটিংও। 

তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি অনেকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন। বিষয়টি তার কাছে একদমই অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। জেসিকা বলেন, ‘আমি একদম স্বাভাবিক মানুষের মতো হতে চাইতাম। কিন্তু প্রায়ই আমাকে বলা হতো, তুমি বিকলাঙ্গ তাই এটা করতে পারবে না, ওটা পারবে না। এই বিকলাঙ্গ শব্দটা শুনে আমি খুব বিরক্ত হতাম।’ 

কৃত্রিম হাত লাগানোর কথা বললেও রাজী হননি তিনি। এক্ষেত্রে তিনি কৃত্রিম হাতের বদলে নিজের পা দুটোকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন।

অবশ্য একজন পাইলটের পাশাপাশি জেসিকা কক্স  একজন সার্টিফিকেট পাওয়া ডুবুরিও। তায়েকোন্দোতেও  ব্ল্যাক বেল্ট পেয়েছেন তিনি। এছাড়া অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তা হিসেবে ২০টির বেশি দেশ ভ্রমণ করেছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী এই নারী। সবকিছু মিলিয়ে জেসিকা এক অনুপ্রেরণার নাম। 

ওডি/এনএম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড