• বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

হাঁটু কাদায় হারিয়ে যাচ্ছে পারকির ঐতিহ্য

  জাহাঙ্গীর আলম, আনোয়ারা, চট্টগ্রাম

২৮ মার্চ ২০২০, ১০:১৮
আনোয়ারা
পারকি সৈকতে জামে থাকা হাঁটু পরিমাণ কাদা

চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টার দূরত্বে এই সুন্দর সমুদ্র সৈকতটি অবস্থিত। একদিকে ঝাউ বনের সবুজের সমারোহ, আরেকদিকে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরের সারি সারি জাহাজের হাতছানি,নীলাভ সমুদ্রের বিস্তৃত জলরাশি আপনাকে স্বাগত জানাবে। আর সমুদ্র তীরের মৃদুমন্দ বাতাস আপনার মনকে আনন্দে পরিপূর্ণ করে দেবে নিমেষেই। অল্প সময়ে পর্যটকের গল্প রচিত করা দেশের দীর্ঘতম দ্বিতীয় সমুদ্র সৈকত পারকি তার শরীরের বালি হারিয়ে দিনদিন মৃত্যুর মুখে পড়তে যাচ্ছে। স্থানীয়রা এ জন্যে সৈকতের পাশ থেকে বালি উত্তোলনকেই দায়ী করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পারকি লুসাই পার্ক এলাকা থেকে উত্তরে সৈকতের সব বালি সরে গিয়ে হাঁটু পরিমাণ কাদায় ভরে গেছে। এখানে বেশি বিপাকে পড়েছে পর্যটকদের সাথে আসা শিশুরা। কাদার কারণে দৌড়া দৌড়ি তো দূরের কথা হাটাহাটিও করতে পারছেনা তারা। কেও কেও মা-বাবর কোল থেকেই নামতে চাচ্ছেনা। 

বেড়াতে আসা জহিরুল ইসলাম নামে এক পর্যটক বলেন, পূর্বে পারকির যে সৌন্দর্য দেখেছি এবার এসে সম্পন্ন বিপরীত দেখলাম। সৈকতে আগের মত বালি নেই, কাদা মাটি, ময়লা আবর্জনা তার উপরে বালুর পাইপ। এবারের মত অবস্থা আগে ছিলো না। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সৈকতের সৌন্দর্য। এসব বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছি।

পর্যটন কর্পোরেশন সূত্রেজানা যায়, উপকূলকে রক্ষা করার জন্য বনবিভাগ ১৯৯৩-৯৪ এবং ২০০২ সালে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৮০  হেক্টর জায়গাতে ঝাউগাছ লাগায় পারকি ও আশপাশের এলাকায়। আর্কিটেকচারাল পদ্ধতিতে লাগানো এ গাছ বড় হলে পরবর্তীতে পারকি পর্যটন এলাকা হিসাবে রূপ পায়। পর্যটন মন্ত্রণালয় পারকি সমুদ্র সৈকতকে আধুনিক বীচ ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পর্যটন কর্পোরেশন তিন বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প হাতে নেয়। ২০১৭ সালের জুলাই থেকে এবছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে। প্রকল্পটির মধ্যে রয়েছে ১৪টি বহুতল বিশিষ্ট আধুনিক কটেজ, একটি মানসম্মত বার, দুটি পিকনিক  শেড, দুটি কিডস কর্নার জোন, আধুনিক রেস্তোরাঁ, কনভেনশন হল, চেঞ্জিং ক্লসেট ও ওয়েটিং রুম। কার পার্কিং জোন সুবিধাও রাখা হয়েছে। বর্তমানে পর্যটন কমপ্লেক্স তৈরির জন্য নির্দিষ্ট ১৩ একর জায়গা নির্ধারিত করেছে পর্যটন কর্পোরেশন। ১৩ একর জায়গায় ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ের আধুনিক পর্যটন কমপ্লেক্স বাস্তবায়ন হলে পারকি বীচ হবে দেশের অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্র। কিন্তু পারকির বুকে আটকে পড়া জাহাজ ক্রিস্টাল গোল্ড ও প্রভাবশালীদের মাধ্যমে বালি উত্তোলনের কারণে সৈকতে বালির পরিবর্তে এখন হাটু পরিমান কাদায় ভরে উঠে। এতে করে আগত পর্যটকরা বিরক্তিকর অবস্থায় পড়ছে। পারকির এ পরিস্থিতি দেখে গত বৃহস্পতিবার পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমদও ক্ষোভ প্রকাশ করে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান ও সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এমএ কাইয়ুম শাহ বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ সৈকতকে রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। পারকির বুকের বালি গুলো হারিয়ে যাওয়ার কারণ খোঁজে বের করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোদ জানান।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমদ বলেন, পারকিতে জমে থাকা বালি গুলোই হলো পর্যটকদের মূল আকর্ষণ। ৬ মাস আগেও পারকির এ চেহারা ছিলনা। পারকির এ পরিস্থিতির জন্য যারা দায়ী তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড