• বুধবার, ২২ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

যেসব ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছিল বাংলাদেশ

  অধিকার ডেস্ক ০২ মে ২০১৯, ২১:৫৬

ঘূর্ণিঝড়
ছবি : প্রতীকী

প্রাকৃতিকভাবেই বাংলাদেশ দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। প্রতি বছর এইদেশে নানা রকম দুর্যোগ এসে হানা দেয়। বন্যা, পাহড়ধস কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগ প্রতি বছরই আঘাত করে থাকে এই দেশে। বিভিন্ন সময়ে অনেক প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেছে এই জনপদকে। তবু বার বার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। বঙ্গোপসাগরের উপকূলের এই দেশটিতে শুধু স্বাধীনতার পরই আঘাত হেনেছে অনেক বড় বড় ঝড়। এগুলোর মধ্যে ভয়ঙ্কর ক্ষতি করে গেছে এমন ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা কম নয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কয়েকটি ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে।

১৮৭৬ সালের ঘূর্ণিঝড় :

এই ঘূর্ণিঝড়টিকে ডাকা হয় বাকেরগঞ্জ ঘূর্ণিঝড় নামে। এই ঘূর্ণিঝড়টিকে ভয়াবহতার দিক থেকে পৃথিবীর ষষ্ঠ ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৮৭৬ সালের ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশের মাটিতে এটি আছড়ে পড়ে। সঠিক কোনো হিসাব না থাকলেও মোটামুটি যা তথ্য পাওয়া যায় তাতে দেখা যায় দুই লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল সে দিনটিতে।

শুধু তাই নয় ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ভয়াবহ খাদ্য সংকট এবং মহামারিতে আরও প্রায় সমপরিমাণ মানুষ মৃত্যুর সাক্ষাৎ লাভ করে। ১৮৭৬ সালের ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লেগেছিল এই অঞ্চলের মানুষের। ঘূর্ণিঝড়ে মেঘনা নদীর মোহনা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও বরিশাল উপকূলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি ছিল। বরিশালের বাকেরগঞ্জ পুরোপুরি প্লাবিত হয়ে গিয়েছিল ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে।

১৯৭০ সালের ভোলার ঘূর্ণিঝড় :

বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশের ১ বছর আগে ১৯৭০ সালে আঘাত হানে প্রলয়ঙ্করী এক ঘূর্ণিঝড়। মূলত দ্বীপজেলা ভোলাতে বড় আঘাতটি করে এই ঘূর্ণিঝড়টি। ১৯৭০ সালের ১৩ নভেম্বর সর্বকালের সবচেয়ে ভয়ঙ্করতম প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্যতম একটি দুর্যোগ আঘাত হানে এই অঞ্চলে। ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রা নির্ণয়ের আন্তর্জাতিক সিম্পসন স্কেলে এটি ছিল ক্যাটাগরি ৩ এর ঘূর্ণিঝড়। এটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটারের বেশি। রেকর্ড ঘেঁটে জানা যায় , এই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ ও তিন লক্ষের মতো গবাদি পশু প্রাণ হারায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছিল ভোলা জেলার তজমুদ্দিন উপজেলা। সেখানকার ১ লক্ষ ৬৭ হাজার মানুষের ৭৭ হাজারই প্রাণ হারিয়েছিলেন সে দিন।

১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় :

স্বাধীনতা পরবর্তীকালীন বাংলাদেশে যে সব ঘূর্ণিঝড় আঘাত করেছে তার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতি করে গেছে এই ঘূর্ণিঝড়টি। এটিকে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড় বলে আখ্যায়িত করা হয়। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যায় এই প্রলয়ঙ্করী ঝড়টি। ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার। ভয়াবহতম এই ঘূর্ণিঝড়ে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল। জরিপ থেকে জানা যায়, ১৯৯১ সালের এই ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারায় ১ লক্ষ ৩৮ হাজার মানুষ। আর সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় প্রায় ১ কোটি মানুষ। নিহতদের বেশিরভাগই ছিল শিশু এবং বৃদ্ধ।

ঘূর্ণিঝড় সিডর :

এই ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত করেছিল ২০০৭ সালে। এটি সৃষ্টি হয়েছিল আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি সমুদ্রে। বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত করে ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায়। এটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২৩ কিলোমিটার। এর ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল ১৮-২০ ফুট। তবে অন্যান্য ঘূর্ণিঝড়ের তুলনায় এতে প্রাণহানি অনেক কমই হয়েছে বলা চলে। রেডক্রসের তথ্যানুযায়ী ঘূর্ণিঝড় সিডরে প্রাণ হারায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ। তবে অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি ছিল অনেক বেশি। এই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় দশ লক্ষ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। ফসল নষ্ট হয় প্রায় ২১ হাজার হেক্টরের। গবাদি পশু মারা গিয়েছিল আড়াই লক্ষের মতো। তবে সুন্দরবনের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে।

ঘূর্ণিঝড় আইলা :

ঘূর্ণিঝড় সিডরের ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আইলা। ২০০৯ সালের মে মাসের ২৫ তারিখে এটি বাংলাদেশ উপকুলে আঘাত করে। ঘূর্ণিঝড় আইলার নামকরণ করেন মালদ্বীপের আবহাওয়াবিদরা। 'আইলা' শব্দের অর্থ ডলফিন বা শুশুকজাতীয় জলচর প্রাণী। এই ঘূর্ণিঝড়টির ব্যাস ছিল প্রায় ৩০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। যা ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের থেকে ৫০ কিলোমিটার বেশি। সিডরের মতোই আইলা প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় নিয়ে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করে। তবে বাতাসের গতিবেগ ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার হয়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছিল সিডরের তুলনায়।

এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় মহাসেন এবং ঘূর্ণিঝড় মোরা বাংলাদেশে বেশ ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছিল ।

ওডি/এসএম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড