• বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেইস্টের ২য় আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত 

  ফিচার ডেস্ক

১৬ আগস্ট ২০২২, ১২:৩৩
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেইস্টের ২য় আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেইস্টের ২য় আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত 

সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল ট্রান্সফরমেশন (সেইস্ট) এর ২য় আন্তর্জাতিক সম্মেলন, গত শনিবার (১৩ আগস্ট, ২০২২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক জিয়া রহমান, সেশন চেয়ার ছিলেন সেইস্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও এসইল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আব্দুল আউয়াল। এছাড়াও সম্মেলনের আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরব আমিরাতে জায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও, সেইস্ট ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা প্রফেসর হাবিবুল হক খন্দকার এবং সেইস্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা রোগতত্তবিদ জুয়েল রানা ।

স্বাগত বক্তব্যে ড. হাবিবুল হক খন্দকার বলেন, "সম্মেলন হলো আইডিয়া বিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম এবং জ্ঞান অর্জন করার জন্য দুর্দান্ত একটি উদ্যোগ; সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গন ও অঞ্চলের পণ্ডিত ব্যক্তিদের একত্র হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।।" তিনি তরুণদের তিনটি 'R' এর উপর জোর দিতে বলেন: সম্মান (respect), দায়িত্ব (responsibility) ও পাঠক (reader)। তিনি আরও বলেন, "আমাদের সত্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। বর্তমানে আমরা পপুলিজমের উত্থান লক্ষ্য করছি, ফলে বিভিন্ন মিডিয়া ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, যার সাথে সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই।" নৈতিক দায়িত্ববোধের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন ভালো গবেষককে অবশ্যই ভালো পাঠক হতে হবে বলে পরামর্শ দেন।

অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং সামাজিক বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য বিষয়ে সমাজে শিক্ষার প্রসারে অবদান রাখার জন্য সেইস্টের প্রশংসা করেন। তিনি সেইস্ট থেকে প্রকাশিত "South Asian Journal of Social Sciences" শিরোনামের গবেষণাপত্রেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন।

ড. মোঃ আব্দুল আউয়াল এই ধরনের একটি সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, "আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে এবং যার কারণে আমরা বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়েও পিছিয়ে আছি, তাই আমাদের দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের গবেষণা কার্য চালিয়ে যেতে হবে।”

সম্মেলনটি তিনটি ভিন্ন সেশনে বিভক্ত ছিলঃ পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন'; শিক্ষার প্রবেশাধিকার ও টেকসই উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য ও টেকসই উন্নয়ন।

“Look Who’s Asking—Reflections on Participatory and Transdisciplinary Research Approaches in Addressing Challenges around Climate Change and Sustainable Development” শিরোনামের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও সেন্টার ফর সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট এর পরিচালক ড. সামিয়া সেলিম। অধিবেশনে দুটি পৃথক সেশনে মোট ১৬টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়, যেখানে আর্সেনিক, ডায়াবেটিস, সবুজ আবাসন, নারী স্বাস্থ্য, আল্ট্রা-গ্লোবাল ক্যাসিনো, মেসোস্ফেরিক অণুজীব, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্রতাসহ অন্যান্য বিষয়ের উপর গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।

"শিক্ষার প্রবেশাধিকার এবং টেকসই উন্নয়ন" শিরোনামে দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এর পরিকল্পনা পরিচালক প্রফেসর আ ক ম শফিউল আজম। তিনি একবিংশ শতাব্দীতে বাংলাদেশের উন্নয়নে মাধ্যমিক শিক্ষার পুনর্নির্মাণের উপর জোর দেন। দুটি পৃথক সেশনে মোট ১২টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয় যেখানে ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, নারী ও শিশু শিক্ষা, সাইবার অপরাধ, মাতৃভাষা ইত্যাদি বিষয়ের উপর গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।

"স্বাস্থ্য ও টেকসই উন্নয়ন" শিরোনামে তৃতীয় অধিবেশন শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ব্র‍্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চেয়ারপারসন ড. মুশতাক চৌধুরীর । তিনি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের অগ্রগতি ও ভবিষ্যত সম্পর্কে বক্তব্য দেন। পূর্বের মতো দুটি পৃথক সেশনে মোট ১৩টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয় যেখানে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা, করোনা মহামারী, মানসিক স্বাস্থ্য, নারী স্বাস্থ্য, নারীর অপুষ্টিজনিত সমস্যা ইত্যাদি বিষয়ের উপর গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। গবেষণাপত্র উপস্থাপনের পাশাপাশি সর্বশেষ সেশনে প্রতিযোগিদের পোস্টার প্রদর্শন করা হয়।

সম্মেলনটি শেষ হয় পুরস্কার বিতরণীর পর্বের মাধ্যমে। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাজিদা ফাউন্ডেশনের সিইও জনাব জাহিদা ফিজা কবির। শেষে অধ্যাপক হাবিবুল হক খন্দকার তাঁর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সেইস্ট দ্বারা আয়োজিত এ সম্মেলনের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছে আইডিআরসি কানাডা, কাঠমুন্ডু বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউশিকাগো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদ এবং দি স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারস লিমিটেড। উল্লেখ্য, সেইস্ট ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল ট্রান্সফরমেশন (সেইস্ট), ঢাকা্য় অবস্থিত একটি অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। দক্ষিণ এশিয়া-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক হিসাবে স্বীকৃত এ প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জলবায়ু সমস্যা এবং সম্ভাব্য সমাধানের জন্য জ্ঞান উৎপাদন করে।

“এনভিশনিং আওয়ার কমন ফিউচার” শীর্ষক সেইস্ট এর প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালে। এরই ধারাবাহিকতায় এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে মহামারী পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সেইস্ট আয়োজন করেছে এ বছরের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এতে অংশগ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের ২ শতাধিক বিজ্ঞানী ও গবেষক।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড