• রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নারী স্বাধীনতা : কতটা মুখ্য পুরুষের কাছে?

  নিশীতা মিতু

০৮ মার্চ ২০২২, ১৪:০০
নারী দিবস
নারীদের সমঅধিকার দিবস হিসেবে পালনের সূত্র ধরে জন্ম হলেও পরবর্তীতে তা হয় নারী দিবস (ছবি : সংগৃহীত)

প্রতিবছর ৮ মার্চ পালন করা হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। যে দিবসটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। নারীদের সমঅধিকার দিবস হিসেবে পালনের সূত্র ধরে জন্ম হলেও পরবর্তীতে তা হয় নারী দিবস।

বছরপ্রতি এই দিবসটি এলেই ভিন্ন মত দেখা দেয় জনসাধারণের মাঝে। একদল বলে, এই দিবসটির প্রয়োজন অনেক। নারীরাও যে পুরুষের সমকক্ষ তা সবাইকে মনে করিয়ে দিতে এমন একটি দিনের তাৎপর্য রয়েছে। অন্য দলের মতে, নারীর জন্য একটি নির্দিষ্ট দিন বরাদ্ধ করার কোনো মানেই হয় না। বরং এটি মনে করিয়ে দেয়, নারী এখনও পিছিয়ে রয়েছে মেধায়, কাজে।

নারী দিবসের কথা বললে যে কটি বিষয় উঠে আসে তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘নারী স্বাধীনতা’। নারীর কাছে স্বাধীনতার নানা ব্যাখ্যা রয়েছে, কিন্তু কেমন ভাবেন অপর পক্ষ? পুরুষদের কাছে কতটা গুরুত্ব পায় নারীর স্বাধীনতা? তাদের কাছে এই বিষয়টির ব্যাখ্যাই বা কী? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দৈনিক অধিকার গিয়েছে সমাজের নানা পেশার পুরুষের কাছে। জেনেছে তাদের কাছে নারী স্বাধীনতার অর্থ।

এন্টারটেইনমেন্ট কন্টেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘সিনেগল্প’র কো-ফাউন্ডার ও সিইও মুক্তার ইবনে রফিক বলেন, আমার কাছে নারীর স্বাধীনতা মানে কোনো নারী আদৌ বিয়ে করবে, নাকি করবে না- সেই সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার এখতিয়ারটুকু থাকা। আর যদি বিয়ে করেন তবে শ্বশুড়বাড়ির লোকজন যেন কোনোভাবে তাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা না করে- এতটুকু আত্মমর্যাদা নিয়ে থাকতে পারা।

প্রকাশনী ‘ভূমিপ্রকাশ’র প্রকাশক জাকির হোসেন মনে করেন নারী স্বাধীনতা শব্দ দুটিই বর্ণবাদে ভরা। তিনি বলেন, যখন আমরা বলি ‘নারী স্বাধীনতা’ তখনই পরাধীনতার শিকল পরিয়ে দেই নারীকে। আমার মতে নারী যা করতে চায় বা পারেন, তিনি তা করতে পারাই তার স্বাধীনতা। বিষয়টি আসলে নারী পুরুষ সবার ক্ষেত্রেই এক। কোনো নারী যদি রিকশা চালিয়ে জীবন নির্বাহ করতে চান সেটা করার অধিকার যেমন তার আছে ঠিক তেমনি কেউ যদি মনে করেন তিনি মহাকাশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত—তাকে তা করতে দিতে হবে।

বিদেশে উচ্চ শিক্ষা সংক্রান্ত সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘এম এম এস গ্লোবাল সার্ভিসেস’ এর কর্ণধার মাহমুদ মুসা বলেন, আমার কাছে নারী স্বাধীনতা মানে স্বাবলম্বী হওয়া। তবে এখনও অনেক নারী নিজেদের দুর্বলভাবে প্রকাশ করতে চান, আমি এর ঘোর বিরোধী। নারী স্বাধীনতা মানে আমার কাছে সত্যিকার অর্থে নিজের মত প্রকাশ করতে পারা।

