• বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

ভালোবাসার কল্পকাহিনী ঘেরা ফুল : ভুলো না আমায়

নিশীতা মিতু  
১০ মে ২০১৯, ১৫:২৭

ফরগেট মি নট
নীল রঙা ছোট্ট ফুল 'ফরগেট মি নট'; (ছবি : ইন্টারনেট)

নীল রঙা ছোট্ট ফুল, পাঁচ পাপড়ি তার। অনেকটা ঝোপের মতো হয়ে থাকতেই ভালোবাসে সে। গড়ন অনেকটা বাঙালি নারীদের পুরোনো কালের নাকফুলের মতো। এই ফুলের সৌন্দর্যে আপনি যতটা বিমোহিত হবেন, ঠিক ততটাই অবাক হবেন এর নাম শুনে। হ্যাঁ, নীল রঙের ছোট্ট এই মায়াবী ফুলের নাম ‘ফরগেট মি নট’। বাংলা ভাবানুবাদে যার অর্থ দাঁড়ায় ‘ভুলো না আমায়’।

নাম শুনেই যে কারোর কৌতূহল জন্মাবে এ ফুলকে নিয়ে। একটি বাক্যে ফুলের নাম যাতে লুকিয়ে রয়েছে আবেদন। কে বলেছিল, ভুলো না আমায়? কাকেই বা বলেছিল? সাধারণত প্রেমিক যুগলের একজন আরেকজনকে এমন কথা বলে থাকে। কিন্তু তার সঙ্গে এ ফুলের সম্পর্ক কী?

ছোট্ট এ ফুলকে ঘিরে বেশ কিছু মিথ বা কল্পকাহিনী প্রচলিত রয়েছে। জার্মান উপকথা অনুযায়ী বলা হয়, একদিন ঈশ্বর স্বর্গের বাগান ইডেনে হাঁটছিলেন। তিনি নীল রঙের একটি ফুল দেখতে পেলেন এবং তাকে তার নাম জিজ্ঞেস করলেন। ফুলটি ছিল ভীষণ লজ্জাবতী। সে লজ্জিত মুখে ফিস ফিস করে জানালো যে সে তার নাম ভুলে গেছে। ইশ্বর নতুন করে তার নাম দিলেন ‘ফরগেট মি নট’ এবং জানালেন যে তিনি ফুলটিকে কখনো ভুলবেন না।

ফরগেট মি নট

প্রচলিত রয়েছে, এক প্রেমিক তার প্রেমিকাকে নিয়ে নদীর পাড়ে ঘুরছিলেন। হঠাৎ দেখতে পেলেন, ছোট্ট এক আইসল্যান্ডে ফুটে রয়েছে একগুচ্ছ নীল ফুল। কিন্তু সেই আইসল্যান্ডের অবস্থান একদম নদীর মাঝ বরাবর।

প্রিয়তমাকে সে ফুল দিবে বলে তিনি সাঁতরে সেখানে গেলেন। বিপত্তি বাধলো ফুল নিয়ে ফেরার সময়। স্রোতের কবলে পড়লেন তিনি। ভেসে যেতে যেতেই প্রিয়তমার উদ্দেশে ছুঁড়ে দিলেন ফুল আর চিৎকার করে বললেন, 'Forget me not'।

প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে একগুচ্ছ ফুল ছিল প্রেমিকার কাছে। তিনি প্রিয়জনের দেওয়া ফুল জড়িয়ে নিলেন চুলে। মৃত্যুর আগ অব্দি চুল থেকে সে ফুল সরাননি তিনি। ভুলে যাননি প্রিয় মানুষটিকেও। আর এভাবেই ফুলগুলোকে চুলে জড়িয়ে একসময় মৃত্যু হয় তারও।

আরেকটি কল্পকাহিনী প্রচলিত রয়েছে যে একজন ভ্রমণকারী গুপ্তধনের খোঁজে বের হয়ে একদিন একগুচ্ছ নীল ফুল দেখতে পেলেন। এমন ফুল তিনি আগে কোনোদিন দেখেননি। তিনি ফুলগুলো হাতে তুলে নিলেন আর সঙ্গে সঙ্গে একটি পাহাড়ের গুহা খুলে গেল যা গুপ্তধনে পরিপূর্ণ।

তিনি অবাক হয়ে ফুলগুলো হাত থেকে ফেলে দেন। ফুলগুলো তখন বলে উঠে, ‘ভুলো না আমায়’। ফুলগুলোকে হাত থেকে ফেলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গুহার মুখ বন্ধ হয়ে গেল আর গুপ্তধন চিরতরে হারিয়ে গেল।

এইতো গেল নীল ফুলটিকে ঘিরে প্রচলিত কিছু কল্পকাহিনীর কথা। এবার চলুন ফুলটি সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাক-

‘ফরগেট মি নট’ ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Myosotis sylvatica। সাধারণত এক-দেড় ফুট উঁচু ঝোপ-গুল্ম। গাছের পাতাগুলো লম্বাটে ও কিছুটা রোমশ। ‘ফরগেট মি নট’ ফুল সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে নীল রঙের। নীল রঙের পাপড়িগুলোর মাঝ বরাবর থাকে সাদা রেখা। আর কেন্দ্রে কাল রং। তবে নীল ছাড়াও এ ফুল গোলাপি ও বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। ‘ফরগেট মি নট’ বসন্তকালীন ফুল হলেও হেমন্ত আর গ্রীষ্মেও ঝাড়ভর্তি এ ফুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত হন সবাই।

ফরগেট মি নট

এর নীল পাপড়িগুলো সংখ্যায় ৫ হওয়ায় দেখতে অনেকটা তারার মতো মনে হয়। আলাদা আলদাভাবে পাপড়িগুলো প্রত্যেকটি ইঁদুরের কানের মতো আকৃতির। সম্ভবত এ কারণেই এ ফুলের আরেকটি নাম মায়োসোটিস (myositis)। এটি একটি গ্রীক শব্দ যার অর্থ ‘ইঁদুরের কান’।

দেখতে সুন্দর হলেও ‘ফরগেট মি নট’ ফুলটি বিষাক্ত। এটি ‘স্করপিয়ন গ্রাস’ নামেও পরিচিত। কেউ দীর্ঘ সময় এটি খেলে যকৃতের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নামের ওপর ভিত্তি করে ভিক্টোরিয়ান যুগে এই ফুলটিকে সত্যিকারের ভালোবাসার প্রতীক ধরা হতো। এছাড়াও কিছু সুখস্মৃতি যা একজন মানুষ ভুলতে চান না কিংবা স্মৃতিতে অম্লান করে রাখে তার সঙ্গে যুক্ত এই ফুলটি।

ভুলো না আমায় কিংবা ‘ফরগেট মি নট’ ফুলের নামের উৎপত্তি থেকে শুরু করে ব্যবহার সবটা জুড়ে স্থান করে আছে ভালোবাসা। এখনো অনেকে মনে করেন কোনো যুগল যদি এ ফুলের মালা পরেন তবে তাকে কখনো তার ভালোবাসার মানুষ ভুলবে না।

কেবল ভালোবাসা নয়, চিকিৎসা জগতেও কিন্তু ‘ফরগেট মি নট’ ফুলটির ব্যবহার রয়েছে। এর শেকড়, পাতা ও ফুল নাক দিয়ে রক্ত পড়া সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও শ্বাসযন্ত্রের নানা ব্যাধিতেও এর ব্যবহার দেখা যায়। তবে এ গাছটি বিষাক্ত হওয়ায় কখনো খাওয়া যায় না। প্রয়োজনে এর নির্যাস ব্যবহার করা হয়।

কী অদ্ভুত তাই না? ছোট্ট একটি ফুলকে ঘিরে রয়েছে কত কল্পকাহিনী। আপনি কি কখনো এ ফুল দেখেছেন?

তথ্যসূত্র- আন্টিফ্লো.কম

ওডি/এনএম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড