• সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জনপ্রতিনিধি না হয়েও সেবামূলক কাজে নিয়োজিত বেলজিয়াম প্রবাসী

১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৪৬
জনপ্রতিনিধি না হয়েও সেবামূলক কাজে নিয়োজিত বেলজিয়াম প্রবাসী
বেলজিয়াম শাখা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া (ছবি : দৈনিক অধিকার)

সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া। জনপ্রতিনিধি না হয়েও সবসময় এলাকার সেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বেলজিয়ামের এই নাগরিক। দীর্ঘ ২৭ বছর যাবত তিনি বেলজিয়াম শাখা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতির পদে আছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকাতে অবস্থান করছেন।

তিন সন্তানের জনক সফি ১৯৬০ সালে ঢাকার মহাখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। ইউসুফ আলী ভুঁইয়া ও রেজিয়া বেগম দম্পতির নয় সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

মহামারি করোনা ভাইরাসের সংকটময় সময়ে জনপ্রতিনিধি না হয়েও অসহায় লোকজনের সেবায় সব সময়ই তিনি ছিলেন উদার। নিজের জীবনের সংগ্রাম ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দৈনিক অধিকারের সঙ্গে কথা বলেছেন বেলজিয়াম প্রবাসী সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া।

অধিকার : কত বছর ধরে বেলজিয়ামে আছেন?

সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া : আমি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বেলজিয়াম নাগরিক। কিছুদিন যাবত আমি ঢাকাতেই আছি। এখানেই আমি সেবামূলক বিভিন্ন কাজ করে থাকি। আমার এক ছেলে দুই মেয়ের সকলেই বেলজিয়ামে বসবাস করে। আমি ও আমার ছেলে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করি। আমরা প্রায় ৩২ বছর যাবত দেশটিতে অবস্থান করছি। ১৯৯০ সালে ঢাকার বাসাবোতে সুমি বেগমের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। আমার ছেলের নাম সাজ্জাদ হোসেন ভুঁইয়া। বড় মেয়ের নাম ইউনি আর ছোট মেয়ের নাম আলিসা।

অধিকার : মানবসেবায় আত্মনিয়োগ প্রসঙ্গে কি বলবেন?

সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া : ছোটবেলা থেকেই আমার জনসেবামূলক কাজ করার অনেক ইচ্ছা ছিল। তাই সুযোগ পেলেই স্বল্প পড়িসরে লোকজনকে সহায়তা করতাম। আমার দাদা ইয়াকুব আলী ভুঁইয়া, বড়ভাই ইউনুছ আলী ভুঁইয়া, বাবা ইউসুফ আলী ভুঁইয়া, আমি ও আমার ছেলে বংশ পরম্পরায় বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি আগামীতেও তা অব্যাহত রাখব। এখন যে জনসেবামূলক কাজ আমরা করছি তা ব্যাপক আকারে করার চেষ্টা চালাচ্ছি। আশা করি আমাদের ছেলে-মেয়েরাও এই ধারা বজায় রাখবে।

অধিকার : আপনার শিক্ষাজীবন ও রাজনীতিতে যোগদান সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন?

সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া : আমি মহাখালী মডেল হাই স্কুলে পড়াশোনা করেছি। ছোটবেলা থেকেই একটু চঞ্চল ছিলাম। ১৯৭৭ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেই। যদিও এর অনেক আগে থেকেই আমি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। ১৯৮৫ সালে রাজশাহী থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর আমি তিতুমির কলেজে ভর্তি হই। এরপর আমাকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়। সে সময় আমি কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব প্রদান করি।

অধিকার : তৎকালীন সময়ে (১৯৮৫-১৯৮৮) দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন ছিল?

সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া : তখন জাতীয় পার্টি রাষ্ট্রের ক্ষমতায় ছিল। সে সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে ছাত্রলীগ করায় আমাদের কোণঠাসা করে রাখা হতো। অনেক সময় আমাদের লোকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। আমরা বড় কোনো আন্দোলন, হরতাল বা সমাবেশ করতে পারতাম না। লুকায়ে লুকায়ে সব ধরণের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হতো।

ভয়ঙ্কর সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে সফি বলেন, উপর থেকে যখনই কোনো হরতালের ডাক আসত। তখনই তৎকালীন ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার শাহ মোয়াজজেম আমাদের লিস্ট করতেন। এক সময়ে আমাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ আমার বাড়ি ঘেরাও পর্যন্ত করেছে। পরপর দুইবার এমন ঘটনা দেখে ১৯৮৮ সালে মা আমাকে বেলজিয়ামে নিয়ে যান।

অধিকার : প্রবাস জীবনের শুরুটা হয়েছিল কিভাবে?

সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া : ১৯৮৮ সালের ৮ এপ্রিল আমি বেলজিয়ামে যাই। সেখানে আমার মামা সিদ্দিকের বাসায় একমাস অবস্থান করি। এরপর উনি আমাকে একটি ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে চাকরি দেন। সেখানে আমি বারম্যান হিসেবে কাজ করি। তিন মাস পর আমি বারের চিফ হয়ে যাই। সেখানে আমি টানা দুই বছর বারের চিফ হিসেবে কাজ করেছি।

এরপর আমি অন্য একটা রেস্টুরেন্টে এক বছর কাজ করি এবং সিদ্ধান্ত নেই, এই চাকরি বাদ দিয়ে ব্যবসা করব। এরপর আমি ১৯৯০ সালে দেশে এসে বিয়ে করে স্ত্রী নিয়ে বেলজিয়ামে যাই। এরপর আমি নিজ উদ্যোগে ব্যবসা শুরু করি।

অধিকার : প্রবাসে ব্যবসার মূলধন কেমন ছিল?

সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া : চাকরি করে জমানো প্রায় ১২ লাখ টাকা দিয়ে প্রথমে আমি একটা ডিপাটমেন্টাল স্টোর খুলি। সেই ব্যবসায় আমি লস করি। পরে আমি একটা মিনি সুপার মার্কেট করি এবং সফল হই। সেই সফলতার ধারা এখনো অব্যাহত আছে। বেলজিয়ামে অক্লান্ত পরিশ্রমের পর আমি একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি। আশা করি এভাবেই সামনে এগিয়ে যাব। আমার ছেলে-মেয়েরাও এই ব্যবসাতেই যোগ দিয়েছেন।

অধিকার : ব্যবসার অর্থ কোন কাজে ব্যয় করেন?

সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া : আমি ব্যবসা থেকে লাভ করা টাকা বাংলাদেশে নিয়ে আসি। এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিলিয়ন টাকা দেশে পাঠিয়েছি। আমি যতদিন বেঁচে থাকব বাংলাদেশে টাকা ইনভেস্ট করব। একইভাবে আমার ছেলে-মেয়েরাও বাংলাদেশে টাকা ইনভেস্ট করবে বলে আমি মনে করি। আর এভাবেই আমরা এলাকায় জনসেবামূলক কাজ করে যাব।

অধিকার : প্রবাসে রাজনীতিতে কখন যুক্ত হলেন?

সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া : আমি বিদেশ যাওয়ার কিছুদিন পরেই আওয়ামী লীগ নেতা ড. মোস্তফা মহিউদ্দিন জালাল ভাই বেলজিয়ামে যান। সেখানে গিয়েই তিনি তৎকালীন বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সভাপতি পান্না ভাইয়ের সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেন। তখন পান্না ভাইকে আমার খেয়াল রাখার জন্য বলে আসেন। সেখানে ড. হাসান মাহমুদও উপস্থিত ছিলেন। তিনি ঐ সময় ডক্টরেট করার জন্য বেলজিয়ামে অবস্থান করছিলেন। এরপর বেলজিয়াম শাখা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আমাকে সেখানকার আ. লীগের সহ সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

নিজের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সফি বলেন, আমি এখন বেলজিয়াম শাখা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতির পদে আছি। প্রায় ২৭ বছর যাবত গুরুত্বপূর্ণ এই পদের দায়িত্ব পালন করছি।

অধিকার : প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আপনার প্রথম সাক্ষাৎ কীভাবে?

সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া : প্রধানমন্ত্রী যখন বিরোধী দলের নেত্রী ছিলেন, তখন আমতলীর এটমিক এনার্জির মাঠে একটি মিটিং হয়েছিল। এই আয়োজনে আমিও ছিলাম। সেখানেই আমি প্রথম উনাকে ফুলের মালা দিয়েছি। এরপর উনি শেখ রেহানা আপাকে নিয়ে যখন সুইজারল্যান্ডে গিয়েছিলেন, সেখানে আমি উনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করি।

আমরা যখন উনার সামনে যাই তখন উনি আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাকে অনেক প্রশ্নও করেছেন। আমি উনার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। তবে আমার অনেক ভালো লেগেছে যে উনি আমাদের ডেকেছেন, আমাদের প্রশ্ন করেছেন এবং উনি আমাদের খোটায়ে খোটায়ে প্রশ্ন করেছেন। বিষয়টা আমার ভীষণই ভালো লেগেছিল। এ ঘটনার কিছুদিন পর উনি লন্ডনে গিয়েছিলেন। সেখানে আমি আমার প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারির সঙ্গে গিয়ে উনার সাথে দেখা করি। আমি সে সময় আমার একটা ছোটো সমস্যার কথা তাকে বলেছিলাম।

অবাক চোখে সফি ভুঁইয়া বলেন, উনি তখন ধৈর্য সহকারে আমাকে আবার প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তারপরে কি হয়েছে’ বলেন। আমি এটায় অনেক আশ্চর্য হয়েছি যে উনি ধৈর্য নিয়ে জিজ্ঞেস করেছেন তারপরে উনি আবারও প্রশ্ন করেছেন। এটাই আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। আরেকটা জিনিস হলো- আমার কাছে মনে হয়, কেউ যদি উনার কাছে গিয়ে নিজের সমস্যার ব্যাপারে কথা বলেন- তাহলে নেত্রী কখনোই তাকে ফেরাবেন না। মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে অনেকদিন বাঁচিয়ে রাখুক।

তার মতে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বিশ্বের নাম ভুলে গেলেও কখনোই বেলজিয়ামের নাম ভুলবেন না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, উনি এবং রেহানা আপা যখন বেলজিয়ামে ছিলেন তখনই ১৫ আগস্টের ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। তিনি সেখানে থেকেই নিজের পরিবারের মৃত্যুর সংবাদটি পান। আর শেখ রেহানা আপার ছেলে ববিও বেলজিয়ামেই পড়াশোনা করেছেন। কাজেই বেলজিয়ামের সঙ্গে উনাদের একটা সম্পর্ক সবসময়ই থাকবে।

অধিকার : দেশের জন্য কতটুকু দায়িত্ব পালন করেন?

সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া : আমি প্রতিবছর বেলজিয়াম থেকে বাংলাদেশে দুই তিনবার আসি। আবার কখনো বছরে তিন থেকে চারবারও আসি। দেশে এসে আমি একটাই কাজ করি সেটা হলো জনসেবামূলক কাজ। যতটুকু পারি, দেশে আসার পর এটাই আমার একমাত্র কাজ।

অধিকার : কি কি ধরনের জনসেবামূলক কাজ করেন?

সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া : আমার বাড়িতে যখনই কেউ আসে, যেমন বিয়ে-সাদি, কেউ সুন্নতে খৎনা, কখনো গরীব মানুষ আসে, তারপর এলাকাতে কোনো বিপদ হলে সেখানে আমি চেষ্টা করি। অথবা কোনো সমস্যা হলে বা এলাকায় গণ্ডগোল হলো সেখানেও সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। আমি এলাকার সুবিধার জন্য আমার বাড়ির আশপাশে অর্ধশতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছি। এখানে যদি কোনো ধরনের সমস্যা হয়, প্রশাসন তাৎক্ষণিক ফুটেজ সংগ্রহ করে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকটা মিটিংয়ে সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইংল্যান্ডে হোক সব যায়গাতে উনি বলেন যে, আপনারা বাংলাদেশে টাকা ইনভেস্ট (বিনিয়োগ) করেন। বাংলাদেশের গরীবদের পাশে থাকেন। উনার এসব কথা শুনে আমার খুব ভালো লাগে, উনার কথা শুনে আমি আরও বেশি চেষ্টা করি দেশের জনগণের জন্য কিছু করার। আমি কিন্তু জনগণের প্রতিনিধি না হয়েই জনগণের সেবামূলক কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি এবং বাকি জীবনও এই কাজগুলো করে যাব।

অধিকার : একজন প্রবাসী হিসেবে কি কি অবদান রাখতে পারছেন?

সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া : অবদান বলতে আমি মানুষের সেবা-যত্ন করি। এটাই হলো মূল বিষয়। আমি তো আর এখানে স্কুল বানিয়ে দিতে পারি না। আমার সাধ্যের মধ্যে যেগুলো সেগুলো আমি করছি। যেমন- আমি এলাকায় ক্যামেরা লাগিয়ে দিয়েছি। এছাড়া স্কুল, মসজিদ কিংবা মাদরাসা থেকে যখনই সাহায্যের জন্য আমার কাছে কেউ আসে, আমি তাদের সবসময় সহযোগিতা করি।

আমার আব্বা মহাখালী জামে মসজিদের ফাউন্ডার মেম্বার (প্রতিষ্ঠাতা সদস্য)। উনি মসজিদে অনেক দান-খয়রাত করেছেন। আমিও এমনই করি। যখনই তারা আসে বিল্ডিংয়ের কাজে বা মাইকের ব্যাপারে আমি সহযোগিতা করি। যে কোনো ব্যাপারে হোক আমি সহযোগিতা করি। যেমন মহাখালীতে মাদরাসা আছে, সেখানে সহযোগিতা করি। আমার কাছে যে কেউ আসলে আমি সহযোগিতা করার জন্য চেষ্টা করি।

যেমন- এলাকায় স্কুল আছে, সেখানেও আমি সহযোগিতা করি, কোনো সময় টেবিল দেই, আবার কোনো সময় চেয়ার দেই। এছাড়া যখন যেটা বলে আমি তখন তাদের সেটা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করি।

অধিকার : দান-খয়রাত বা জনগণের সেবামূলক যেসব কাজ করেন এসবের পেছনে আপনার কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা?

সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া : না। এসবের মধ্যে আমার কোনো স্বার্থ বা উদ্দেশ্য নেই। আমি শুধুমাত্র জনসেবামূলক কাজ করি। এর পেছনে আমার অন্য কোনো ধরনের স্বার্থ নেই।

অধিকার : আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া : আমি মহাখালীতে যখন আসি, অনেকেই মনে করে যে আমি যে এখানে আসি, এসে যে জনসেবামূলক কাজ করছি, ত্রাণ দিচ্ছি বা স্কুল-মাদরাসায় টাকা-পয়সা দিচ্ছি অনেকে ভাবে যে আমি এখানে হয়তো নির্বাচন করব বা কমিশনারে দাঁড়াব। কিন্তু আমি এখানে এমপিও হতে চাই না বা কমিশনারও হতে চাই না।

আমি শুধু একটা জিনিসই করতে চাই, সেটা হলো জনপ্রতিনিধি না হয়েই মহাখালীতে জনসেবামূলক কাজ করব। এটাই আমার মূল উদ্দেশ্য, আর কোনো উদ্দেশ্য নেই। আমি শুধু জনসেবামূলক কাজ করব, বাকি জীবনও এই কাজই করব। পাশাপাশি আমার ছেলেও এই কাজই করবে।

অধিকার : বাংলাদেশে বেলজিয়াম শাখা আওয়ামী লীগের কোনো কার্যালয় আছে কিনা?

সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া : মহাখালীর ভুঁইয়াবাড়িতে আমার একটি বেলজিয়াম শাখা আওয়ামী লীগের অফিস আছে। বেলজিয়াম থেকে যখনই দলের কোনো নেতা বাংলাদেশে আসেন, বা অন্য দেশ থেকেও কোনো নেতা আসেন, তখন আমরা এখানে তাদের নিয়ে প্রোগ্রাম করি। বাংলাদেশে যেমন ১৫ আগস্ট হলে বা অন্যান্য দিবস পালিত হলে আমরা এখান থেকে দিবসের কার্যক্রম পরিচালনা করি। কিন্তু এখান থেকেও জনসেবামূলক কাজটাই আমার মূল উদ্দেশ্য।

অধিকার : আপনার ব্যক্তিগত ক্লাব কিংবা কোনো সংগঠন আছে কিনা?

সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া : আমার এখানে বাচ্চাদের জন্য একটি ক্লাবও আছে। এটা অনেক পুরনো একটি ক্লাব। প্রায় চল্লিশ বছর আগের ‘নাইন স্টার বয়েস ক্লাব’। এই ক্লাবে আমার ফুটবল টিমও খেলেছে। টুটুল ভাই, নান্নু ভাই, বাট্টি, গোলকিপার নিজাম, মঞ্জু ভাইসহ অনেক বড় বড় খেলোয়াড় আমাদের এই ক্লাবে খেলেছেন। এটার মূলত একটা উদ্দেশ্য আছে, বর্তমানে সমাজে ছেলেরা যে খারাপ পথে চলে যাচ্ছে, সেখান থেকে তাদের ফিরিয়ে ভালো জীবনে আনাই ক্লাবের অন্যতম উদ্দেশ্য।

আর একটা জিনিস হলো আমি বাংলাদেশে প্রায় ১০ কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছি। এমনকি মহাখালীতে বাচ্চাদের জন্য আমি একটা সুইমিং পুলও নির্মাণ করতেছি। যেসব বাচ্চারা সাঁতার জানে না তাদের সাঁতার শেখার জন্য আমার এই উদ্যোগ। কারণ আমাদের এখানে খেলার কোনো মাঠ নেই, নদী-নালা নেই। এটাও আমার একটা জনসেবামূলক কাজ, এটিও আমি চালিয়ে যেতে চাই। এখানে যেন সব বাচ্চাই আসতে পারে, এমন ব্যবস্থা রাখার চেষ্টা করব।

অধিকার : দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?

সফিউল্লাহ সফি ভুঁইয়া : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার একক নেতৃত্বে বাংলাদেশের একের পর এক উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। আরও অনেকে হয়তো উনাকে এই কাজে সহযোগিতা করছেন। কিন্তু আমি আশ্চর্য হয়ে যাই- দেশের কিছু সংখ্যক লোক উনার সেই কাজের প্রশংসা না করে শুধু ভুলগুলোকেই সামনে আনার জন্য ব্যস্ত থাকেন।

কিন্তু আজ যারা বিরোধিতা করছেন তাদের উচিৎ- উনি যেই কাজগুলো করে যাচ্ছেন সেগুলোর প্রশংসা করা। ভালো কাজ করতেছেন, দেশের উন্নয়ন করছেন- এই কাজগুলোর প্রশংসাও করা আমাদের প্রয়োজন।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড