• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

‘আলোক’ পদ্ধতিতে ত্রাণ পাবে সকলে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩:২১
ত্রাণ বিতরণ
ত্রাণ বিতরণের নব কৌশল আলোক পদ্ধতি

‘আলোক’ পদ্ধতিতে সুশৃঙ্খলভাবে ত্রাণ পাবে সবাই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তারেক রহমান। তিনি তার উদ্ভাবিত পদ্ধতি নিয়ে বলেন, আমি আমার এই পদ্ধতিতে তহবিল গঠনে মনোযোগ দিচ্ছি না।

তারেক রহমান বলেন, নিজ এলাকায় ত্রাণ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কিছু বাধার সম্মুখীন হই, সেখান থেকেই এই পদ্ধতির বিষয়ে ধারণা আসে আমার। আমার নিজের সামর্থ্য নেই যে ত্রাণ দিব। আমি ছাত্র অধিকার পরিষদের জরুরি তহবিল নিয়ে কাজ করছিলাম, সারা দেশের ত্রাণ বিষয়ক কাজ আমার সহকর্মীদের সাথে সমন্বয় করছিলাম তবে নিজের এলাকা নিয়ে ভাবার সময় পাইনি।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষরা আমায় চিনে, বাসায় এসে বলেন ভাই সারা দেশে ত্রাণ দিচ্ছেন এলাকায় কিছু দেন। আমি বলি, এটা আমার ব্যক্তিগত ফান্ড না। ইচ্ছা করলেই আমি নিজ এলাকায় এই ফান্ড তেকে অর্থ আনতে পারি না। এর পর হতাশ লাগছিল তাদের জন্য কিছু করতে না পেরে। সেখান থেকেই একটি পদ্ধতি মাথায় আসে। আর যেটি প্রয়োগ করেই আমি সকলের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করতে পেরেছি।

এই ছাত্রনেতা বলেন, আমি এলাকার অনেক গণ্যমান্য বিত্তশালীদের কাছে গিয়েছে তাদের রাজি করাতে। তারা যেন গরীবদের জন্য কিছু ত্রাণ দেন। মোটামুটি সবাই আমাকে হতাশ করেছেন। সেই হতাশা আমাকে নতুন এই পদ্ধতি বের করার পথ দেখিয়েছে। আমি এর নাম দিয়েছি ‘আলোক’। নামকরণের পেছনে কোনো যুক্তি নাই, মনে হয়েছে তাই দিয়েছি।

আমি যেটা করেছি আমার নিজ এলাকার বিত্তবানদের সাথে অসহায় ক্ষুধার্তদের মেলবন্ধনের কাজ করি। এই মেলবন্ধন করতে গিয়ে আমি গোটা সমাজের দুটি তালিকা তৈরি করেছি।

প্রথমত, অসহায় পরিবারদের তালিকা করছি; দ্বিতীয়ত, সামর্থবানদের কাছে যাচ্ছি সেই তালিকা নিয়ে। এর পর সামর্থবান প্রত্যকটি পরিবারকে বলছি আপনি কয়টা পরিবারের ১০ দিনের দায়িত্ব নিবেন। এবার খুব কম ক্ষেত্রেই ফিরিয়ে দিয়েছেন সামর্থ্যবানরা।

যার যেমন সামর্থ্য তিনি সেভাবেই দায়িত্ব নিচ্ছেন। আমার এলাকার নাম, লতিফপুর দক্ষিণপাড়া। আমি প্রাথমিক ভাবে ৮০ অসহায় পরিবার খুঁজে পেয়েছি আমার এলাকায়। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত সামর্থ্যবানদের কাছে ৬০ টি পরিবারের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে পেরেছি। যেই সামর্থ্যবান লোকগুলো একদিন আগেও ত্রাণ দিতে চাচ্ছিল না, সেই তারাই আমার ‘আলোক’ পদ্ধতিতে অসহায় পরিবারগুলোর দায়িত্ব নিয়েছেন। আমি আশা করছি কাল সকালের মাঝেই বাকি ২০ টি পরিবারের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে পারব। আমি ১০ দিনের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলেও দায়িত্ব নেয়া অনেকেই বলছেন দ্বিতীয় দফাতেও তাদের যেন জানায়।

একটি দুটি করে পরিবারের ১০ দিনের দায়িত্ব নেওয়া কোনো সমস্যায় না তাদের জন্য। আমার দেয়া ত্রাণ প্যাকেজের মাঝে ছিল- ৬ কেজি চাল, এক কেজি আটা, ২ কেজি আলু, আধা কেজি ডাল, আধা কেজি পেঁয়াজ, আধা কেজি লবণ, ১০ টাকার শুকনা মরিচ। বগুড়ার দর অনুযায়ী মাত্র ৪৫০ টাকা পড়ে পুরা প্যাকেজ।

কয়েকদিন পর রোজা শুরু হবে, তখনো একইভাবে কাজ করার ইচ্ছা আছে আমার। চেয়ারম্যান-মেম্বারের ত্রাণের আশা যেখানে মানুষকে হতাশ করছে সেখানে ত্রাণের ‘আলোক’ পদ্ধতি প্রয়োগ করে সমাজের যুবকরা সেখানে আলো ছড়িয়ে হতাশা আর ক্ষুধামুক্ত সমাজ গড়তে পারে করোনা নামের বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে।

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড