• মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ১ আষাঢ় ১৪২৮  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আবেগ, অনুভূতি আর বাস্তবতার মিশেল ঢাকাস্থ কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরাম

  ফিচার ডেস্ক

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৭:০৬
কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরাম
২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বরে ঢাকায় 'কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরামের' আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মুহূর্ত (ছবি : ফাইল)

দিনটি মেঘলা ছিল নাকি উজ্জ্বল সেটি আমার মনে নেই। তবে রাতটি আমার, আমাদের জন্য উজ্জ্বল হয়ে আছে, আজও। স্মৃতি ঘেটে আর নিজে হাতে করা নিউজ দেখে মনে করতে পারি দিনটি ছিল ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর। বৃহস্পতিবার। আমরা শুরু করেছিলাম সেদিন। ঢাকাস্থ কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরাম নামক একটি স্বপ্নের সূচনা হয়েছিল সেদিন রাজধানীর রমনা রেস্টুরেন্টে। একই জেলার, একই পেশার প্রবীণ আর নবীনরা মিলে বসা হয়েছিল, আবেগ আর অনুভূতি মিলে মিশে একাকার হয়েছিল।

পূর্ববর্তী অনেক জল্পনা কল্পনা এবং পরিকল্পনার পর দীর্ঘ প্রতিক্ষার শেষে অবশেষে ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের নিয়ে গঠন করা হয়েছিল ‘কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরাম’ এর আহ্বায়ক কমিটি।

ছিলাম আমিও, সেই স্বপ্নযাত্রার একজন কর্মী হিসেবে। দেশের এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কর্মরত, ঢাকায় কর্মরত কুষ্টিয়ার সকল গণমাধ্যম কর্মীদের একত্রিত করে সম্মিলিতভাবে কাজ করা ও আমাদের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করে যাবে কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরাম এই ছিল আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বন্ধন মানেই শক্তি, বন্ধন মানেই সাহস, এটাই বাস্তবতা।

সেদিন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সাথে সাথে যা ঘটেছিল, প্রবীণদের কুষ্টিয়া আর ঢাকাতে সাংবাদিকতার স্মৃতিচারণ আর আমরা বয়সে ছোটরা মন দিয়ে শুনছিলাম আর দিন গুণছিলাম বড়দের নির্দেশনায় অদম্যভাবে দুর্দান্ত ছুটে চলব, এই স্বপ্নের সংগঠনটি নিয়ে।

আমার সঙ্গে আমার তৎকালীন গণমাধ্যমের দুইজন সহকর্মী উপস্থিত ছিলেন, একজন ছিলেন রিপোর্টার প্রথমা আর অন্যজন ছিলেন ফটোগ্রাফার খালিদ। অন্য জেলার হলেও ওদের নিয়ে যাওয়ার কারণ, আমি চিন্তা করেছিলাম, সংগঠনের শুরু, সেখানে কোনো প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার বা রিপোর্টার নাও থাকতে পারে। কিন্তু স্মৃতি রেখে দিতে হবে, ক্যামেরার ক্লিকে আর সংবাদের বাক্যে বাক্যে।

কেউ যদি আমাকে প্রশ্ন করে আমার আসল পেশাগত পরিচয়টা কী? আসলে আমার তো অনেক পরিচয় আমি লেখক, এই যে এতগুলো বই বেরিয়েছে ফিকশনাল, নন ফিকশনাল। আমি দুটো বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি তালিকাভুক্ত খণ্ডকালীন শিক্ষক। আমি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যেমন গ্রীন, ইউআইইউ ইউনিভার্সিটিতে সেলফ ডেভলপমেন্ট বা সফট স্কিল মূলক যে ট্রেইনআপ সেগুলোও করাই। নটর ডেম কলেজে যেহেতু ১০ বছর ধরে কাজ করছি ১০০টা কলেজের ছেলে মেয়েদের নিয়ে, কাজ করছি তাদের সফট স্কিল ডেভলপমেন্ট নিয়ে, লিড আমিই দিচ্ছি। ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্টও আমি।

পেশাগত জায়গায় আমি দৈনিক অধিকার এবং অধিকার ডট নিউজের সম্পাদক এবং একই সাথে প্রধান নির্বাহী, অনেক পরিচয় দেওয়ার মতো আছে আর সেগুলো এড়িয়ে গিয়েই বলতে চাই যে এত কিছুর মাঝে যে আমার মূল পরিচয় সেটা হচ্ছে আমি একজন সংগঠক। সংগঠক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছি। এবং জীবনে যতটুকু আলোর দেখা পেয়েছি সেটা সংগঠক হিসেবেই পেয়েছি। আর লিডারশিপ গুণাবলি বা স্মার্ট হয়ে ওঠা এটা আমি সংগঠন থেকেই পেয়েছি। শারীরিকভাবে দেখতে আমি যেমনই হই না কেন আমি মানুষিকভাবে নিজেকে স্মার্ট করে গড়তে চেয়েছি। আর সেই জায়গাটা তৈরি করেছে সংগঠন। যেহেতু আমি সাংবাদিকতাটাকে ভালোবেসে ফেলেছি এবং পেশা হিসেবে নিয়ে ফেলেছি। আর এটা নিয়ে আমার এলাকাভিত্তিক একটা সংগঠন হবে, ঢাকাস্থ কুষ্টিয়ার যারা সাংবাদিক তারা একসাথে হবেন আর আমি থাকব না তা তো হয় না।

আমরা স্বপ্ন দেখতে চেয়েছিলাম যে একই ছাদের নিচে কুষ্টিয়ার সকল সাংবাদিক আছি। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আছি, হাসি ঠাট্টায় আছি, বিপদে-আপদে আছি, প্রয়োজনে আছি-অপ্রয়োজনেও আছি।

সেই ১৪ সালে আমি প্রস্তাবনা করি ফেসবুক পেজ আর গ্রুপের মাধ্যমে সক্রিয় হতে হবে আমাদের। আমিই পেজ এবং গ্রুপের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেই। যদিও পরবর্তীতে আমার নিজ ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়, আমার থেকে হারিয়ে যায় আমার আইডি। যে কারণে আমি একটু বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। এর মাঝে আমি জীবন থেকেই কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি, ঢাকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি।

এরপর বেশ কিছু বসন্ত পাড়ি দিয়ে, বেশ কয়েক শীত বিদেশি পাখিরা এদেশে এসে ফিরে গেলে, বন্ধন অটুট রাখার প্রয়াসে ২০১৯ সালের ২৬ জুলাই শুক্রবার ঢাকার অফিসার্স ক্লাবে এক প্রীতি সম্মেলনের মাধ্যমে কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরাম তার যাত্রা জাঁকজমকপূর্ণভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে। পূর্ণাজ্ঞ কমিটিতে মাছরাঙা টিলিভিশনের বার্তা প্রধান রেজায়ানুল হক রাজা ভাই সভাপতির দায়িত্ব এবং চ্যানেল আইয়ের সিনিয়র নিউজ এডিটর আদিত্য শাহীন ভাইয়া সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিলেন।

আজ ২৭ ফেব্রুয়ারি। আমাদের এজিএম, অ্যানুয়াল জেনারেল মিটিং। ঢাকাস্থ কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরামের এজিএম।

অনেক কিছু লিখেছিলাম, জায়গা সংকটের কথা ভেবে ফেলে দেওয়া হলো বেশ কিছু শব্দ আর বাক্যের মেলবন্ধন।

তবুও লেখার শেষে এসে সময়ে কিছু কথা বলে যেতে চাই। সেটা হচ্ছে আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বন্ধন দৃঢ় করা। একে অপরের পাশে থাকা। সাংবাদিক ফোরামটার অন্যতম উদ্দেশ্য, একে অপরের পাশে থাকা। আমরা বিপদে আপদে আমাদের পাশে দাঁড়াব। কিন্তু ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বরে সবাই এক হবার পর, জীবনের বাঁকে পথ হারিয়ে দিশা পাচ্ছিলাম না। যে কোনো একটি শক্ত হাতের প্রয়োজন ছিল খুব। আমার। সে সময় আমি আমার প্রাণ প্রিয় সংগঠন সাংবাদিক ফোরামের অনেকের দরজায় কড়া নেড়েছিলাম, কিন্তু পাইনি কারো সাড়া। আজ থাক সেই সাড়া না পেয়ে হৃদয়ে নাড়া খাবার গল্প। তবে বিধাতা আমাকে আজ কম দেননি, আমি কৃতজ্ঞ সৃষ্টিকর্তার কাছে, প্রচণ্ডভাবে।

মনের ক্ষতটা নিজে থেকেই একটু সেরে ফেলেছি, ঝেড়ে ফেলেছি সব অভিমান। চলুন, চলে যাই স্বপ্নের দিগন্তে, যে স্বপ্ন আমরা দেখতে চেয়েছি, একটি ছায়া, একটি বটবৃক্ষ, একটি ছাতা, একটি ছাদ যাই বলি না কেন, যার নিচে আমরা কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরাম এক হয়ে আছি একে অন্যজনের বিপদে, পাশে দাঁড়িয়েছি, একজনের সুখে কাছে না গেলেও দূর থেকে হলেও আমরা হেসেছি, তাকে ভালোবেসেছি, এই যে প্রাণের বন্ধন এই প্রাণের বন্ধনের লালিত স্বপ্ন সার্থক হোক। আর প্রবীণ, নবীন কারো পাশে দাঁড়ানোর বিন্দুমাত্র সুযোগ পেলে, আমি ধন্য হব। আছি কুষ্টিয়ার মানুষ এবং বিশেষ করে কুষ্টিয়ার সাংবাদিকদের পাশে, যতটুকু সাধ্য আমার ততটুকু দিয়ে। আমার পাশে কে ছিল না, কে ছিল, সে গল্প আজ তোলা থাক। তবে আমি সাধ্যমত থাকতে চাই সবার পাশে। তবে সবশেষে বলতে চাই ভালো থাকুক কুষ্টিয়া, ভালো থাকুক কুষ্টিয়ার মানুষ, কুষ্টিয়ার সাংবাদিকগণ, ভালো থাকুক কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরাম, ভালো থাকুক পৃথিবী।

ওডি/

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড