• রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আঁজলা ভরা ‘ভালোবাসা’ নিয়ে এলো ‘বসন্ত’

  নিশীতা মিতু

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:১৩
বসন্ত
বসন্তের সাজে তরুণী (ছবি : অধিকার)

আজকের সূর্য উঠেছে একটু মিষ্টি হেসে, হিমেল বাতাস হয়েছে কিছুটা পাগলাটে। দূরের বন থেকে ভেসে আসছে কোকিলের কুহুতান। সবমিলিয়ে প্রকৃতি জানাচ্ছে, রাজার আগমন ঘটেছে। আজ (১৪ ফেব্রুয়ারি) পহেলা ফাল্গুন। আঁজলা ভরা ভালোবাসা নিয়ে প্রকৃতিতে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত, আর তাইতো আজ ভালোবাসা দিবসও।

বসন্তকে কেন ঋতুর রাজা বলা হয় সে প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই। তবে নির্জীব ফ্যাঁকাসে প্রকৃতিতে যে প্রাণের সঞ্চার করে, ফুল আর প্রজাপতির মেলা যে বসায়, নতুন পাতার দলকে যে স্বাগত জানায়- রাজার উপাধি তো তাকেই মানায়।

বসন্ত মানবজীবনে নিয়ে আসে প্রেম আর ভালোবাসার বার্তা। তাই হয়তো ফাল্গুনের প্রথম দিনটিই ভালোবাসা দিবস। তবে কেবল মানুষ নয়, প্রকৃতির প্রতিও বেশ উদার বসন্ত। নিজের সবটুকু উজাড় করে প্রকৃতিকে সাজায় সে। নতুন চারা গাছ জন্ম নেয় এই ঋতুতে। অনেক পশুপাখিও মিলনের জন্য এই সময়টিকে বেছে নেয়, জন্ম দেয় নতুন প্রজন্মের। মানুষ আর প্রকৃতিতে সবখানেই ভালোবাসার মাখামাখি করা ঋতু তাই বসন্ত।

বসন্তকে বলা হয় ফুলের ঋতু। এই ঋতুতে বাতাসের মাধ্যমে ফুলের রেণু ছড়িয়ে পড়ে। আর তাই এই ঋতুতে ফুল হয় বেশি। যে ফুল দিয়ে আপন সৌন্দর্যে সাজে প্রকৃতি। ফুলের সঙ্গে বসন্তের প্রেম বেশ গভীর। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায় বসন্তের শাশ্বত রূপটি তাই এমন- ‘ফুল ফুটুক, আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’।

বসন্তের ফুল বলতেই সবার আগে চলে আসে পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার নাম। এছাড়াও এই ঋতুতে ফোটে অশোক, আকড়কাঁটা, হিমঝুরি, রক্তকাঞ্চন, দেবদারু, নাগেশ্বর, মহুয়া, মাদার, শাল, স্বর্ণশিমুল ইত্যাদি।

বসন্তে প্রকৃতি হয়ে ওঠে চঞ্চল। শীতের খোলস ছাড়িয়ে নবরূপে জাগ্রত হয় বৃক্ষরাজি। পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙে রঙিন হয়ে ওঠে গ্রাম-শহর, বন-বাদার। প্রকৃতিতে যেন রঙের আগুন লাগে। গাঁদা ফুলের বাসন্তি রঙও বসন্তের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দেয়। এমনকি ঘাসের ওপরও এ সময় পা ফেলতে হয় সাবধানে। কারণ সেখানে ফুটে থাকে গুল্ম ফুল। পরিত্যক্ত জলাশয়ের বুকেও কলমি ফুল উঁকি দিয়ে জানান দেয়, প্রকৃতিকে সাজাতে পিছিয়ে নেই তারাও।

রাজা বসন্তের সেনাপতি হিসেবে নিযুক্ত থাকে কোকিল। তার প্রতিনিধিত্বে সুরেলা কণ্ঠে গেয়ে ওঠে সব পাখি। বসন্তে সবচেয়ে বেশি শোনা যায় কোকিলের গান। উঁচু গাছের মগডালে বসে, নিজেকে আড়াল করে সারাদিন কুহু কুহু রবে গেয়ে যায় সে। কোকিলের সেই গানে বিমোহিত হয় মানুষের মন, বিরহী মন হয়ে ওঠে উতলা।

কবি সাহিত্যিকদের কাছে বসন্ত প্রেমের ঋতু। তার রূপে মুগ্ধ হয়েই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন- ‘আহা আজি এই বসন্তে, এত ফুল ফোটে, এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়।’ বসন্তে প্রিয়জনের জন্য মন হয়ে ওঠে উতলা। তাইতো বাউল কবি গেয়ে ওঠে- ‘বসন্ত বাতাসে সই গো/ বসন্ত বাতাসে/ বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে।’

প্রেমিকার প্রেমে পড়ার উপযুক্ত ফাল্গুন। এই সময়ের কোনো এক পূর্ণিমা রাতে প্রেমিকাকে নিয়ে পালাতে মন চাইতেই পারে প্রেমিকের। সুরজিৎ চ্যাটার্জি তার মনের ইচ্ছাই গানের ভাষায় তুলে গেয়ে ওঠেন- ‘এ ফাগুনী পূর্ণিমা রাতে, চল পলায়ে যাই।’

বসন্ত ভালোবাসার ঋতু, নতুন কবিতা লেখার ঋতু, প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হওয়ার ঋতু। এই ঋতু শূন্য হৃদয় ভরিয়ে দেয় নানা রঙে। প্রকৃতিকে যারা ভালোবাসেন তাদের পছন্দের ঋতুর তালিকায় তাই বসন্তের অবস্থান একটু আলাদা। ফুলপ্রেমিদের জন্য এই ঋতু বড্ড রঙিন।

ওডি/নিমি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড