• বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ৩১ আষাঢ় ১৪২৭  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

৯ বছর আগের সিনেমায় করোনার পূর্বাভাস!

  ফিচার ডেস্ক

১১ মার্চ ২০২০, ১১:৫৫
করোনা ভাইরাস
কনটেজিয়ন সিনেমার একটি দৃশ্য (ছবি- সংগৃহীত)

২০১১ সালে মুক্তি পেয়েছিল একটি চলচ্চিত্র যার নাম ‘কনটেজিয়ন’। মোটামুটি সফল হলেও সিনেমাটিকে কোনোভাবেই তাকে ব্লকবাস্টার বা ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র বলা যাবে না। তবে ২০২০ সালে এসে ৯ বছর আগের সেই সিনেমাটিই সুপারহিট হয়ে গেছে। আর হবে নাই বা কেন? বর্তমানে ছড়ানো করোনা ভাইরাসের নাম ও পরিস্থিতির সঙ্গে যে তার অবিশ্বাস্য মিল রয়েছে। 

মুক্তির নয় বছর পর সবাইকে অবাক করে ফিরে এসেছে ‘কনটেজিয়ন’। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল আইটিউন স্টোরে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া ছবির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে চলচ্চিত্রটি। সেসঙ্গে গুগল সার্চের তালিকার শীর্ষে এই সিনেমাটির নাম খোঁজার প্রবণতাও বাড়ছে। 

প্রথম যখন চীনে করোনা ভাইরাস ছড়ায়, সে সময় বিশ্বের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের তালিকায় ‘কনটেজিয়ন’ ছিল ২৭০তম। তিন মাস পরে বর্তমানে এই সিনেমাটিই নবম অবস্থানে চলে এসেছে। আর এই অগ্রগতির একমাত্র কারণ হলো করোনা ভাইরাস। প্রায় এক দশক আগে তৈরি চলচ্চিত্রটির কাহিনীর সঙ্গে বর্তমান করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের অনেক মিল রয়েছে।

সিনেমার গল্প যেমন ছিল 

চলচ্চিত্রটিতে দেখা যায়, একজন নারী ব্যবসায়ী (গিনেথ প্যালট্রো অভিনয় করেছেন) একটি রহস্যময় এবং মারাত্মক ভাইরাসে মারা যান। চীনে একটি সফরের সময় তিনি ওই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় পর্যন্ত ওই ভাইরাসের ব্যাপারে কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি।

কনটেজিয়নের দর্শকরা বলছেন, বর্তমান করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ যেমন চীন থেকে শুরু হয়েছিল, সিনেমাতেও তাই। যার কারণে সিনেমাটির জনপ্রিয়তা বেড়েছে। 

সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে গিনেথ প্যালট্রোর একটি ইন্সটাগ্রাম পোস্টের কারণে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেয়ার সময় বিমানে বসে তিনি মুখে মাস্ক পরা এটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আমি এই সিনেমায় আছি। নিরাপদ থাকবেন। করমর্দন করবেন না। নিয়মিত হাত ধোবেন।’

বাস্তবের সঙ্গে সাদৃশ্য

সিনেমার দৃশ্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনাবলীর অবিশ্বাস্য মিল রয়েছে। প্যালট্রো অভিনীত চরিত্রটি এমইভি-ওয়ান নামের একটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয় হংকংয়ের একজন বাবুর্চির সঙ্গে করমর্দনের মাধ্যমে, যিনি একটি শুকর জবাই করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই শুকরটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল বাদুড়ের মাধ্যমে।

দেশে ফিরে তিনি গুরুতর অসুস্থ হন এবং কিছুদিন পর মারা যান। একই রোগে তার ছেলের মৃত্যু হয়। কিন্তু তার স্বামী, ম্যাট ডেমনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভাইরাসটি আক্রমণ করতে পারেনি।

বাস্তবে দেখা যায়, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন যে, গত ডিসেম্বর মাস নাগাদ চীনের উহান শহরে পশু থেকে মানব শরীরে কোভিড-১৯ ভাইরাসটি ছড়াতে শুরু করে। সেসঙ্গে ধারণা করা হয় যে, করোনাভাইরাস বাদুড়ের মাধ্যমে বিস্তার ঘটেছে, যেমনটা ঘটেছিল সার্স মহামারির ক্ষেত্রে ২০০২-২০০৩ সালে। বাদুড় থেকে সেটা অন্য একটি প্রাণী হয়ে মানব শরীরে আসে। অন্য কোন প্রাণী থেকে করোনাভাইরাস এসেছে, সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে চীনের কর্তৃপক্ষ উহান শহরের একটি পশুপাখির বাজারকে ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল বলে শনাক্ত করেছে।

যেভাবে কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে, সিনেমার কল্পিত ভাইরাসটিও একে অপরকে স্পর্শের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সিনেমাটির চিত্রনাট্যকার স্কট যি বার্নস কনটেজিয়নের এমন ফিরে আসায় অবাক হয়েছেন। ফরচুক ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, কনটেজিয়ন চলচ্চিত্রটির মূল উদ্দেশ্য ছিল এটা তুলে ধরা যে, এমন প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে আধুনিক সমাজ কতটা নাজুক। তবে করোনা ভাইরাসের সঙ্গে কনটেজিয়নের মিলগুলো কাকতালীয়। 

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ওডি/এনএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড