• বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্রত্যাশা ও সম্ভাবনায় এবারের ইদ 

  ডিআইইউ প্রতিনিধি

০২ মে ২০২২, ১১:৫৩
ডিআইইউ
ডিআইইউ এর শিক্ষার্থীরা (ছবি : সংগৃহীত)

দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনা শেষে ইদুল ফিতরের দিনটি প্রতিটি মুসলিম পরিবারের জন্যই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কোভিড-১৯ ধরণীতে আঘাত করার পরই আমাদের চেনা জীবনের সঙ্গে সঙ্গে উৎসব উদ্যাপনের ধরনেও আসে ব্যাপক পরিবর্তন। যার প্রভাব পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ইদ আনন্দের উপরও। করোনা প্রতিকূলতাকে অতিক্রমে এবারের ইদে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার কথা জানাচ্ছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রতিনিধি কাজী ফিরোজ আহাম্মদ।

প্রত্যাশাগুলো পূরণ হোক

চীন থেকে উদ্ভুত এক ভাইরাস যা মূহুর্তেই পুরো বিশ্ব দরবারকে থমকে দিয়েছে। ২০১৯ এর শেষের দিকে করোনার আগমন, যার প্রভাব এখনো বিদ্যমান। শেষ দুই বছর মানুষের জীবন যাত্রার মান অনেকটা সংকটমুখী। জীবনের সাথে অপ্রতিরোধ্য যুদ্ধে দিন কেটে যাচ্ছে কিছু মধ্যবিত্ত পরিবারের। করোনার শুরুতে অনেকে হারিয়েছেন তার চাকরি। বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আয়ের উৎস। পরিবার নিয়ে সংকটে হাজারো মানুষ।

অনেকেই বাড়ি ভাড়ার সাথে সংসার চালাতে হিম শিমখেয়ে যাচ্ছিলেন, কারণ দুনিয়া আর সাধারণ জীবন যাপনের মাঝে প্রাচীর তুলে দাঁড়িয়েছে করোনা নামক অভিশপ্ত মহামারি। আবার অনেককে তাদের কষ্টের সঞ্চয় ভেঙ্গে দুমুঠো খাবার জোগাতেও বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তখনকার এই জীবন যাত্রার সঙ্গে ইদ ছিল বিলাসিতা।

বিশ্বের সকল মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব হল ইদুল ফিতরের আর ইদুল আজহা। দীর্ঘ একমাস সাওয়াম পালনের পর ইদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। শেষ দুই বছরের ইদ সকালে কাছে বিলাসিতা হলেও এই বছর একটু ভিন্ন। যেখানে দৈনন্দিন চাহিদা দরজায় কড়া নাড়ছে সেখানে ইদের বিলাসিতা স্বপ্ন ছোয়া। চাকরির হারিয়ে, ব্যবসায় লোকসান নিয়ে জীবন থমকে যাবার অবস্থা প্রায়। কষ্ট করে যারা একটু সুখের মুখ দেখতে চেয়েছিলেন তাদের অবস্থা দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মত। অনেকেই গ্রামমুখী হয়ে পরেন কারণ তারা নিরুপায়। আল্লাহর অশেষ রহমতে বিশ্ব আজ মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। থমকে যাওয়া কালো মেঘ একপশলা বৃষ্টিতে আগের মত আলো ফিরিয়ে দিয়েছে।

পুরো বিশ্ব আজ ঘুরে দাড়িয়েছে। মানুষ ফিরে পেয়েছে তাদের আয়ের উৎস। উন্নতির দিকে জীবনযাত্রা, পৃথিবী এখন জয়ের হাসি হাসছে, সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে মানুষ নামক এক সৃষ্টি। আশা করা যায় এই বারের ইদ গত দুই ইদের চেয়ে ভালো কাটবে। পুরণ হবে সকলের আবদার। আনন্দ নিয়ে পরিবারের কাছে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরবে। ইদের আমেজে চারদিক গমগম করছে। সবার মুখে হাসি। পৃথিবী আবার আপন হাসিতে মাতিয়ে রেখেছে সকলকে। ইদ মানে খুশি ইদ মানে আনন্দ। সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ইদের আনন্দে নতুন করে সকল সম্পর্কের আবির্ভাব হোক। সকলকে ইদের শুভেচ্ছা এবং আগামী দিনের জন্য শুভকামনা।

হুমায়রা আনজুম

সিএসই বিভাগ

শ্রেণিবৈষম্য দূরে যাক

বাংলাদেশের মানুষের কাছে ইদ একমাত্র উৎসব যেটা প্রতিটি শ্রেণির মানুষ তার নিজস্ব আঙ্গিকে আনন্দের সঙ্গে উদ্যাপন করে থাকে। পাড়ার সবচেয়ে অসহায় পরিবারের ছেলেটিও একটি লাল টুকটুকে শার্টে আর ইদের সকালের সেমাইয়ের মাধ্যমে ইদের পুরো আনন্দ উপভোগ করে। আমার কাছে ইদের সবচেয়ে আনন্দের মূহূর্তটা এখানেই। শ্রেণিবৈষম্য দূরে ঠেলে ঈদের নামাজ শেষে প্রতিটি মুসলমানের কোলাকুলির দৃশ্য পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর মুহূর্ত।

মেহেদী হাসান কাওসার

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ

সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিতে চাই

রমজানের কঠোর সিয়াম সাধনা শেষে ইদুল ফিতর নিয়ে আসে আনন্দ বার্তা। রিপুর তাড়নায় মানুষ সারাবছর অন্যায়, অবিচার, পাপাচারে লিপ্ত থাকে, রমজানের রোজা পালনের মধ্যদিয়ে সে পরিশুদ্ধি লাভ করে। ইদের আনন্দ ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, এটি সামাজিক উৎসব। সবার মাঝে আনন্দ ভাগ করে দেয়া। সবার সঙ্গে শেয়ার করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে ইদ-উৎসবের বৈশিষ্ট্য।

রোজা পালনের মাধ্যমে আর্ত-পীড়িত-বুভুক্ষু মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করা যায়। ইদ-উৎসবে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়াকে রমজান মাসের শিক্ষা বলা যায়। আমাদের প্রত্যেকে বছরের এ একটি মাস রমজানের রোজাগুলো সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে স্রষ্টার নৈকট্য লাভের প্রত্যাশা করি। তাছাড়া ইদ উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর নেওয়া, গরিব-দুঃখীদের কিছু আর্থিক সহায়তা দানের মাধ্যমে আমরা সকলেই সুখ-দুঃখকে ভাগাভাগি করে নিতে পারি।

তানজিম খান

সিএসই বিভাগ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড