• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গাধিমাই : সবচেয়ে বড় রক্তাক্ত উৎসব!

  ফিচার ডেস্ক

০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৩:৩৪
গাধিমাই
ছবি : সংগৃহীত

নেপালের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান গাধিমাই উৎসব। প্রায় আড়াইশ বছর ধরে উদযাপিত হওয়া এই উৎসবটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় রক্তাক্ত উৎসব হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিতে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ২০১৪ সালে দেশটির ধর্মীয় এ পশু বলিদান প্রথা সমাপ্তি ঘোষণা করেছিল প্রাণী দাতব্য সংস্থাগুলো। 

কিন্তু মঙ্গলবার ছাগল, ইঁদুর, মুরগি, শূকর আর কবুতর হত্যার মধ্য দিয়ে এ উৎসব আবার শুরু করা হয়েছে। নেপালের প্রত্যন্ত ঐ এলাকা ঘুরে এসে একজন অধিকারকর্মী জানিয়েছিলেন, সেখানে কয়েক হাজার মহিষ হত্যা করা হয়। 

সর্বশেষ ২০১৪ সালে এই উৎসবে প্রায় দুই লাখ প্রাণী হত্যা করা হয়েছিল। অদ্ভুত এই প্রথার শুরু হয় প্রায় আড়াইশ বছর আগে। তখন এক পুরোহিত বলেছিলেন, তিনি স্বপ্নে দেখেছেন- শক্তির দেবী গাধিমাই তাকে বলেছেন, কারাগার থেকে তাকে মুক্ত করতে হলে রক্ত ঝরাতে হবে।

এরপর থেকেই লাখ লাখ ভক্ত ভারত ও নেপাল থেকে নেপালের বারিয়ারপুরে গাধিমাই দেবীর মন্দিরে যান। তাদের কাছে এই উৎসবে অংশ নেওয়া নিজেদের একটি ইচ্ছা পূরণ করার সুযোগের মতো। প্রাণী অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই এর বিরুদ্ধে কথা বলছেন। কারণ প্রাণী বলিদান অত্যন্ত নিষ্ঠুর একটি রীতি। ২০১৫ সালে হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল এবং অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্কের নেপাল বিজয় ঘোষণা করে, পশু বলিদান নেপালে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বারিয়ারপুর গাধিমাই মন্দিরের চেয়ারম্যান রাম চন্দ্র শাহ অবশ্য বলেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ভক্ত হিন্দুদের অনুরোধ করা যেতে পারে, যেন তারা দেবীর উদ্দেশ্যে পশু বলি না দেন। কিন্তু তাদের এ কাজ থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করা যাবে না এবং এই রীতিও পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না। 

দুই দিনের এই উৎসব শুরু হওয়ার আগে পশুর আনা নেওয়া আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। অনুমোদন ছাড়া সীমান্ত দিয়ে পশু পারাপার করার সময় সেগুলো জব্দ করতে শুরু করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

এ কাজে নেপাল সরকার কোনোরকম সহায়তা করেনি বলে জানিয়েছেন উৎসবের চেয়ারম্যান মতিলাল কুশোয়া। তা সত্ত্বেও নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে বারিয়ারপুরের মন্দিরে পশু আনা হয়।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) থেকে ২০০ কসাই তাদের কাজকর্ম শুরুর প্রস্তুতি নেন। এই আয়োজনের মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যের খাবার ও তাঁবু। এর পুরোটাই করা হয় দানের অর্থ থেকে। উৎসব আয়োজক কমিটির সদস্য বীরেন্দ্রা প্রাসাদ যাদব বলেন, আমরা এই উৎসবে সমর্থন না দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু মানুষজনের এই প্রথায় বিশ্বাস রয়েছে এবং এখানে উৎসর্গ করার জন্য তারা আসে।

ওডি/এনএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড