• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শিশুর জীবনের রঙের প্রভাব

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

১০ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৩৯
রং
ছবি : প্রতীকী

রঙের প্রতি শিশুদের একটা বাড়তি আকর্ষণ থাকেই। কিন্তু কেন? কিন্তু শিশুরা কেন রং এত পছন্দ করে? এর পেছনে কী কারণ রয়েছে? শিশুদের জন্য রঙের এই কাজ করাটা বেশ মজার। রঙের ধরন এবং পরিমাণ ও উজ্জ্বলতাভেদে তাদের আকর্ষণের ব্যাপারটাও কম এবং বেশি হয়ে থাকে। আপনি কি আপনার শিশুর জন্য রঙিন কোনো বই বা জামা কিনতে যাচ্ছেন? রং ও শিশুদের মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে, চলুন, সেটা জেনে নেওয়া যাক- 

উজ্জ্বলতা বেশি পছন্দ- 

একটু খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন যে, শিশুরা উজ্জ্বল রঙের দিকে একটু বেশিই আগ্রহী হয়। কোনো রঙিন জিনিস দেখলে সেটাকে না ছুঁয়ে পারে না, খেলা শুরু করে। এর কারণ হলো, শিশুদের কাছে রং খেলার একটি মাধ্যম। তারা রঙিন কিছু দেখলে তাই সেটার সাথে খেলতে শুরু করে। নতুন কিছু শেখার জন্য আগ্রহ জাগায় তাদের মধ্যে রং। রঙের মধ্যে যে উষ্ণতা থাকে সেটা শিশুদের মধ্যকার মানসিক উত্তেজনার সাথে মিলে যায়। তাই রঙিন আর উজ্জ্বল জিনিসের প্রতি তারা আগ্রহী হয় বেশি।  

রঙের আবেগীয় দিক- 

রং আমাদের কাছে কোনো একটি জিনিসের প্রতীক হয়ে কাজ করে। কখনো সেটা স্বাদ, কখনো গন্ধ, কখনো অনুভূতি। এই যেমন- সবুজ রং দেখলে সেটার সাথে আমরা গাছের পাতা বা লেবুর তুলনা করে ফেলি। আমাদের মস্তিষ্ক এভাবেই ভাবে। কিন্তু যে রঙের সাথে আমাদের পরিচিত এমন কিছুর কোনো সম্পর্ক থাকে না, সেটাকে মস্তিষ্ক আবেগীয়ভাবে নিয়ে নেয়। 

এক্ষেত্রে রং আমাদের মস্তিষ্কে যে আবেগ তৈরি করে সেটাই আমাদের অনুভূতিতে পরিণত হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ রংই অজানা থাকে। তাই তাদের কাছে রং আবেগীয় জায়গা বেশি নিয়ে নেয়। রং যত উজ্জ্বল হয় সেটি তাদেরকে তখন বেশি প্রভাবিত করে। 

খেয়াল করলে আপনি দেখতে পাবেন যে, একজন শিশুকে আপনি যদি কোনো সাদা-কালো ছবি দেখান সেটার মধ্য থেকে খুব বেশি খুঁটিনাটি তারা মনে রাখতে পারে না। অন্য দিকে, রঙিন কোনোকিছুর খুঁটিনাটি ব্যাপারগুলো তারা বেশি মনে রাখতে পারে। 

প্রকৃতির ছোঁয়া-

প্রকৃতি আমাদের সবাইকেই টানে। এর বাইরে নয় শিশুরাও। প্রকৃতির ছোঁয়া আছে এমন যেকোনো রং তাই আপনার শিশুকে আকর্ষণ করবে আরও অনেক বেশি। গাছ, ফুল বা প্রকৃতির সাথে সংযুক্ত এমন যেকোনো কিছুই আপনার শিশুকে আরও বেশি প্রভাবিত করতে সাহায্য করবে। শিশুদের চোখ রঙকে অনেক বেশি ধারণ করতে সাহায্য করে। তাদের কাছে রং ভিন্ন ভিন্ন অর্থ তৈরি করে। একজন শিশুর নিজস্বতার প্রকাশও পায় তার পছন্দ করা রঙের মাধ্যমেই।

রঙের ভারসাম্য- 

আপনি হয়তো চাইবেন যে আপনার শিশু তার পোশাকের রং মিলিয়ে পরুক। কিন্তু শিশুদের কাছে রঙের এই ভারসাম্য বজায় রাখাটা পছন্দের নাও হতে পারে। যেমনটা আগেই বলেছি, তারা নতুন কিছু খুঁজতে পছন্দ করে। এক্ষেত্রে নানান রঙের মিশেল তাদেরকে আনন্দ দেয়। 

এছাড়া, রং আর বয়সের বেশ বড় একটি সম্পর্ক রয়েছে। আর সেটি হলো, শিশুরা রঙকে আলাদা করতে পারে না। তাদের রঙের শুরুটা হয় আলো ও অন্ধকার অর্থাৎ, সাদা এবং কালো দিয়ে।

পরবর্তীতে সেই রং ভিন্ন ভিন্ন রঙে রুপান্তরিত হয়। তবে একটা নির্দিষ্ট বয়সের আগে রঙকে চেনার ক্ষমতা তাদের মধ্যে কম থাকে। 

শিশুদের জন্য রং মানেই একটা নতুন জগত। এই রঙের মাধ্যমেই নিজেদের পৃথিবীকে প্রাথমিকভাবে চিনতে শেখে তারা। রং তাকে যেমন কাঁদাতে পারে, তেমনই হাসাতেও পারে। ইতিবাচক রংগুলো তাকে ধীরে ধীরে নিজেকে ভালো রাখতে, মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে, ইতিবাচক থাকতে সাহায্য করে। 

তাই, শিশুর হাতে রঙিন কিছু তুলে দেওয়া বা তাকে রঙিন কাপড় পরানো মানেই হেলাফেলার কিছু ভাববেন না। বরং তাকে বুঝুন। রং তাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই তাকে রঙের মাধ্যমে ভালোর দিকে প্রভাবিত করুন।

সূত্র- চাইল্ডস মাইন্ড ইনোভেশন।

ওডি/এনএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড