• সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইমোশনাল মেল্টডাউন : যে কষ্টগুলো কেবল নিজের

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪:৩২
ইমোশনাল মেল্টডাউন
এমন কোনো কাজ করুন যেটি করতে আপনার ভালো লাগে (ছবি- প্রতীকী)

চারপাশে এতশত মানুষ। তারপরও ইট-পাথরের এই শহরে একাকীত্ব জেঁকে বসে আমাদের ওপর। অনেকের ভেতরে থেকেও মনে হয়, কেউ আমাদের দেখছে না। আমাদের কষ্টগুলো যেন শুধুই নিজের। এই কষ্টের ভাগীদার নেই, নেই কোনো সমব্যথীও। আর এমন হতাশা, কষ্ট আর অনুভূতিগুলো একটা সময় সমস্ত যুক্তিতর্ককে হারিয়ে দিয়ে মানসিক কষ্ট তৈরি করে ফেলে। 

সত্যি বলতে গেলে, শুধু আপনি নন, এই একাকীত্ব সবার। আপনার পাশের যে মানুষটি হাসছেন, তিনি হয়তো মনে মনে অসম্ভব দুঃখী। তবে, মানুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার দারুণ ক্ষমতা নিয়ে জন্ম নিয়েছে। তাই, অনেক কষ্টকে সঙ্গী করেও ঠিকঠাকভাবে পথ চলতে পারছে। 

আপনি কি বাকিদের চাইতে একটু আলাদা? মানসিক এই অনুভূতিগুলো কি আপনার স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে? সবার সামনে কেঁদে ফেলছেন, রেগে যাচ্ছেন বা অসম্ভব বিরক্তি দেখাচ্ছেন? এই 'ইমোশনাল মেল্টডাউন' শুধু অস্বস্তি নয়, ক্ষেত্রভেদে লজ্জাও ডেকে নিয়ে আসে ভুক্তভোগীর জন্য। কিন্তু এমনটা আর নয়। 

কখন মানুষ 'ইমোশনাল মেল্টডাউন' এর মুখোমুখি হয়?

সাধারণত, মানসিক যে কষ্টগুলো সেগুলোই ব্যক্তির অনুভূতিকে নেতিবাচক দিকে মোড় নিতে সাহায্য করে। তবে হ্যাঁ, এছাড়াও এমন কিছু ট্রিগার পয়েন্ট রয়েছে যেগুলো মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে প্রভাব রাখে।

১। অতিরিক্ত ক্লান্তি

আপনি যদি পরিমাণমতো না ঘুমান এবং দিনের পর দিন কাজ করতে থাকেন, তাহলে একটা সময় গিয়ে আপনার মস্তিষ্ক কোনো অনুভূতিকে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আপনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়বেন।

২। ক্ষুধা

আজকে ঠিকঠাক খেয়েছেন তো? খাবার না খেলে আমাদের রক্তে সুগারের পরিমাণ কমে যায়। আর সেখান থেকেই চলে আসে মানসিক বিষাদ।

৩। অতিরিক্ত কাজ

কাজ করা খুব ভালো। তবে সেটা অতিরিক্ত হয়ে গেলে মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই, পরিমিত পরিমাণে কাজ করুন। একবারে অনেকগুলো কাজ নিজের হাতে নিয়ে নেবেন না। 

৪। জীবনে কোনো পরিবর্তন

প্রিয় কোনো মানুষকে হারানো, চাকরি ছেড়ে দেওয়া, বিয়ে করা, সন্তান জন্ম দেওয়া- এমন অনেক মোড়ই থাকতে পারে জীবনে। আপনি কি জীবনের এমনই কোনো ঘটনার ঠিক মাঝামাঝি আছেন? তাহলে নিজেকে একটু সময় দিন এবং পরিবর্তনকে সহজভাবে নিন। এতে করে মানসিকভাবে তুলনামূলকভাবে ভালো থাকবেন।

৫। ভালোবাসার সম্পর্ক

কারও সঙ্গে মানসিকভাবে খুব কাছাকাছি আসলে তার দ্বারা মানসিকভাবে কষ্ট পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। এমন কোনো সমস্যা তৈরি হলে চেষ্টা করুন সেটা থেকে বেরিয়ে আসার। আর প্রতিটি ঘটনার ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিক নিয়ে কিছুটা সময় ভাবুন। দেখবেন, ইতিবাচক ব্যাপারগুলো নিয়ে ভাবলে মানসিকভাবে অনেক বেশি ভালো আছেন আপনি।

ইমোশনাল মেল্টডাউন থামাবেন কীভাবে?

এই ব্যাপারটিকে একেবারে থামিয়ে দেওয়ার মোক্ষম কোনো উপায় নেই। তবে আপনি যদি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে থাকেন, তাহলে নিজের মানসিক অবস্থাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিন। এক্ষেত্রে আপনি-

* ১০ পর্যন্ত গুণুন
* লম্বা কয়েকটি নিশ্বাস নিন
* যেখানে আছেন সেই স্থান থেকে অন্যকোনো স্থানে যান
* এমন কোনো কাজ করুন যেটি করতে আপনার ভালো লাগে

এতে করে আপনার চিন্তার পথ বদলে যাবে এবং কিছুটা সময় পর অনুভূতির এই প্রচণ্ড ধাক্কাটাও সামলে নিতে পারবেন আপনি। 

ইমোশনাল মেল্টডাউনকে প্রতিরোধ করতে-

১। নিজের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ কমাতে নির্দিষ্ট একটি নিয়ম মেনে চলুন। কর্মক্ষেত্র বা পরিবার, সবখানেই নিজের জন্য বিশ্রামের সুযোগ রাখুন।

২। নিজের শরীরের কথা শুনুন। আপনার মাথাব্যথা হচ্ছে বা কোনো পেশি অবশ লাগছে? এড়িয়ে না গিয়ে শারীরিক এই লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দিন। হুটহাট যে কোনো ব্যথার ওষুধ না সেবন করে শারীরিক সমস্যার কারণ জেনে যথাযথ ব্যবস্থা নিন।

৩। মন খারাপ লাগলে সেটাকে না থামিয়ে ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করুন। নিজের সবগুলো অনুভূতিকেই ভালোবাসুন ও সম্মান করুন।

৪। মানুষের ভিড়ে থাকলে কারও সঙ্গে নিজের অনুভূতিগুলো নিয়ে কথা বলুন। আর অন্যথায়, প্রকৃতির সঙ্গে কিছু সময় কাটান।

আরও পড়ুন : মন ভালো হবে এক মিনিটেই!

৫। সেই মানুষগুলোকে ভালোবাসুন যারা আপনার সঙ্গে থাকে সবসময়। আর হ্যাঁ, মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও সাহায্য চাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে করে আপনার ওপর অনেক চাপ আসবে না। আর মানসিকভাবেও আপনি ভালো থাকবেন। 

ইমোশনাল মেল্টডাউন হতেই পারে। এই ব্যাপারটিকে যতটা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন বা সমস্যাটি নিয়ে যত লজ্জা পাবেন এটি তত বেশি আপনাকে ঘিরে ধরবে। তাই, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বোধ করলে সেটি নিয়ে কথা বলুন। সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। এতে করে ধীরে ধীরে মানসিক এই যন্ত্রণা থেকে কিছুটা হলেও মুক্ত হতে পারবেন আপনি।

সূত্র- এভরিডেহেলথ

ওডি/এনএম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড