• সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সাহিত্য সৃজনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

  অনুপ চক্রবর্তী

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:০৯
ছবি
ছবি : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ক্যাম্পাস)

দক্ষিণবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের এক প্রতিচ্ছবি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৭৩ সনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বরিশালে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের যে আশা ব্যক্ত করেছিলেন তার সফল বাস্তবায়ন হয় ২০১২ সনের ২৪ জানুয়ারি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-কার্যক্রম সূচনার মাধ্যমে। কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব তীরঘেষা কর্ণকাঠিতে অবস্থিত দেশের ৩৩তম এই বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থানগত কারণে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনন্য। পলি মাটির ওপর গড়ে ওঠা পলাশরাঙা, শালিকের ডাক আর নদীর গন্ধে ভরা এই উন্মুক্ত চত্বরটিই যেন জীবনানন্দের কবিতার জীবন্ত রূপ।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কিছু শিক্ষকের পরামর্শ-অনুপ্রেরণা এবং শিক্ষার্থীদের শুভচিন্তার প্রচেষ্টায় শিল্প-সাহিত্যের নানান সৃজনশীল উদ্যোগে সবসময় সরব থাকে কর্ণকাঠির এই মায়াবী চত্ত্বর। পরিকল্পিত এবং সাজানো-গোছানো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ছাড়াও ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে ঘাসের ফরাশে প্রতিদিন ক্যাম্পাসের কোনে কোনে বসে কবিতা আড্ডা, গল্পের বৈঠক আর সিনেমার আলোচনা আসর। নাটকের মহড়া চলে; বাতাসে ভেসে আসে অব্যবস্থাপনাকে কটাক্ষ করা শক্তিশালী ভারী গলার উচ্চারণ। জাতীয় দিবসসমূহে সকল বিভাগ থেকে বের হয় দেয়ালিকা; বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি দেয়ালে ফোটে কবিতার ফুল। 

তুলনামূলকভাবে নবীন হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে সৃজনশীলতার বিভিন্ন শাখার একাধিক সংগঠন। কোনো কোনোটি কাজ করছে তাদের উদ্যোগকে অন্য স্থান এবং প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক নিয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় চালু না থাকলেও ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যদল’ নামে রয়েছে নাটকের সংগঠন যারা প্রায়ই নাটক নিয়ে হাজির হন। ‘খেরোখাতা সাহিত্য সংসদ’ নামে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র সাহিত্য সংগঠন। ‘খেরোখাতা’ নামে এখান থেকে বের হয় সাহিত্য কাগজ যেখানে এই বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা লিখে থাকেন। শিল্প-সাহিত্যের বিষয় নিয়ে নিয়মিত বসে ‘খেরোখাতা সাহিত্য ও সৃজনের আসর’ যেখানে শিক্ষকরাও অংশগ্রহণ করেন; ঘাসের আড্ডায় বসেন ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে। ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি’ তাদের আয়োজনে নিয়মিতভাবে বিষয় হিসেবে নিয়ে আসে শিল্প-সাহিত্যের নানান বিষয়াবলি। যুক্তির যুদ্ধে বিশদভাবে উঠে আসে সাহিত্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো আবৃত্তি উৎসব করার মাধ্যমে আবির্ভূত হয়েছিল সামাজিক-সাংস্কৃতিক মঞ্চ ‘পদাতিক’। শিল্পের নানান বিষয় নিয়ে ক্যাম্পাসে কাজ করে যাচ্ছে এই সংঘটি। 

কীর্তনখোলা চলচ্চিত্র সংসদের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে সক্রিয় রয়েছে চলচ্চিত্র আন্দোলনের কর্মীরা যারা ফ্রিল্যান্স সিনেমা নির্মাণে, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ সিনেমা বিষয়ক আড্ডায় আড্ডায় কাজ করে যাচ্ছেন। মুক্ত চিন্তার সামাজিক সংগঠন ৭১’র চেতনার আয়োজনে চলে বিভিন্ন সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ড। শিল্প, সাহিত্য এবং সমসাময়িক বিষয়াবলী নিয়ে পাঠচক্রের আদলে প্রতি সপ্তাহে আড্ডায় বসে ‘সাহিত্য আড্ডা’ নামের একটি সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয়কে ছাপিয়ে বরিশাল শহর কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক আয়োজনে নিজেদের সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে ‘রংধনু’। সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সংগঠনটি। অবস্থানগত কারণেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংলগ্ন জায়গাগুলো নদী, খাল, বিভিন্ন বৃক্ষ, ফড়িং, পাখি, প্রজাপতি, ঘাস, বুনোফুলে পরিপূর্ণ। 

এখানের ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরার মাধ্যমে এসব ভিন্নভাবে উঠে আসে সবার জন্য। ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটির’ আয়োজনে হয় ছবি প্রদর্শন ও বিষয়ভিত্তিক প্রতিযোগিতা। এসবের সাথে সাথে অতিসম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক শিক্ষার্থী’র উদ্যোগে ‘বিইউ রেডিও’ নামে চালু হয়েছে দেশের প্রথম ক্যাম্পাস ভিত্তিক রেডিও স্টেশন। রাতে হলে হলে সবাই এই রেডিওর মাধ্যমে উপভোগ করেন ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে, তাদেরই অংশগ্রহণে ব্যতিক্রমধর্মী সব অনুষ্ঠান। শিক্ষকরাও অতিথি হয়ে অংশ নেন এই রেডিওতে। এসব ছাড়াও এ রকম আরও বেশ কিছু শিল্প-সাহিত্য সংশ্লিষ্ট স্বতন্ত্র সংগঠন রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গড়া। আর প্রতিবছরই নতুন কোনো উদ্যোগ নিয়ে নতুন কোনো দল কাজ শুরু করেই। 

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ এ দশম বর্ষে পদার্পণ করেছে হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্নে, ভালোবাসায় আস্তে আস্তে গড়ে ওঠা দক্ষিণবঙ্গের এই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। গবেষণা, খেলাধুলাসহ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এই ধরনের সংগঠন চর্চা গতিশীল হোক আরও। উন্নত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানবিক গুণাবলিতে পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার জন্য এসব সংঘের গুরুত্ব অপরিসীম। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এসব সৃজনশীল উদ্যোগ আরো বেগমান হোক, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জ্ঞানের মুক্ত চর্চার পরিবেশকে আরো বিস্তৃত করুক; বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠুক জীবনকে শেখার উপযুক্ত মাধ্যম।

ওডি/এসএন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড