• শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

এপার থেকে ওপার বাংলায় গিয়ে খ্যাতি কুড়িয়েছিলেন যারা

১৮ জুন ২০১৯, ১১:৫৩
ব্যক্তিত্ব
এপার বাংলা থেকে ওপার বাংলায় গিয়ে পরিচিতির শীর্ষে ছিলেন তারা

ভারতীয় উপমহাদেশ সময়ের বাঁকে বাঁকে খণ্ড বিখণ্ডিত হয়েছে বারংবার। বিভিন্ন শাসকের দ্বারা হয়েছে বিভাজিত। বৃটিশরা এখানে কলোনি গড়েছে। তাদের ’ভাগ করা- শাসন করা’র নীতিতে এ ভারত সবশেষ খুব বাজেভাবে বহুখণ্ডিত হয় । বৃটিশরা এই উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতা নামক যে বিষবাষ্প রেখে যায় তাতে ’বাংলা’ অঞ্চল বিভাজিত হয়। একই সঙ্গে ভাষা, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও জাতিসত্তার বিভাজন দেখা যায়। ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজিত হয় ভারত ও পাকিস্তান। বাংলা ভাষাভাষীর কিছু অংশ পড়ে ভারতে ও কিছু অংশ পাকিস্তানের পূর্ব অংশে। মুসলমান সংখাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানের অনেক হিন্দু পরিবার ভারতে যেতে বাধ্য হয়। 

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়ে এসব বাস্তুচ্যুতরা সেখানে আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছেন। অনেকে দেশভাগের যন্ত্রণা বুকে পুষে রেখেছেন, অনেকে নিয়তির পরিহাস ভেবে ভুলে গেছেন। 

ভারতে এমন অনেক গুণীজন রয়েছেন যাদের আদি বাসস্থান ছিল বর্তমান বাংলাদেশে। তাদের কেউ কবি, কেউ বা শিক্ষক, কেউ বা শিল্পী। এছাড়াও অন্যান্য পেশায় তারা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে হয়ে উঠেছেন মহান। আজ রইলো তেমন কয়েকজন গুণী ব্যক্তির পরিচয়- 

ঋত্বিক ঘটক 

দেশভাগের যন্ত্রণা সবচেয়ে বেশি যে মানুষটিকে কাঁদিয়েছে তিনি ঋত্ত্বিক ঘটক। দেশভাগের পর সৃষ্ট বিভিন্ন সঙ্কট তুলে এনেছেন সেলুলয়েডে। বাংলা চলচ্চিত্রকে তিনি নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়। তাকে মৃণাল সেন ও সত্যজিতের সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে। 

ঋত্বিক

ঋত্বিক ঘটক 

৪ নভেম্বর, ১৯২৫ সালে ঢাকায় জন্ম নেওয়া ঋত্বিক ঘটককে দেশভাগের পর চলে যেতে হয় কলকাতায়। দেশভাগের গভীর যন্ত্রণা থেকে তিনি প্রায়শই বলতেন, ‘বাংলা ভাগটাকে আমি কিছুতেই গ্রহণ করতে পারিনি– আজও পারি না। ইতিহাসে যা হয়ে গেছে তা পাল্টানো ভীষণ মুশকিল, সেটা আমার কাজও নয়। সাংস্কৃতিক মিলনের পথে যে বাধা, যে ছেদ, যার মধ্যে রাজনীতি-অর্থনীতি সবই এসে পড়ে, সেটাই আমাকে প্রচণ্ড ব্যথা দিয়েছিল’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষ, সাতচল্লিশের দেশভাগ পরবর্তী সে সময়ের কলকাতায় শরণার্থীদের অস্তিত্বের সঙ্কট তাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে এবং পরবর্তী জীবনে তার চলচ্চিত্রে এর স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যমকে ঋত্বিক ব্যবহার করেছেন। 

মর্মাহত মানুষদের সেই বেদনা তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর পরিচালিত বাড়ী থেকে পালিয়ে, নাগরিক, অযান্ত্রিক, মেঘে ঢাকা তারা, কোমল গান্ধার, তিতাস একটি নদীর নাম, সুবর্ণরেখা, যুক্তি তক্কো আর গপ্পো চলচ্চিত্রে। এই চলচ্চিত্রগুলোর মাধ্যমেই তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে শক্তভাবে জায়গা করে নেন। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৬ সালে বাংলা চলচ্চিত্রের এই মহা পরিচালক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

হেমাঙ্গ বিশ্বাস

‘হবিগঞ্জের জালালী কইতর, সুনামগঞ্জের কুড়া, সুরমা নদীর গাংচিল আমি, শূন্যে দিলাম উড়া।
শূন্যে দিলাম উড়ারে ভাই যাইতে চান্দের চর, ডানা ভাইঙ্গা পড়লাম আমি কৈলত্তার উপর। তোমরা আমায় চিননি… তোমরা আমায় চিননি…তোমরা আমায় চিন্ছনি।’

এই বিখ্যাত গানটি লেখা হেমাঙ্গ বিশ্বাসের। গণমানুষের জন্য গেয়েছেন গান। অসংখ্য বাংলা গানে সুর সংযোজন করেছেন তিনি। বাংলা গণসঙ্গীতের প্রথম সারির স্রষ্টা তিনি।

হেমাঙ্গ বিশ্বাস বর্তমান বাংলাদেশের সিলেটের মিরাশির বাসিন্দা ছিলেন। হবিগঞ্জ হাইস্কুল থেকে পাশ করার পর তিনি শ্রীহট্ট মুরারিচাঁদ কলেজে ভর্তি হয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। পুরো রাজনৈতিক জীবনে বারংবার কারাবাস যাপন করতে হয়েছে তাকে।  

হেমাঙ্গ

হেমাঙ্গ বিশ্বাস

১৯৪৭-এর স্বাধীনতাকে ভুয়া অভিহিত করে তৎকালীন বড়লাট লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে ব্যঙ্গ করে তিনি লেখেন : মাউন্টব্যাটেন সাহেব ও তোমার সাধের ব্যাটন, কার হাতে থুইয়া গেলায় ও ১৯৮১ সালে তিনি তাঁর সঙ্গীতদল ‘মাসসিঙ্গার্স’ নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। ঘুরে আসেন জন্মস্থান হবিগঞ্জ থেকেও। 

মৃণাল সেন

ভারতীয় বাংলা সিনেমার তিন মহান জনের একজন মৃণাল সেন। তিনি একাধারে চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও লেখক। ভারতে ‘প্যারালাল’ বা সমান্তরাল সিনেমার জনক বলা হয় তাকে। 

১৯২৩ সালের ১৪ মে জন্ম নেওয়া এই মহান চলচ্চিত্রকারের ছেলেবেলা কাটে বাংলাদেশের ফরিদপুরে। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে চলে আসেন কলকাতায়। এরপর স্কটিশ চার্চ কলেজে পদার্থবিদ্যায় পড়াশোনা শেষ করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

মৃণাল

মৃণাল সেন

তিনি রাজনীতিতে আসেন একজন বামপন্থী হিসেবে। কখনো সদস্য না হয়েও কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য হিসেবে মৃণাল সেন ভারতের পার্লামেন্টেও গেছেন।

ভুবন সোম, কোরাস, মৃগয়া ও আকালের সন্ধানেসহ ১৬টি ছবির জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া তাঁর অন্যান্য অসামান্য সৃষ্টির মধ্যে আছে খারিজ, কলকাতা ৭১, পুনশ্চ, একদিন প্রতিদিন, পদাতিক প্রভৃতি।

পিসি সরকার  

পুরো নাম প্রতুল চন্দ্র সরকার। শুধু ভারতবর্ষ নয় সারা বিশ্বেই তিনি পরিচিত ছিলেন একজন নন্দিত জাদুশিল্পী হিসেবে। তিনি মঞ্চে ও তারপর টেলিভিশনে দেখিয়েছিলেন তার সব বিখ্যাত জাদু। ১৯১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বর্তমান বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার অশোকপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

মাত্র ২০ বছর বয়সে গণিতশাস্ত্রে অনার্স পাস করে জাদুকেই পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন পিসি সরকার। তিনি বহু প্রাচীন জাদু খেলার মূল সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন। তার অন্যতম প্রদর্শনী ছিল ‘ইন্দ্রজাল প্রদর্শনী’ ও ‘ওয়াটার অব ইন্ডিয়া’।

পিসি

পিসি সরকার  

ভারত সরকার মহান এই জাদুশিল্পীর নামে কলকাতাতে একটি সড়কের নামকরণ করেছে। ১৯৬৪ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। তিনি ১৯৪৬ ও ১৯৫৪ সালে জাদুর অস্কার নামে পরিচিত ’দ্য ফিনিক্স’ (আমেরিকা) ও জার্মান মেজিক সার্কেল থেকে “দ্য রয়াল মেডিলিয়ন” পুরস্কার পান।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় 

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক, যিনি শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য গল্পও লিখেছেন। ১৯৩৫ সালের ২রা নভেম্বর, ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন শীর্ষেন্দু। এখানে কাটে তার জীবনের প্রথম ১১টি বছর। এরপর দেশভাগের সময় পরিবারের সঙ্গে চলে যেতে হয় ওপার বাংলায় অর্থাৎ কলকাতায়। দেশভাগের যন্ত্রণা তার উপন্যাসে উঠে এসেছে। নিজেকে আজও উদ্বাস্তু বলে দাবি করেন তিনি। তার ‘ঘুণপোকা’ উপন্যাসে দেশভাগের বেশ কিছু ব্যাপার উঠে এসেছে, যা তার নিজের অভিজ্ঞতার আদলেই গড়া।

শীর্ষেন্দু

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় 

তার সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে মানবজমিন, দূরবীন, গয়নার বাক্স, কাপুরুষ, বিকেলের মৃত্যু, গুহামানব ও উজান (লেখকের শৈশব স্মৃতি)। শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৮৫ সালে বিদ্যাসাগর পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও তিনি আনন্দ পুরস্কার (১৯৭৩ ও ১৯৯০),মানবজমিন উপন্যাসের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (১৯৮৮) ও বঙ্গবিভূষণ (২০১২) লাভ করেন। 

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার, সম্পাদক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট। বিশ শতকের শেষভাগে সক্রিয় একজন প্রথিতযশা জনপ্রিয় বাঙালি সাহিত্যিক। প্রায় ৪০ বছর তিনি বাংলা সাহিত্যে রাজত্ব করেছেন। 

জীবনানন্দের পর আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রভাবশালী ও প্রধানতম কবি হিসেবে তাঁকে ধরা হয়। আধুনিক ও রোমান্টিক এই কবির জন্ম গ্রামে। বর্তমান বাংলাদেশের অন্তর্গত মাদারীপুর জেলায়, কালকিনি থানার মাইজপাড়া। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি কলকাতায় চলে যান। সেখানেই বেড়ে ওঠা। 

সুনীল

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হল একা, আত্মপ্রকাশ, আমি কী রকমভাবে বেঁচে আছি, যুগলবন্দী (শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে), হঠাৎ নীরার জন্য, রাত্রির রঁদেভূ, শ্যামবাজারের মোড়ের আড্ডা, অর্ধেক জীবন, অরণ্যের দিনরাত্রি, অর্জুন, প্রথম আলো, সেই সময়, পূর্ব পশ্চিম, ভানু ও রাণু, মনের মানুষ ইত্যাদি। "কাকাবাবু-সন্তু" নামে এক জনপ্রিয় গোয়েন্দা সিরিজের রচয়িতা তিনি। 

শচীন দেব বর্মণ 

এস ডি বর্মন বাংলা ও হিন্দি গানের কিংবদন্তি। তিনি অন্যতম জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক, সুরকার, গায়ক ও লোকসঙ্গীত শিল্পী। বিভিন্ন সিনেমায় সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে তিনি কাজ করেছেন। বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে তিনি এখনো বেঁচে আছেন। 

১৯০৬ সালের পয়লা অক্টোবর তৎকালীন বৃটিশ ভারত তথা বর্তমান বাংলাদেশের কুমিল্লায় জন্ম নেওয়া বর্মণ পড়াশোনা শেষ করে ১৯৪৪ সাল থেকে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।  

তার লেখা গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- শোন গো দখিন হাওয়া, বিরহ বড় ভাল লাগে, সুবল রে বল বল, বর্ণে গন্ধে ছন্দে গীতিতে, কে যাস রে ভাটি গাঙ বাইয়া এবং ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে লেখা তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল।

শচীন

শচীন দেব বর্মণ 

তার উল্লেখযোগ্য সঙ্গীত পরিচালনার মধ্যে রয়েছে- যদি দখিনা পবন, প্রেমের সমাধি তীরে (কাব্যগীতি), নিশীথে যাইও ফুলবনে, বধুঁগো এই মধুমাস, ওরে সুজন নাইয়া।  
১৯৫৮ সালে ভারতের সঙ্গীতে নাটক একাডেমি এবং এশিয়ান ফিল্ম সোসাইটি লন্ডন থেকে সম্মাননা লাভ করেন। এছাড়া ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকার হতে ‘পদ্মশ্রী’ খেতাব লাভ করেন। 

বুদ্ধদেব বসু 

বাংলা সাহিত্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য পথিকৃত বুদ্ধদেব বসু। তিনি ছিলেন গত শতাব্দীর বিশ ও ত্রিশের দশকের নতুন কাব্যরীতির সূচনাকারী অন্যতম কবি। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, গল্পকার, অনুবাদক, সম্পাদক ও সাহিত্য-সমালোচক। 

রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় যে কয়জন সাহিত্যিক রবীন্দ্র বলয়ের বাইরে এসে সাহিত্য রচনার স্পর্ধা দেখিয়েছিলেন তার মধ্যে বুদ্ধদেব অন্যতম। ইংরেজি ভাষায় কবিতা, গল্প, প্রবন্ধাদি রচনা করে তিনি ইংল্যান্ড ও আমেরিকায়ও প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। 

বুদ্ধদেব

বুদ্ধদেব বসু 

১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর অবিভক্ত ভারতবর্ষের কুমিল্লায় (বর্তমান বাংলাদেশ) জন্মগ্রহণ করেন। তার কৈশোর ও যৌবনের প্রথমভাগ কেটেছে কুমিল্লা,নোয়াখালী আর ঢাকায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ শেষে ১৯৩৪ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কলকাতা রিপন কলেজে ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা করেন। এরপর ১৯৪৫ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত স্টেটসম্যান পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। ১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গের পেনসিলভেনিয়া কলেজ ফর উইমেনে শিক্ষকতা করেন তিনি ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বুদ্ধদেব বসু তুলনামূলক ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতার মধ্যে রয়েছে- মর্মবাণী, বন্দীর বন্দনা, পৃথিবীর পথে, কঙ্কাবতী, শীতের প্রার্থনা: বসন্তের উত্তর, যে-আঁধার আলোর অধিক, মরচেপড়া পেরেকের গান একদিন: চিরদিন (১৯৭১), স্বাগত বিদায় (১৯৭১)। 

এছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- সাড়া, সানন্দা, লাল মেঘ, বাসরঘর, পরিক্রমা কালো হাওয়া, তিথিডোর, নির্জন স্বাক্ষর, মৌলিনাথ, নীলাঞ্জনের খাতা, পাতাল থেকে আলাপ, রাত ভ'রে বৃষ্টি, গোলাপ কেন কালো ও বিপন্ন বিস্ময়।   

তিনি লিখেছেন বিখাত সব গল্প। এসবের মধ্যে রয়েছে- রজনী হ'ল উতলা, অভিনয়, অভিনয় নয়, রেখাচিত্র, হাওয়া বদল শ্রেষ্ঠ গল্প একটি জীবন ও কয়েকটি মৃত্যু। তিনি প্রবন্ধ, অনুবাদ ও সাহিত্য সমালোচনার জন্যও বিখ্যাত। 

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ 

ইনি একজন বাঙালি সঙ্গীতজ্ঞ। যন্ত্রসঙ্গীতের বিশাল মঞ্চে তার ছিল দৃপ্ত বিচরণ। সেতার ও সানাই এবং রাগ সঙ্গীতে তার ছিল বেশ দখল। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বাহন হলেও সাক্সোফোন, বেহালা, ট্রাম্পেটসহ অনেক বাদ্যযন্ত্রে তিনি জয় করেছেন বিশ্ব।  

১৮৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে সঙ্গীতের এই গুরু জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সঙ্গীতজগতে এক নতুন ঘরানার প্রবর্তন করেন, যা ‘আলাউদ্দিন ঘরানা’ বা শ্রেণী ‘মাইহার ঘরানা’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

ওস্তাদ

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ 

তাঁর সন্তান ওস্তাদ আলী আকবর খান ও অন্নপূর্ণা দেবীও সঙ্গীত জগতে অনন্য মহিমায় মহিমান্বিত। পণ্ডিত রবি শঙ্কর, পণ্ডিত নিখিল ব্যানার্জী, বসন্ত রায়, পান্নালাল ঘোষসহ আরও অনেকে এই মহান সঙ্গীতগুরুর শিষ্য ছিলেন। 

ইংল্যান্ডের রানী আলাউদ্দিনকে ’সুরসম্রাট’ উপাধী দেন। ভারতের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব পদ্মভূষণ ছাড়াও পদ্মবিভূষণ, বিশ্ব ভারতীয় দেশীকোত্তমসহ দিল্লি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাভ করেন সম্মানসূচক  সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি।

অধ্যাপক তপন রায়চৌধুরী

ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষের ইতিহাস রচনার জন্য যিনি প্রসিদ্ধ হয়ে আছেন তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতীয় ইতিহাস ও সভ্যতা বিষয়ের শিক্ষক তপন রায়চৌধুরী। 
১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন বৃটিশ ভারতের বরিশালে (বর্তমান বাংলাদেশ) জন্ম নেওয়া তপন দেশভাগের পর ভারতে চলে আসেন। 

তপন

অধ্যাপক তপন রায়চৌধুরী

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকেঁ সম্মানসূচক ডি, লিট, উপাধি প্রদান করে। 

বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভাষায় তাঁর বহু গ্রন্থ এবং পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও গবেষণামূলক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। কলকাতার পাক্ষিক দেশ পত্রিকায় ২০০৯ সালে তাঁর আত্মজীবনী ধারাবাহিকভাবে মূদ্রিত হয়। ১৯৮৭ সালে তাঁর লেখা গ্রন্থ ইউরোপ রিকনসিডার্ড রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত হয়। রোমন্থন ও ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা তাঁর লেখা প্রথম বাংলা বই। ২০০৭ সালে তাকে পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করে ভারত সরকার। 

অমিয় কুমার দাশগুপ্ত  

অসাধারণ মেধাবী এবং সৃষ্টিশীল এই অর্থনীতিবিদ ও গবেষক উন্নয়ন অর্থনীতির একজন সত্যিকার পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন একজন মহান শিক্ষক। কল্পনা, কৌতুক, সহজবোধ্য বর্ণনা দিয়ে ছাত্রদের কাছে তিনি অর্থনীতির জটিল সব বিষয়কে উপস্থাপন করতেন। 

১৯০৩ সালের ১৫ জুলাই বাংলাদেশের বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় গৈলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২৬ এর পর ২০ বছর অমিয় দাশগুপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন।  ১৯৪৬ সালের দিকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়ে গেলে  অমিয় দাশগুপ্ত কটকের রাভেনশ কলেজের অপেক্ষাকৃত শান্ত পরিবেশে চলে যান।
অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন অর্থনৈতিক তত্ত্বে ‘সারপ্লাস’ ধারণার ব্যবহার, মজুরি নীতির তত্ত্ব, পরিকল্পনা ও উন্নয়নের অর্থনীতি, ‘কৃচ্ছ্রতার অর্থনীতি’র চাহিদা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে তার ডজনখানেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা রয়েছে। 

মিঠুন চক্রবর্তী

মিঠুন চক্রবর্তী ভারতের একজন খ্যাতিমান চলচ্চিত্র অভিনেতা, সমাজ সংগঠক এবং উদ্যোক্তা। ১৯৫০ সালের ১৬ জুন বাংলাদেশের বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার আসল নাম 'গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী'। 

মিঠুন

মিঠুন চক্রবর্তী

'অরিয়েন্টাল সেমিনারী'তে শিক্ষাজীবন শুরু করেন মিঠুন। তিনি বরিশাল জিলা স্কুলে পড়েছিলেন।পরবর্তীতে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে রসায়নে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন।
জনপ্রিয় পরিচালক মৃণাল সেনের পরিচালনায় ১৯৭৬ সালে 'মৃগয়া'র মাধ্যমে চলচ্চিত্রে তার প্রবেশ। এ ছবির মাধ্যমেই তিনি 'সেরা অভিনেতা' হিসেবে ভারতের 'জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার' লাভ করেন।তিনি এ পর্যন্ত ৩০০ টিরও অধিক হিন্দী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলা, পাঞ্জাবী, তেলেগু, ওড়িয়া, ভোজপুরী চলচ্চিত্রেও অংশ নিয়েছেন। তিনি মনার্ক গ্রুপের স্বত্ত্বাধিকারী, যা অতিথি সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।

অসামান্য অভিনয় নৈপুণ্যের জন্য এ ছবির মাধ্যমে তিনি সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। অভিষেকের পর তিনি দো আনজানে (১৯৭৬) এবং ফুল খিলে হ্যায় গুলশান গুলশান (১৯৭৭) ছবি দু'টোয় সহ-চরিত্রে অভিনয় করেন। কিন্তু তাতে তিনি কোন গুরুত্ব ও সফলতা পাননি।

মিঠুন চক্রবর্তী ২০০৯ সাল থেকে রিয়েলিটি টিভি সিরিজ ডান্স ইন্ডিয়া ডান্সে প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন।

সুচিত্রা সেন

জনপ্রিয় ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পী সুচিত্রা সেন ১৯৩১ সালের পাবনা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারতে (বর্তমান বাংলাদেশ) জন্ম নেন। তাঁর জন্মগত নাম ছিল রমা দাশগুপ্ত। 
তিনি মূলত বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। বাংলা চলচ্চিত্রে উত্তম কুমারের বিপরীতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।

সুচিত্রা

সুচিত্রা সেন 

১৯৬৩ সালে সাত পাকে বাঁধা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে সুচিত্রা সেন "সিলভার প্রাইজ ফর বেস্ট অ্যাকট্রেস" জয় করেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি কোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মান প্রদান করে। শোনা যায়, ২০০৫ সালে তাঁকে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল; কিন্তু সুচিত্রা সেন জনসমক্ষে আসতে চান না বলে এই পুরস্কার গ্রহণ করেননি। ২০১২ সালে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সর্বোচ্চ সম্মাননা বঙ্গবিভূষণ প্রদান করা হয়।

১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রেসিডেন্সির (অধুনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অন্তর্গত সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানার অন্তর্গত সেন ভাঙ্গাবাড়ী গ্রাম সুচিত্রা সেনের পৈত্রিক নিবাস।) পাবনা জেলার সদর পাবনায় সুচিত্রা সেন জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন এক স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মা ইন্দিরা দেবী ছিলেন গৃহবধূ। তিনি ছিলেন পরিবারের পঞ্চম সন্তান ও তৃতীয় কন্যা। পাবনা শহরেই তিনি পড়াশোনা করেছিলেন। তিনি ছিলেন কবি রজনীকান্ত সেনের নাতনী।

১৯৪৭ সালে বিশিষ্ট শিল্পপতি আদিনাথ সেনের পুত্র দিবানাথ সেনের সঙ্গে সুচিত্রা সেনের বিয়ে হয়। তাঁদের একমাত্র কন্যা মুনমুন সেনও একজন খ্যাতনামা অভিনেত্রী। ১৯৫২ সালে সুচিত্রা সেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত হন।

উত্তম কুমারের বিপরীতে সাড়ে চুয়াত্তর ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। ছবিটি বক্স-অফিসে সাফল্য লাভ করে এবং উত্তম-সুচিত্রা জুটি আজও স্মরণীয় হয়ে আছে। বাংলা ছবির এই অবিসংবাদিত জুটি পরবর্তী ২০ বছরে ছিলেন আইকন স্বরূপ।

১৯৫৫ সালের দেবদাস ছবির জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেন, যা ছিল তার প্রথম হিন্দি ছবি। উত্তম কুমারের সাথে বাংলা ছবিতে রোমান্টিকতা সৃষ্টি করার জন্য তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বিখ্যাত অভিনেত্রী। ১৯৬০ ও ১৯৭০ দশকে তার অভিনীত ছবি মুক্তি পেয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পরও তিনি অভিনয় চালিয়ে গেছেন, যেমন হিন্দি ছবি আন্ধি। এই চলচ্চিত্রে তিনি একজন নেত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। বলা হয় যে চরিত্রটির প্রেরণা এসেছে ইন্দিরা গান্ধী থেকে। এই ছবির জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং তার স্বামী চরিত্রে অভিনয় করা সঞ্জীব কুমার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার জিতেছিলেন। হিন্দি চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর দাদাসাহেব সম্মাননা প্রদান করে ভারত সরকার। চলচ্চিত্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এ সম্মাননা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। ২০০৫ সালে দাদাসাহেব সম্মাননা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। সম্মাননা নিতে কলকাতা থেকে দিল্লি যেতে চাননি বলেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

১৯৭৮ সালে সুদীর্ঘ ২৫ বছর অভিনয়ের পর তিনি চলচ্চিত্র থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এর পর তিনি লোকচক্ষু থেকে আত্মগোপন করেন এবং রামকৃষ্ণ মিশনের সেবায় ব্রতী হন। ২০০৫ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য সুচিত্রা সেন মনোনীত হন, কিন্তু ভারতের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সশরীরে পুরস্কার নিতে দিল্লি যাওয়ায় আপত্তি জানানোর কারণে তাকে পুরস্কার দেওয়া হয়নি।

২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি ভারতীয় সময় সকাল ৮টা ২৫ মিনিট নাগাদ কলকাতার বেল ভিউ হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮২ বছর বয়সে সুচিত্রা সেনের মৃত্যু হয়। তিন সপ্তাহ আগে ফুসফুসে সংক্রমণের জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর শেষকৃত্যে গান স্যালুট দেবার কথা ঘোষণা করেন।ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ ও ভারতীয় জনতা পার্টির প্রধানমন্ত্রী-পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদী সুচিত্রা সেনের মৃত্যুতে শোকবার্তা পাঠান।

ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় 

পশ্চিমবঙ্গের বাংলা চলচ্চিত্রের অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা ভানু বন্দোপাধ্যায়ের জন্ম  ১৯২০ সালের ২৬শে আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে হাস্যকৌতুকময় অভিনয়ের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন দিকপাল। 

ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি’স হাই স্কুল এবং জগন্নাথ কলেজে শিক্ষা শেষ করে কলকাতায় আসেন ১৯৪১ সালে। এখানে এসে তিনি আয়রন এন্ড স্টীল কম্পানি নামে একটি সরকারি অফিসে যোগ দেন এবং বালীগঞ্জের অশ্বিনী দত্ত রোডে তাঁর বোনের কাছে দু’বছর থাকার পর টালিগঞ্জের চারু অ্যাভেনিউতে বসবাস শুরু করেন।

ভানু

ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় 

১৯৪৭ সালে ভানুর অভিনয় জীবন শুরু হয় ‘জাগরণ’ ছবির মধ্য দিয়ে। সেই বছরই ‘অভিযোগ’ নামে অন্য একটি ছবি মুক্তি পায়। এরপর ধীরে ধীরে ছবির সংখ্যা বাড়তে থাকে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘মন্ত্রমুগ্ধ’(১৯৪৯), ‘বরযাত্রী’(১৯৫১) এবং ‘পাশের বাড়ি’(১৯৫২)। ১৯৫৩ সালে মুক্তি পেল ‘সাড়ে চুয়াত্তর’, এবং বলা যেতে পারে যে এই ছবির মাধ্যমেই ভানু দর্শকদের নিজের অভিনয়ের গুণে আকৃষ্ট করা শুরু করেন। এর পরের বছর মুক্তি পায় ‘ওরা থাকে ওধারে’। 

১৯৫৮ সালটিতে মুক্তি পাওয়া অনেক ছবির মধ্যে দু’টি ছিল ‘ভানু পেল লটারি’এবং ‘যমালয়ে জীবন্ত মানুষ’।১৯৫৯-এ মুক্তি পায় ‘পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট" এই ছবিতে ভানু নায়কের ভুমিকায় অভিনয় করেন, বিপরীতে ছিলেন রুমা গুহঠাকুরতা। ১৯৬৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘৮০তে আসিও না’ ছবিটিতেও ভানু নায়কের ভুমিকায় অভিনয় করেন, এবং এখানেও ওনার বিপরীতে ছিলেন রুমা দেবী। ১৯৬৭ সালে ভানুর আরো একটি ছবি মুক্তি পায়, ‘মিস প্রিয়ংবদা’ – যেখানে উনি চরিত্রের প্রয়োজনে মহিলা সেজে অভিনয় করেন। এখানে ওনার বিপরীতে ছিলেন লিলি চক্রবর্তী। ভানুর ‘ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্ট্যান্ট’ ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭১ সালে। ভানুর শেষ ছবি ‘শোরগোল’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮৪-তে। কিছুদিন পরেই উনি পরলোকগমন করেন।

অমর্ত্য সেন 

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভারতীয় বাঙালী অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক অমর্ত্য সেনের জন্ম ১৯৩৩ সালের ৩ নভেম্বর শান্তিনিকেতনে মাতামহ ক্ষিতিমোহন সেনের 'পর্ণকুটীরে'। তাঁর আদি নিবাস বর্তমান বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মানিকগঞ্জে । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর নাম রেখেছিলেন অমর্ত্য, যার অর্থ অমর বা অবিনশ্বর।

অমর্ত্য

অমর্ত্য সেন 

দুর্ভিক্ষ, মানব উন্নয়ন তত্ত্ব, জনকল্যাণ অর্থনীতি ও গণদারিদ্রের অন্তর্নিহিত কার্যকারণ বিষয়ে গবেষণা এবং উদারনৈতিক রাজনীতিতে অবদান রাখার জন্য ১৯৯৮ সালে তিনি অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে ব্যাংক অফ সুইডেন পুরস্কার (যা অর্থনীতির নোবেল পুরস্কার হিসেবে পরিচিত) লাভ করেন। অমর্ত্য সেনই জাতিসংঘের বিভিন্ন দেশের শিক্ষা এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্য মানব উন্নয়ন সূচক আবিষ্কার করেন। তিনিই প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হয়েও ন্যাশনাল হিউম্যানিটিস মেডেলে ভূষিত হন।

তিনি বর্তমানে টমাস ডাব্লিউ ল্যামন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক অধ্যাপক এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত আছেন। তিনি হার্ভার্ড সোসাইটি অফ ফেলোস, ট্রিনিট্রি কলেজ, অক্সব্রিজ এবং ক্যামব্রিজের একজন সিনিয়র ফেলো। এছাড়াও তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ক্যামব্রিজের ট্রিনিটি কলেজের মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হেলথ ইমপ্যাক্ট ফান্ডের অ্যাডভাইজরি বোর্ড অফ ইনসেন্টিভ ফর গ্লোবাল হেল্থ্ এর সদস্য। তিনিই প্রথম ভারতীয় শিক্ষাবিদ যিনি একটি অক্সব্রিজ কলেজের প্রধান হন। এছাড়াও তিনি প্রস্তাবিত নালন্দা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবেও কাজ করেছেন।

অমর্ত্য সেনের লিখিত বই বিগত চল্লিশ বছর ধরে প্রায় তিরিশটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তিনি ইকনমিস্ট ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির একজন ট্রাষ্টি। ২০০৬ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে অনূর্ধ ষাট বছর বয়সী ভারতীয় বীর হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং ২০১০ সালে তাঁকে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান দেওয়া হয়। নিউ স্টেট্সম্যান ম্যাগাজিন তাঁকে বিশ্বের ৫০ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান দেয়।

অমর্ত্য সেন মাত্র ২৩ বছর বয়সে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এর অর্থনীতি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা এবং পূর্ণ অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৬০-৬১ সালে ম্যাসাচুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাট বার্কলেতে ভিজিটিং অধ্যাপক ছিলেন। বর্তমানে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যামন্ট প্রফেসর হিসেবে কর্মরত। ১৯৭২ সালে তিনি লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স এ অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। অমর্ত্য সেনের লেখা গ্রন্থাবলী ৩০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখনীর হাত ধরে 'নীলকন্ঠ পাখির খোঁজে'র ছিন্নমূল মানুষের হাহাকার ভাষা পায়। তাঁর লেখায় বার বার ঘুরে ফিরে আসে মানুষের বাঁচার আর্তি। 
১৯৩৪ সালে অধুনা বাংলাদেশের ঢাকায় রাইনাদি, আড়াই হাজার থানায় জন্ম হয় অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রথম যৌবন থেকেই পেশার তাগিদে তিনি পৃথিবী ভ্রমণ করেছে, সেই অভিজ্ঞতা প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর চারটি বিখ্যাত উপন্যাস, নীলকন্ঠ পাখির খোঁজে, মানুষের ঘরবাড়ি, অলৌকিক জলযান ও ঈশ্বরের বাগান-এ।

অতীন

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

১৯৫৮ সালে সমুদ্র মানুষ এর জন্য 'মানিক স্মৃতি পুরস্কার', ১৯৯১ সালে 'বিভূতিভূষণ স্মৃতি পুরস্কার', ১৯৯৩ সালে পঞ্চযোগিনী এর জন্য 'ভুয়াল্কা পুরস্কার', ১৯৯৮ সালে দুই ভারতবর্ষ এর জন্য 'বঙ্কিম পুরস্কার', সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারসহ অজস্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়।

যদুনাথ সরকার

স্বনামধন্য বাঙালি ইতিহাসবিদ স্যার যদুনাথ সরকারের জন্ম ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দের ১০ ডিসেম্বর, বৃহত্তর রাজশাহী জেলার আত্রাই থানার (বর্তমান নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ছাতারদিঘী ইউনিয়ন) কড়চমারিয়া গ্রামে। 

তিনিই প্রথম মীর্জা নাথান রচিত বাহারিস্তান-ই-গায়বী‎ এর পাণ্ডুলিপি ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত জাতীয় গ্রন্থাগারে খুঁজে পান এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন জার্নালে বাংলা এবং ইংরেজিতে প্রবন্ধ লিখে বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

যদুনাথ

যদুনাথ সরকার

অধ্যাপনার মাধ্যমে ১৮৯৮ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজে তাঁর প্রথম কর্মস্থল নির্ধারিত হয়। ১৮৯৯ সালে পাটনা কলেজে বদলী হয়ে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে ছিলেন। মাঝখানে কিছুকাল ১৯১৭ থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে অধ্যাপনা করেন। অধ্যাপক জীবনের বেশীরভাগ সময়ই কাটে পাটনা ও কটকে। ৪ আগস্ট, ১৯২৬ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে মনোনীত হন। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনিই প্রথম অধ্যাপক ভাইস-চ্যান্সেলর ছিলেন তিনি। যদুনাথ সরকার ১৯২৩ সালে রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির সম্মানিত সদস্য হন।

"যদুনাথ সরকার রচনা সম্ভার" গ্রন্থটির প্রচ্ছদপট ইতিহাস শাস্ত্রে অসাধারণ ও প্রগাঢ় জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন যদুনাথ সরকার। তাঁকে ইতিহাস-চর্চায় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন ভগিনী নিবেদিতা, যিনি সিস্টার নিবেদিতা নামেই সমধিক পরিচিত। তিনি ঐতিহাসিক গবেষণা-গ্রন্থ রচনার জন্য বাংলা, ইংরেজী, সংস্কৃত ভাষা ছাড়াও উর্দু, ফারসী, মারাঠীসহ আরও কয়েকটি ভাষা শিখেছিলেন।

ঐতিহাসিক গবেষণা ছাড়াও তিনি একজন বিশিষ্ট সাহিত্য-সমালোচক ছিলেন। এছাড়াও, রবীন্দ্র-সাহিত্যের সমঝদার পাঠক ছিলেন যদুনাথ সরকার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পুরস্কার পাবার আগেই তিনি কবির রচনার ইংরেজী অনুবাদ করে পাশ্চাত্য জগতের কাছে তাঁর পরিচয় তুলে ধরেন

ভারতবর্ষের ইতিহাস রচনায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গবেষণায় যদুনাথ সরকার পথিকৃৎ বা পথ প্রদর্শক ছিলেন। এই কারণে দেশবাসী তাঁকে আচার্য হিসাবে বরণ করেছিলেন।

যদুনাথ সরকার তাঁর প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার নাইট উপাধি লাভ করেন। ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯৪৪ সালে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় ডি.লিট উপাধি প্রদান করে। 

আচার্য যদুনাথ সরকার ৮৮ বৎসর বয়সে ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ মে তারিখে কলকাতায় পরলোকগমন করেন।

কালিকারঞ্জন কানুনগো

ইতিহাসবেত্তা কানুনগো, কালিকারঞ্জন ১৮৯৫ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত বোয়ালখালী উপজেলার কানুনগোপাড়া গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম রাজমনি কানুনগো। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে কালিকারঞ্জন পিতৃহীন হন। রাজশাহী কলেজ থেকে ডিস্টিংশনসহ ১৯১৫ সালে তিনি বি.এ ডিগ্রি, ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এম.এ ডিগ্রি এবং ১৯১৮ সালে ল’ ডিগ্রি লাভ করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে যদুনাথ সরকার এর অধীনে ‘শেরশাহ অ্যান্ড হিজ টাইমস’ (Sher Shah and His Times) শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য তিনি পি-এইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

প্রফেসর কানুনগোর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র ছিল উপমহাদেশের মধ্যযুগের ইতিহাস। মুসলমান শাসক, রাজপুত এবং মারাঠাদের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর আগ্রহ ছিল। ফারসি, উর্দু, হিন্দি, আওধী, এবং বেশ কিছু স্থানীয় ভাষার ওপর দক্ষতা স্থানীয় পর্যায়ের উৎস অনুসন্ধানে তাঁকে প্রভূত সাহায্য করে। কালিকারঞ্জনের সর্বশ্রেষ্ঠ গবেষণামূলক গ্রন্থটির নাম Sher Shah And His Times (শেরশাহ অ্যান্ড হিজ টাইমস)। সমসাময়িক ফারসি উৎসের ভিত্তিতে রচিত গ্রন্থটিতে আফগান বীর শেরশাহের জীবনের মহত্বেবর বিভিন্ন দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
দিল্লির রামযশ কলেজে অধ্যাপনার সময়ে জাঠদের সম্পর্কে কালিকারঞ্জনের আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে তিনি তাঁর গবেষণার পক্ষে অলিখিত এবং মৌখিক উপকরণ সংগ্রহের জন্য হরিয়ানা ও রাজস্থানের দূরবর্তী গ্রামে অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য জরিপ কাজ সম্পন্ন করেন। তাঁর রচিত স্টাডিজ ইন রাজপুত হিস্ট্রি এবং রাজস্থান কাহিনী গ্রন্থদুটিতে রাজপুতদের সম্পর্কে অত্যন্ত আকর্ষণীয় তথ্য রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত হিস্ট্রি অব বেঙ্গল (History of Bengal), দ্বিতীয় খন্ড প্রণয়নে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। লক্ষ্ণৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরিকালে তিনি হিস্ট্রি অব দি বেরোনিয়াল হাউস অব দিল্লি (History of the Baronial House of Delhi) গ্রন্থটি প্রণয়ন করেন। এ গবেষণায় তিনি প্রধানত স্থানীয় মহাফেজখানায় সংরক্ষিত সরকারি দলিলপত্র ব্যবহার করেন। 

কানুনগোর প্রধান প্রকাশনাগুলির মধ্যে দুটি তাঁর অবসর গ্রহণের পর প্রকাশিত হয়। গ্রন্থ দুটি হলো ইসলাম অ্যান্ড ইটস ইম্প্যাক্ট অন ইন্ডিয়া (১৯৬৮), এবং শাহজাদা দারা শিকোহ (১৯৮৬)। শেষোক্ত গ্রন্থটি ঢাকায় অবস্থানকালে রচিত হয়েছিল। এগুলি ব্যতীত তিনি গবেষণামূলক পত্র-পত্রিকায় অসংখ্য প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। তিনি প্রবাসী পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন। স্থানীয় সম্প্রদায়সমূহের ইতিহাস রচনায় স্থানিক উপকরণের ওপর অধিকতর গুরুত্বারোপ কানুনগোর ইতিহাস রচনার একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। তাঁর মতে, মধ্যযুগে ভারতের ইতিহাসের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে সামাজিক সংশ্লেষণ। তাঁর গবেষণাকর্মে ধর্ম ও বর্ণগত গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে অধিকতর সমঝোতা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রকাশ পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে তাঁর গ্রন্থসমূহ যৌক্তিক রচনা এবং মধ্যযুগের ভারতের অত্যন্ত ফলপ্রসু পুনর্গঠন বলে বিবেচিত হয়।
কালিকারঞ্জন কানুনগো ইতিহাস চর্চার জন্য বিভিন্নভাবে সম্মানিত হয়েছেন। ১৯৪০ সালে (১৩৪৭ বঙ্গাব্দ) ইতিহাস গবেষণায় অবদানের জন্য তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক রামপ্রাণ গুপ্ত স্মৃতি স্বর্ণপদকে ভূষিত হন। রাজস্থান কাহিনী শীর্ষক গ্রন্থের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে রবীন্দ্র পুরস্কার প্রদান করেন।
১৯৭২ সালের ২৯ এপ্রিল লক্ষ্ণৌর নিজস্ব বাসভবনে কালিকারঞ্জন কানুনগোর মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট 

ওডি/এএন 
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড