• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আপনার পাশের মানুষটি নার্সিসিস্ট নন তো?

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

০৯ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:১০
নার্সিসিস্ট
ছবি : প্রতীকী

নার্সিসিস্ট- শব্দটির সাথে আপনি হয়তো পরিচিত। কিন্তু আপনার পাশের মানুষটিই একজন নার্সিসিস্ট কিনা তা কি আপনি জানেন? নিজেকে আমরা সবাই ভালোবাসি। কিন্তু না জেনেও অনেক সময় এই ভালোবাসার ব্যাপারটা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায়। আমরা হয়ে পড়ি নার্সাসিস্ট। কীভাবে চিনবেন পাশেই বসে থাকা একজন নার্সিসিস্টকে? চলুন না, দেখে নেওয়া যাক- 
    
১। ভালো, নাকি মন্দ?

একজন নার্সিসিস্ট ভালো ও মন্দ, উন্নত ও অনুন্নত- এই ব্যাপারগুলোকে খুব স্পষ্টভাবে ভাবতে ভালোবাসেন। তার কাছে সবকিছুই এভাবেই বিভাজিত হয় এবং তিনি সবসময় সেরা। একজন নার্সিসিস্ট নিজেকে সবসময় প্রথম, সঠিক এবং সেরা বলে মনে করেন। 

মজার ব্যাপার হলো, কখনো কখনো খুব খারাপ অবস্থায় থেকেও নিজেকে সবচাইতে সুখী হিসেবে ভেবে নিতে পারেন এই ব্যক্তিরা। সবকিছুকে নিজের মতো নিয়ন্ত্রণ করা, নিজে যা ভালো বুঝছেন সেটাকেই ঠিক মনে করা- এই ব্যাপারগুলোও নার্সিসিস্টের ভেতরে বেশি দেখা যায়।

২। ‘আমার দিকে মনোযোগ দাও’- 

প্রতিটি নার্সিসিস্টের প্রচুর ভালোবাসা, আকর্ষণ ও মনোযোগের দরকার পড়ে। আপনি তাকে যতো বেশি মনোযোগ দিন বা ভালো কথা বলুন না কেন, তার কাছে সেটা যথেষ্ট বলে মনে হবে না। সে সবসময় কাউকে কিছু করতে বলবে, তার সম্পর্কে প্রশংসা শুনতে চাইবে। নিজের ব্যাপারে কথা বলতে চাইবে। অন্যদের প্রশংসা ও মনোযোগ তাদের একটু বেশিই প্রয়োজন হয়।

৩। সবকিছু ‘পারফেক্ট’ হতে হবে- 

একজন নার্সিসিস্টের জন্য আপনাকে একদম খুঁতহীন হতে হবে, আপনার কাজ, তার জীবন, চারপাশের সবকিছুই নিখুঁত হতে হবে। যেটা কিনা জীবনের সবসময় সম্ভব হয় না। আর এই কোনোকিছু নিখুঁত না হওয়ার হতাশায় ভোগেন এবং বেশি অভিযোগও করেন নার্সিসিস্টরাই বেশি। 

৪। নিয়ন্ত্রণ দরকার পড়ে- 

নার্সিসিস্টদের প্রত্যেকটি জিনিসের উপরে নিয়ন্ত্রণ দরকার পড়ে। কারণ, নিজেদের চাহিদামাফিক সবকিছু নিখুঁত পায় না তারা। আর তাই এই হতাশা থেকেই সবকিছুতে এগিয়ে থাকার, নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে তারা। অনেকসময় নিজেরা কী করতে চাচ্ছে তা জেনেও এগিয়ে যায় তারা দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। 

৫। অন্যকে দোষ দেওয়া- 

নার্সিসিস্টরা যেহেতু সবসময় পারফেক্ট হতে চায়, তাই নিজের নিয়ন্ত্রণে নিলেও যখন কোনো কাজ নিখুঁত হয় না বা ঠিকঠাক ফলাফল পাওয়া যায় না, সেটার দায়ভার তারা সবসময় অন্যের কাঁধে দিয়ে দেয়। সমালোচনা একেবারেই সহ্য করতে পারে না তারা। তাই অন্যকে সব দোষ দিয়ে দেওয়ার অসম্ভব ভালো প্রতিভা তাদের মধ্যে দেখা যায়!

৬। সবাইকে এক মনে করা- 

আপনি হয়তো জানেন যে, একেকজন মানুষ একেকরকম ভাববে। কিন্তু নার্সিসিস্টদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি অন্যরকম হয়। তারা মনে করে, তাদের মতো করেই অন্যরা ভাবে। তাই, একদম বাচ্চাদের মতো কোনো সীমানা না রেখেই যেকোনো কাজ করে ফেলে তারা। 

৭। অন্যকে প্রাধান্য না দেওয়া- 

নার্সিসিস্টরা সবসময় আশা করে আপনি তাদের প্রশংসা করুন, তাদের রাগ বা খারাপ লাগা বুঝে ফেলুন। কিন্তু যখন আপনি তাদের কাছ থেকে একই ব্যবহার আশা করবেন, তখন আর সেটা তারা আপনাকে দিবে না। নিজেদের ব্যাপার ছাড়া অন্যদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া সম্পর্কে খুব একটা গুরুত্বসহকারে দেখে না একজন নার্সিসিস্ট। 

৮। সঠিক কিছু বুঝতে না পারা- 

আপনি হয়তো আপনার পরিচিত একজন নার্সিসিস্টকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে তার ব্যবহারে আপনি কত কষ্ট পেয়েছেন। ভাবছেন, সে বুঝবে একটা সময়। বাস্তবে, অনেকসময় এই মানুষগুলো আপনার কথা বুঝেছে বললেও, বাস্তবে তারা কখনোই সেটা মেনে নেবে না। 

একজন নার্সিসিস্টকে খুব খারাপ কেউ বলে মনে হচ্ছে? বাস্তবে তারা মনে মনে ভয় পান আঘাত পাওয়ার। নিজেকে নিয়ে সবসময় একটা খারাপ লাগা কাজ করে তাদের ভেতরে। তবে আপনার দলে যদি এমন কেউ থেকে থাকে, তাহলে সেটা আপনার ও আপনার দলের সামগ্রিক ফলাফলের উপরে বাজে প্রভাব ফেলতে পারে। 

তাই, একজন নার্সিসিস্টকে বুঝুন এবং তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে তাকে মানসিকভাবে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করুন!

মূল লেখক- মার্গালিস জেলস্টেড, পিএইচ ডি, এমএলএফটি। 

ওডি/এনএম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড