• রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কোথায় হারাল সেই ডাকপিয়ন আর ডাকবাক্স?

  কাজী ফিরোজ আহাম্মদ পারভেজ

০৬ মার্চ ২০২২, ১৪:০৪
ডাকবাক্স
অবহেলায় পড়ে থাকা ডাকবাক্স (ছবি : সংগৃহীত)

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কত কিছুই হারিয়ে যায়। হারানোর তালিকায় রয়েছে মানুষ নিজেও। যোগাযোগের জন্য মানুষ কত পদ্ধতিই ব্যবহার করেছে। এক সময় কবুতরও ছিল যোগাযোগের মাধ্যম। এরপর আসে চিঠির যুগ। হাতে লেখা চিঠি। মানুষের আবেগ প্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

ডাকপিয়ন, ডাকবাক্স এবং তাদের বিলি করা চিঠি এ শব্দগুলো আজকের যুগে খুব প্রয়োজনীয় না হলেও এক সময় তা ছিল মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। দিনের পর দিন অপেক্ষা করে থেকেছে ডাকপিয়নের জন্য। তার সাইকেলের শব্দের জন্য। এলাকায় সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিল এসব ডাকপিয়নরা। অল্প অর্থেই খুশি থাকতেন তারা। দুই চাকার সাইকেল থাকত তাদের সঙ্গী হয়ে।

বর্তমান যুগ আমাদের ডাকপিয়ন, ডাকবাক্স, পোস্ট-অফিস এসব শব্দ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। জন্মের পরপরই যে শিশু মোবাইল, ট্যাব হাতে খেলনা নিয়ে বড় হয়, তার ডাক সম্পর্কে জানার কথাও নয়।

এখন ডাকপিয়নের সাইকেলের বেলের টুংটাং শব্দ হরহামেশাই শোনা যায় না। অথচ একটা সময় পাড়ায় পাড়ায় রোজ আসতেন ডাকপিয়ন। নিয়ে আসতেন কারো চিঠি কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির কাছে হার মেনেছে সব। কালের অতল গভীরে হারিয়ে যেতে যেতে আজ প্রায় বিলীন হয়েছে এক সময়ের দাপুটে ডাকপিয়ন আর ডাকবাক্সগুলো।

হাতে লেখা চিঠির জায়গায় আজ মোবাইলের ম্যাসেজ, ম্যাসেঞ্জার, ই-মেইল বা কুরিয়ার স্থান দখল করে নিয়েছে। স্থান পরিবর্তনই প্রকৃতির নিয়ম। তবে এ কথা বলতে পারি চিঠিতে যে আবেগ জড়ানো থাকে আজকের আধুনিক সরঞ্জামে বহন করা ডিজিটাল সেই খবরে এত আবেগ জড়িয়ে থাকে না।

ডাকঘর, ডাকবাক্স, ডাকপিয়ন আর চিঠি নিয়ে যুগ যুগ ধরে লেখা হয়েছে কত গান, গল্প, উপন্যাস ও কবিতা। কত মা-বাবা, ভাই-বোনের কান পড়ে থাকতো ডাকপিয়নের সাইকেলের বেলের দিকে। পাড়ায় মহল্লায় ডাকপিয়ন ঢুকলেই মানুষ এসে ভিড় জমাতেন। তার নামে কোনো চিঠি আছে কিনা, জানতে। দিনের পর দিন একটি চিঠির অপেক্ষায় থাকতেন তারা।

লাল রঙা ডাকবাক্স এক সময় ছিল আবেগের নাম। কালের স্রোতে সেই আবেগ এখন বিলুপ্তপ্রায়। দেশ হয়েছে ডিজিটাল। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ মাধ্যম নিয়েই ব্যস্ত সবাই। এ দিকে, অবহেলায় পড়ে রয়েছে ডাকবাক্সগুলো। চিঠির বদলে সেখানে জমছে ধুলো, জন্মাচ্ছে আগাছা। কালের সাক্ষী হয়ে নড়বড়ে অবস্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে জং ধরা বাক্সগুলো।

আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে হারিয়ে যাচ্ছে ডাক বিভাগের পোস্টাল সার্ভিস বা ডাকসেবা। ডাকঘর, ডাকবাক্সের অস্তিত্ব থাকলেও তার আর কদর নেই। তাই, ডাকবাক্স অবহেলায় চিঠির অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে। কখনো কখনো তাতে আবার তালা থাকে না। থাকলেও চিঠি থাকে না।

এক সময়, খামে ভরা কাগজের চিঠির জন্য মানুষ ডাকঘরের সামনে অপেক্ষা করতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কখন আসবে প্রিয়জনের চিঠি। এ আধুনিক সমাজে মানুষ প্রবাসী স্বজনদের সঙ্গে কিংবা প্রিয়জনের যোগাযোগের সুযোগটা যখন ইচ্ছে তখনই অনলাইনে উপভোগ করেছে। হালফিল জমানায় সব যোগাযোগই হয় এক নিমেষে। বার্তা আদান-প্রদানে চিঠির বদলে সবার ভরসা এখন নতুন নতুন প্রযুক্তি। এখন শহর থেকে দেশের প্রত্যন্ত অজপাড়াগাঁয় পৌঁছে গেছে ইন্টারনেট ও ই-মেইল সেবা।

প্রযুক্তি কেড়ে নিয়েছে পুরনো সেই কাগজের চিঠির আবেদন। ফলে হারিয়ে গিয়েছে ডাকবাক্স আর ডাকপিয়নের আবেদনও।

লেখক- কাজী ফিরোজ আহাম্মদ পারভেজ, শিক্ষার্থী, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

ওডি/নিমি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড