• রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নারীরা কেন গণিতে পিছিয়ে?

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

২৫ নভেম্বর ২০১৯, ১০:২৪
গণিত
ছবি : প্রতীকী

নারী ও পুরুষের বৈষম্য কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে শুরু হয় না। শুরুটা হয় মানুষের জন্মের ঠিক পরই। আর এই বৈষম্য করা হয় বুদ্ধিমত্তা এবং মানসিক দক্ষতাকে কেন্দ্র করেও। সবসময় পুরুষেরা নারীদের চাইতে বেশি গণিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ- এমনটাই ভেবে আসা হয়েছে। কিন্তু ব্যাপারটি কি আসলেই তাই? এই প্রশ্নের পক্ষে বিপক্ষে এতদিন ধরে চলে এসেছে নানা মতামত। সম্প্রতি গবেষকেরা জানিয়েছেন নিজেদের মতামত। 

গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। নারীরা পুরুষের চাইতে বুদ্ধিমত্তার দিক দিয়ে কম দক্ষ, গণিত, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে কম পারদর্শী, এর বিপক্ষে কথা বলেছেন তারা। চলুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক- 

সম্প্রতি কার্নেগী মেলোন ইউনিভার্সিটিতে করা এক গবেষণায় দেখা যায় যে, নারী ও পুরুষ একইরকম বুদ্ধিমত্তা এবং গণিতে পারদর্শিতা নিয়ে জন্ম নেয়। গবেষকেরা ১০৪ জন শিশুর (৩ থেকে ১০ বছর বয়সী, ছেলে ও মেয়ে) মস্তিষ্ক স্ক্যান করেন এবং তাদের ওপরে পরীক্ষা চালান। এতে দেখা যায় যে, তাদের গণিত সংক্রান্ত কোনো ব্যাপারে খুব বেশি ভিন্নতা নেই। এক্ষেত্রে তাদের পারদর্শিতা এবং বোঝার ক্ষমতা একই। লিঙ্গভেদে ছেলে ও মেয়েদের মস্তিষ্ক একইভাবে কাজ করে বলে জানান গবেষকেরা।  

এবারই প্রথম লিঙ্গের ওপরে ভিত্তি করে শিশুদের গণিতে দক্ষতা যাচাই করে দেখা হলো। এক্ষেত্রে শিশুদের গণিতের ওপরে ধারণকৃত ভিডিও দেখানো হয় এবং সেগুলো তাদের মস্তিষ্ককে কতটা প্রভাবিত করে সেটা দেখা হয়। ছেলে ও মেয়েদের মধ্যকার এই প্রভাব যখন পাশাপাশি রাখা হয়, তখন সেখানে খুব একটা পরিবর্তন ধরা পড়েনি। 

ছেলে ও মেয়ে- সবাই এই ভিডিওগুলোতে এবং গণিতে একই রকমভাবে সংযুক্ত ছিল মানসিকভাবে। বয়ঃসন্ধিকালের ওপরে কি এই দোষটা চাপানো যায়? এই পরিবর্তনের কারণেই কি জীবনের একটা পর্যায়ে এসে গণিতে ছেলেদের চাইতে পিছিয়ে পড়ে মেয়েরা? গবেষকেরা জানান, এই ব্যাপারটি সামাজিক অবস্থার কারণেও হতে পারে। 

মূলত, আপনি যখন বারবার কাউকে বোঝাবেন বা এই অনুভূতি দেবেন যে সে এই কাজটা অন্য কারো চাইতে কম পারে, তখন তার মধ্যে একরকম ধারণা জন্মাবে। আর সেই ধারণা অবশ্যই নেতিবাচক হবে। আমাদের সমাজে বহুকাল ধরে এই ধারণা চলে আসছে যে, একটি মেয়ে গণিতে পুরুষের চাইতে পিছিয়ে থাকবে। তাই হয়তো মেয়েরা সেই চেষ্টা চালায় না। অথবা, চেষ্টা চালানোর জন্য যে চিন্তা সেটাই তাদের মাথায় খেলা করে না।

মোটকথায় বলতে গেলে কয়েকটি ব্যাপার এখানে চলে আসে, যেগুলো একজন নারীকে গণিতে দুর্বল হতে প্রভাবিত করে- 

১। একটি মেয়ে বারবার তার চারপাশের পরিবেশ থেকে যদি এই ধারণা নিতে থাকে যে, গণিত নারীদের জন্য নয়, তাহলে এ ব্যাপারে সে শুধু যে আগায় না তাই নয়। একইসঙ্গে, এ সংক্রান্ত ব্যাপারে সে নিজের মধ্যে এক রকমের উদ্বিগ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের অভাব তৈরি করে ফেলে।

২। সামাজিকভাবে নারীদের জন্য মানানসই কিছু কাজকে প্রাধান্য দেওয়ায় সেগুলোতেই নারীরা নিজেদের সবচাইতে বেশি ভালো বলে মনে করে। ফলে, অন্যান্য বিষয়ে তাদের জ্ঞান এবং আগ্রহ কমে যায় শুরু থেকেই।

৩। এতকিছুর পরেও যাদের মধ্যে গণিতে বা প্রযুক্তিতে দক্ষতা দেখানোর ইচ্ছে করে, তাদের আমাদের সামাজিক অবস্থা বাধা প্রদান করে।

এমন নয় যে, প্রত্যেকটি নারীই গণিতে খুব ভালো। তবে ব্যাপারটি পুরুষের ক্ষেত্রেও সত্যি। সব পুরুষও গণিতে ভালো নন। ঠিক তেমনই কিছু নারী গণিতে ভালো না হলেও আরও অনেকেই বেশ ভালো। 

তবে অনুশীলনের অভাবে তাদের মধ্যে এ ব্যাপারে অনগ্রসরতা কাজ করে। এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে আপনার শিশুকে ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে শিক্ষা দিন এবং তাকে উৎসাহ দিন। সে যে পথটি বেছে নেবে পড়াশোনায়, তাকে সেদিকে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সাহায্য করুন। এতে করে নারী বা পুরুষ হয়ে নয়, মানুষ হয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে সে।

সূত্র- হেলথলাইন

ওডি/এনএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড