• বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করোনা ও একটি শহরের গল্প

  কাজী টুটুল

০২ এপ্রিল ২০২০, ২৩:৪৪
করোনা ভাইরাস
রাজবাড়ী শহর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবী যে সবচেয়ে বড় দুর্যোগে পতিত হলো সেটা অদৃশ্য শত্রু করোনা ভাইরাসের কারণে। কি এমন শক্তি তা নেই জানা কারোও। এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বড় বড় বিজ্ঞানীরা আত্মসমর্পণ করেছে করোনার কাছে। মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞানে সেরা দেশগুলোর মানুষেরা। অসহায় হয়ে তাকিয়ে রয়েছে আকাশপানে। কিছুই যে করার নেই।

এমতাবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান সহজেই অনুমেয়। ঘনবসতিপূর্ণ আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি। জন্মগত অভ্যাসের দরুন আবেগ একটু বেশীই আমাদের। কাছাকাছি থাকতে পাশাপাশি বসতে আমরা বেশী ভালোবাসি।

প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমিতেও হানা দিয়েছে এই অজানা শত্রু। ভয়ে আঁতকে উঠছি আমরা বারবার। দিশেহারা অবস্থা দেশবাসীর। তবে আশার কথা হলো একটু ধৈয্যশীলতা ও সচেতনতা আমাদেরকে এর হাত থেকে অনেকখানি রক্ষা করতে পারে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের কথা ভেবে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেন সকলকে ঘরে থাকবার জন্য। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে মাঠে নামিয়ে দিলেন। যেন মানুষ অপ্রয়োজনে বাহিরে না ঘুরে নিজের ঘরে অবস্থান করে তাদেরকে সেটা বোঝাতে। সেই সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাস্তা-ঘাট, বাজার ও জনসমাগম স্থলে জীবাণুনাশক স্প্রে করছে মাঝে মধ্যেই। তবুও আমরা ঠিক মত নির্দেশনা মেনে  চলছি না। যেন ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি এসেছে সবাই।

এবার আসি আমার জেলা রাজবাড়ীতে। জেলা প্রশাসক দিলশাদ বেগম এর নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ গাড়ী নিয়ে শহরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। বাজার তদারকি করছেন তারা। কিন্তু দৃশ্যত রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এর কাজগুলো চোখে পড়ার মত। সব দায়িত্ব যেন পুলিশ সুপারের একার। রাজবাড়ীবাসীর কথা ভেবে করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন কেমিক্যাল সংগ্রহ করে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি করলেন হ্যান্ড স্যানিটাইজর। বিতরণ করলেন জেলার পাঁচ থানা এলাকার প্রত্যেকের ঘরে ঘরে। এরপর তৈরি করলেন মাস্ক। সেটিও সবার মাঝে বিতরণ করলেন।

এখানেই থেমে নেই তিনি, দেশের সর্ববৃহৎ পতিতাপল্লী দৌলতদিয়া। করোনার কারণে লকডাউন করে তাদেরকে খাদ্যসামগ্রীর সব ব্যবস্থা তিনি করেছেন। পতিতাপল্লী যতদিন লকডাউন থাকবে ঠিক ততদিনের খাবারের ব্যবস্থা তিনি করবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া বিদেশ ফেরত সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করেছেন। জেলার গোয়ালন্দ মোড়ের নিমতলায় অবস্থান নেয়া অস্থায়ী বেদে পল্লীর ২৯টি পরিবারের মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ও খাদ্যসামগ্রী চাল, ডাল, তেল, আটা ও লবণ পৌঁছে দিয়েছেন।

স্থানীয় সাংসদ কাজী কেরামত আলী তার নির্বাচনী এলাকায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। ব্যাক্তি উদ্যোগে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ইরাদত আলী সহস্রাধিক শ্রমিক-কর্মচারিসহ রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলার অসহায় দরিদ্রদের মাঝে, ফ্রান্স প্রবাসী আশরাফুল ইসলাম হিজরা সম্প্রদায়, হরিজন পল্লী, মুচি ও গোয়ালন্দ উপজেলার অসহায় দরিদ্রদের মাঝে, কানিজ ফাতেমা চৈতি সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলার অসহায় দরিদ্রসহ পতিতাপল্লীর বাসিন্দাদের জন্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন।

অপরদিকে পৌর মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরীর একান্ত সহকারী মো. সাইদুজ্জামান লিটন জানান, ৩০০ জন ছিন্নমূল মানুষের মাঝে পৌরসভার পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সেই সাথে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত পানি প্রধান সড়কসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায় ছিটানো হয়েছে। 

এব্যাপারে পৌর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা তারেকুর রহমান বলেন, আমরা পৌরবাসী নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পৌরসভার পক্ষ থেকে করোনা প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য তেমন কিছু আমরা পাইনি। জানতে পেরেছি ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের কাছে মাত্র ২৫ প্যাকেট করে খাবার বরাদ্দ দিয়েছে দরিদ্রদের জন্য। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রধান সড়ক, বাজার, হাসপাতাল ও কয়েকটি অফিস প্রাঙ্গণে জীবাণুনাশক ব্লিচিং মিশ্রিত পানি দুই-তিনদিন স্প্রে করলেও বর্তমানে তা আর দিচ্ছে না। আমরা চাই পৌর কর্তৃপক্ষ নিয়ম করে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় পৌর এলাকার সব জায়গায় জীবাণুনাশক ব্লিচিং মিশ্রিত পানি একবার করে ছিটায়ে দিক। সেই সাথে পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের অসহায়-দুঃস্থ মানুষের তালিকা তৈরি করে তাদেরকে খাদ্য ও করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিলে পৌরবাসী উপকৃত হবে বলে মনেকরি।

অপরদিকে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে ফ্রান্স প্রবাসী আশরাফুল ইসলাম লিখেছেন, “রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের সমন্বয়হীন কাজের কারণেই রাজবাড়ীর করোনা আক্রান্ত সন্দেহ রোগী আক্কাসের মৃত্যু হয়েছে বলেই মনেকরি”। তিনি আরও বলেন, জাতীর এই দুঃসময়ে সরকারি ত্রাণ সুষ্ঠু বিতরণ ও দুর্নীতি রোধে সেনাবাহিনীর কঠোর নজরদারী দাবি করছি। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এসব ত্রাণ বিতরণের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

আসলেই জাতির এই ক্রান্তিকালে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় অত্যাবশ্যক। মান-অভিমান ভূলে করোনা মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে হবে সচেতন সকলকে। তাহলেই ভালো থাকবে দেশ ও দেশের মানুষ এবং আমার প্রাণপ্রিয় রাজবাড়ীর মানুষ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড