• সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১৩ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সংগ্রামী মায়েদের কাছে হেরে যায় আমাদের কুৎসিত সমাজ

  নাইমা

৩০ মার্চ ২০২২, ১৯:৫৮
নাইমা

নারীরা অনেক পরিশ্রমী। সে কর্মজীবী নারী হোক আর গৃহিণী। আর সেই নারীর জীবনে যদি সন্তানদের উপস্থিতি থাকে তাহলে তার পরিশ্রমটা দ্বিগুণ হয়ে যায়। সেই সব কঠোর পরিশ্রমী নারীদের শ্রদ্ধা জানাই যারা নিজেরাই শক্তি এবং সাহসের সাথে বাচ্চাদের লালন-পালনের‌ মত ভারী কাজ করেন। আর single মায়েদের জন্য তো এটা রীতিমত একটা যুদ্ধ। পছন্দ বা পরিস্থিতিতে পড়েই হোক না কেন। একক মাতৃত্ব সম্পর্কে আমাদের সমাজে অনেক বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে৷ কিন্তু সব কিছুর উর্ধ্বে মাতৃত্বের শক্তি, আর তা প্রাকৃতিক নিয়মের চেয়ে বেশি।

কঠোর পরিশ্রমী, ভালোবাসায় পূর্ণ এবং, নিজেকে উৎসর্গকারী একক মায়েরা এক বিশেষ ধরনের সুপারহিরো। আপনার মা সবসময়ই আপনার জন্য নিজের সমস্ত সুখ ত্যাগ করতে পিছপা হবে না। প্রতিটি পদক্ষেপে আপনি তাকে কাছে পাবেন। কোন অবস্থাতেই সে আপনাকে একা রেখে যাবে না। কঠিন থেকে কঠিন সময়েও সে কখনই হাল ছেড়ে দেয় না। তিনি তার পরিবারকে বিশ্বাস করে, এমনকি যখন খারাপ কিছু হয় তখনও তিনি জানেন যে সর্বোপরি, একজন মায়ের ভালোবাসাই যথেষ্ঠ। জীবন মানেই ভুল করা এবং শেখা। এটি সুখী, নিখুঁত মুহূর্ত এবং অপূর্ণ মুহূর্তগুলি সম্পর্কেও। আপনার সন্তানরা আপনার প্রচেষ্টা দেখবে, তারা আপনাকে দুর্দান্ত কিছু করতে দেখবে এবং তারা আপনাকে মাঝে মাঝে ব্যর্থ হতেও দেখবে। এভাবেই তারা শিখবে যে জীবন নিখুঁত এবং ব্যর্থতার মিশ্রণ। একজন সিঙ্গেল মায়ের জীবন অনেক সংগ্রামী। তার যুদ্ধ করতে হয় এই সমাজের বিরুদ্ধে, পরিবারের বিরুদ্ধে। তাকে সহ্য করতে হয় অসহ্য সব গঞ্জনা। তবু সে কখনো পরাজয় শিকার করে না। তার শক্তি তার মনোবল তার সন্তানরা। সে তাদের সুখ আর ভবিষ্যতের জন্য সব বাধা ভেঙ্গে সামনে এগিয়ে যায়। একক মায়েরা সমাজের কাছে যতটা না অবহেলিত তার থেকে বেশি তার নিজের কাছের মানুষদের দ্বারা অবহেলিত, লাঞ্ছিত। এক দিকে সমাজ, পরিবার, আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধব, অন্য দিকে তার সন্তানের ভবিষ্যৎ ভাবনা। একদিকে দিনের পর দিন সবার গঞ্জনা সহ্য করা, অপর দিকে সন্তানদের সুন্দর স্বাভাবিক একটা জীবনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাওয়া। আমাদের সমাজে একক মায়েদের কিভাবে দেখা হয় আমরা মোটামুটি সবাই জানি। সে কি পরলো, কোথায় গেল, কার সাথে গেল, কত রাতে বাড়ি আসলো সব কিছু নিয়েই সমস্যা সবার। তার বিপদে কিন্তু কেউ খোঁজও নিবে না। সবার ধারণা না চাওয়া জানি না কিন্তু একক মায়েরা কারো সাথে নতুন করে সংসার বাঁধার স্বপ্নও দেখতে পারে না। তাদের অনেক ভালো বন্ধু হওয়া যাবে, ভালোবাসার নামে সখ্যতা গড়ে তোলা যাবে কিন্তু তাদের জীবন সঙ্গী বানানো যাবে না। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি অনেক। তোমার সুখে দুঃখে সব সময় তোমার পাশে থাকব। তোমার সন্তানরা আমারও দায়িত্ব। চিন্তা কোরো না।.... সত্যি তো? বিয়ে করবে আমাকে? জীবন সঙ্গীনী হিসেবে মেনে নেবে? পারবে সমাজ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে আমাকে সেই সম্মানের জায়গা দিতে? পারবে আমার সন্তানকে আপন করে নিতে?............ আহ না মানে বাসায় মেনে নিবে না। সমাজ মেনে নিবে না। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি কিন্তু পরিবারের বিপক্ষে আমি যেতে পারব না। তাহলে ভালোবাসার সময় সমাজ কোথায় ছিল। ভালো বন্ধু হবার সময় কি সমাজের অনুমতি নিতে হয়নি? একান্তে সময় কাটানোর সময় কি পরিবারের সম্মতি নিতে হয়নি?..... সর্বদা এমন কেন? কেন ভাবা হবে একক মা সহজলভ্য অনেক। তার সাথে হাত ধরে ঘোরা যাবে। তার সাথে একান্তে সময় কাটানো যাবে। কিন্তু তাকে জীবন সঙ্গীনীর মর্যাদা দেয়া যাবে না। একটা মানুষ যে ইতিমধ্যে অনেক কষ্টের জীবন পার করে আসছে। জীবন তাকে অনেক কঠিনতম পরিস্থিতিতে এনে দাঁড় করিয়েছে। তার এই সংগ্রামী জীবনে তাকে মানসিক সাপোর্ট এর পরিবর্তে মানসিকভাবে আরো বিদ্ধস্ত করা কতটা যুক্তি যুক্ত আমি জানি না। আমার প্রশ্ন কেন এমন হবে?

আচ্ছা যদি কোন single বাবা একটা অবিবাহিত মেয়েকে বিয়ে করে সেটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার আমাদের সমাজে। কিন্তু একটা single মা যদি একই কাজটা করে তাহলে তাকে বেহায়া, নির্লজ্জ, সমাজের কলঙ্ক আরো কতকিছু বলা হয়। আমরা মেয়েরা যতই নিজেদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই ততই আমাদের সমাজ , সামাজিক নিয়মনীতি আমাদের পেছন থেকে টেনে ধরে। এর মধ্যে থেকেই কেউ কেউ আবার বেরিয়ে আসতে পারে কিন্তু না পারার সংখ্যাই কিন্তু বেশি। Single মায়েরা যে সংগ্রামী জীবনযাপন করছে তাতে উৎসাহ আর অনুপ্রেরণা দিতে না পারলেও তাকে স্বাভাবিক জীবনযাপনে বাধা দেয়া থেকে বিরত থাকুন। সে মা আর মা হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান তার প্রাপ্য। আর হ্যাঁ একজন মা কখনো হেরে যায় না। দিনশেষে এসব সাহসী, সংগ্রামী মায়েদের কাছে হেরে যায় আমাদের কুৎসিত সমাজ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড