• বুধবার, ২২ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

বইপ্রেমীদের জন্য 'বইয়ের শহর'

নাবিলা বুশরা  
১৬ মে ২০১৯, ১৩:৫৩

বইয়ের শহর
নরওয়ের মান্ডালার একটি বইয়ের দোকানের চিত্র (ছবি: ই-বুক ফ্রেন্ডলি)

আচ্ছা ভাবুন তো আপনি একটা নিরিবিলি শহরে রয়েছেন। সেটি আবার সাধারণ কোনো শহর নয়, বইয়ের শহর। আপনি যেদিকেই যাচ্ছেন দেখতে পাচ্ছেন শুধু বইয়ের দোকান। শহরের কোথাও কোনো কোলাহল নেই, ছুটোছুটি করে কেউ কাজে চলে যাচ্ছে না, এমনকি সেখানে যানবাহনের অতিরিক্ত শব্দও নেই। বরং সবার হাতে বই। যে যেখানে যেভাবে আছে বই পড়ছে, বই নিয়ে কথা বলছে। আবার বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় সে শহরে বই নিয়ে উৎসবও হচ্ছে। সেখানে আসছেন হাজার হাজার গ্রন্থানুরাগী।

কী অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন এমন নিরিবিলি একটা শহর পেলে কিন্তু মন্দ হত না! যতক্ষণ খুশি বই পড়া যায়, আবার খুঁজে পাওয়া যায় প্রচুর দুর্লভ বইও। কথাগুলো গল্পের মত শোনালেও এমন শহর কিন্তু সত্যিই আছে। এ শহরগুলোকে বলা হয় 'বইয়ের শহর'।

চলুন জেনে আসি এমন কিছু 'বইয়ের শহর' সম্পর্কে:

স্পেনের উরুয়েনা

স্পেনের মাদ্রিদের ক্যাস্টিলা ই লিওন অঞ্চলে অবস্থিত ছোট্ট একটি শহরের নাম উরুয়েনা। গত কয়েক বছরের মাঝে এই শহরটি পরিণত হয়েছে ‘ভিলা ডেল লিব্রো’ বা বইয়ের নগরীতে।

২০০জন অধিবাসীর এই শহরে রয়েছে ১২টি বইয়ের দোকান। অর্থাৎ প্রতি ১৬ জন মানুষের জন্য ১টি করে দোকান! এ সকল দোকানে পাওয়া যায় নানা ধরনের পুরনো আর দুর্লভ বই।

বইয়ের শহর

স্পেনের উরুয়েনার একটি বইয়ের দোকান (ছবি: ই-বুক ফ্রেন্ডলি)

২০০৭ সালে উরুয়েনাকে 'বইয়ের নগরী'তে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্পেনের 'বইয়ের শহর' বলতে এই শহরকেই জানা হয়।

এপ্রিলে বিশ্ব বই দিবসে এই শহরে প্রচুর মানুষের ভিড় হয়। এছাড়াও মার্চে উরুয়েনার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অনুষ্ঠিত হয় বই উৎসব। আর সেখানেও প্রচুর গ্রন্থানুরাগীরা আসেন।

শুধু বইয়ের জন্য নয়, এ শহর পরিচিত তাদের আদিম সময়ের জন্যেও। বারশ', তেরশ' সালের পুরনো পাথরের কাজ এখনো শোভা পায় এ শহরে।

ফ্রান্সের বিচরেল

ফ্রান্সের বিট্টলির বিচরেল এলাকাটি পরিচিত ফ্রান্সের 'বইয়ের নগরী' হিসেবে। ৭০০ জন অধিবাসীর এ শহরে বইয়ের দোকান আছে ১৫টি। শুধু বইয়ের দোকানই নয়, এখানে আছে আর্ট গ্যালারি আর বইয়ের ক্যাফে।

বইয়ের শহর

ফ্রান্সের বিচরেলের একটি বইয়ের দোকানের চিত্র (ছবি: ই-বুক ফ্রেন্ডলি)

বইয়ের এ শহরে বই উৎসব শুরু হয় ১৯৮৯ সালে। এরপর থেকে প্রতি বছরের বসন্তে ও ইস্টারের সময় এখানে নিয়মিত বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বইয়ের নগরী হওয়ার পাশাপাশি এখন শহরটি ঝুঁকেছে নিজেদের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য।

ওয়েলসের হে-অন-ওয়ে

পৃথিবীর সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে পুরনো বইয়ের নগরীর নাম হে-অন-ওয়ে। ১৯৬১ সালে রিচার্ড বুথ একে বিশ্বের সর্বপ্রথম বইয়ের শহরে পরিণত করেন এবং সেই সাথে এর নামকরণ করেন।