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক এবং পিএইচডি গবেষক মো. মাহফুজুল হক বলেন, স্বাধীনতার কথা ভাবলেই মাথায় কাজ করে পরাধীনতার কথা। যে পরাধীন নয় সেইতো স্বাধীন। মেধা ও মননে সমবয়সী নারী ও পুরুষ সমান ক্ষমতার অধিকারী হওয়ায় কেউ কাউকে স্বাধীনতা দেয়ার অথবা পরাধীন করার ক্ষমতা রাখে না। নারী বা পুরুষ যার কথাই বলি না কেন, এক কথায় সবাই মানুষ। কর্মদক্ষতার দিক দিয়ে মানুষের মধ্যে শুধু বিভেদ হতে পারে বয়সের। তবে ক্ষেত্রবিশেষে পেশীশক্তির কারণেও বিভেদ হতে পারে, কিন্তু মেধার কাছে পেশীশক্তি তেমন কিছু না। তাছাড়া পেশীশক্তির প্রদর্শন তো একটা যন্ত্রই পারে আজকাল। তাহলে তো নারীদের পিছিয়ে থাকার কোনো কারণই থাকলো না। তাই আমার মতে, একবিংশ শতাব্দীতে ‘নারী স্বাধীনতা’ নিয়ে আলোচনা করার মানেই হলো এখনও পরাধীনতার বোধটাকে চাগাড় দেওয়া।

এক্সপেন্সিভ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডে মার্কেটিং ম্যানেজার পদে কর্মরত রয়েছেন সৌমিত্র পাল। এই যুবকের মতে, একই সমাজে বসবাস করে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র লিঙ্গের দোহাই দিয়ে সমাজের গণ্ডিতে বেঁধে না রাখাই হচ্ছে ‘নারী স্বাধীনতা’। নারীর জন্য স্বাধীনতা হচ্ছে তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং নিজের অধিকারের পূর্ণ বাস্তবায়ন করা। সমাজের প্রতিটি স্তরে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে নারী স্বাধীনতা।

চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী নাজমুল পারভেজ বলেন, আমার কাছে ‘নারী স্বাধীনতা’ কথাটাতেই একটা পরাধীনতার চাপ আছে বলে মনে হয়। মানুষ জন্মের পর লৈঙ্গিক ভিত্তিতে একটা সময়ে আলাদাভাবে অধিকার ভোগ করে এটা আমি কিছুতেই মানতে পারি না। নারীকে পুরুষের কাছ থেকে স্বাধীনতা নিতে হয়। বাবা, ভাই, স্বামী, পুত্র সন্তান- এরা নারীর স্বাধীনতার ঘোষক(?)! কী আশ্চর্য কথা! অথচ নারী নিজেই বরং পুরুষদের চাইতে সক্ষম। নারী মানুষ। প্রতিটি নারীই পূর্ণাঙ্গ। সে কখনো পরাধীন নয়। তাকে আটকে রেখে, বাধা দিয়ে পরাধীন করে রাখা কেবলই সময়ের অপব্যবহার। নারীকে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। আমার কাছে ‘নারী স্বাধীনতা’ একটি বিষয় হলে ‘পুরুষ স্বাধীনতাও’ প্রশ্নবিদ্ধ একটি বিষয়।

টিব্যাগ স্টোরিস এর কর্ণধার আর্টিস্ট ও প্রচ্ছদকার মো. সাদিতউজজামান বলেন, ‘নারী স্বাধীনতা’ আমার কাছে আলাদা কোনো বিষয় নয়। আমি মনে করি, স্বাধীনতা ব্যাপারটা প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আমাদের সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা নানাভাবে অধিকার থেকে বঞ্চিত হন বলেই হয়তো নারী স্বাধীনতা বিষয়টির জন্ম। অথচ, একজন নারীর অবশ্যই সেসব স্বাধীনতা থাকা উচিত যা একজন পুরুষ পেয়ে থাকেন। আমাদের উচিত নারীর জন্য নিরাপদ সমাজব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

সেবা প্রতিষ্ঠান ‘রক্তদানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ’ এর প্রতিষ্ঠাতা সুব্রত দেব বলেন, আমার দৃষ্টিতে নারী স্বাধীনতার অর্থ হলো, নারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং মতামত জানানোর অধিকার। কোনো লিঙ্গ বৈষম্য ছাড়া তাদের সুস্থ চিন্তা ও স্বপ্নের সঠিক বাস্তবায়ন করতে পারার স্বাধীনতা। নিরাপদভাবে চলাফেরা করার স্বাধীনতা আর নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা। তাই নারীদের হতে হবে শিক্ষিত ও স্বনির্ভর।

ওডি/নিমি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড