• বুধবার, ২২ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

দ্য গ্রেট ডাইয়িং : যে অগ্ন্যুৎপাতে ঝরে গিয়েছিল পৃথিবীর ৯৫ শতাংশ প্রাণ

  জুবায়ের আহাম্মেদ ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:১৫

আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণ
২৫২ মিলিয়ন বছর আগের এই আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ (ছবি: গেটি ইমেজ)

এখন পর্যন্ত বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে কোন ঘটনা? ইউরোপের মহামারী প্লেগ নাকি ২য় বিশেযুদ্ধের বিভীষিকা? নাকি সেই প্রাগৌতিহাসিক উল্কাপাত যাতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল ডাইনোসরের মত প্রাণী? এতদিনের অনুসন্ধান অবশ্য এসবের কিছুই সমর্থন করেনি বরং সামনে এনেছে আনকোরা আরেক ঘটনাকে যা হয়ত অনেকেই জানেন না। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী ঘটনা কোন যুদ্ধ বা রোগে নয়। ঘটেছিল অগ্ন্যুৎপাতের কারণে। আজ থেকে আনুমানিক ২৫২ মিলিয়ন বছর আগের এমন এক অগ্ন্যুৎপাতে সারা পৃথিবীর প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা একে অভিহিত করছেন ‘দ্য গ্রেট ডাইয়িং’ নামে।

২৫২ মিলিয়ন বছর আগের এই আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণে প্রাণহানি যে একবারেই সম্পন্ন হয়েছিল তা নয়। বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী এর প্রভাব বেশ কয়েক হাজার বছর পর্যন্ত বজায় ছিল। ব্যাপারটি আজকের দিনে ২০১৯ সালে শুনতে বেশ অনেকখানি নাটকীয় এবং অবিশ্বাস্য মনে হলেও ভুলে গেলে চলবে না চিহ্নিত করা সেই সময়ে পৃথিবী সম্পূর্ণভাবে বিবর্তনের এক ধারারেখায় ছিল। ইউনিভার্সিটি অফ সিনসিনাটি এবং চায়না ইউনিভার্সিটি অফ জিওসায়েন্সের ভূবিদ্যা বিভাগের একদল গবেষকদের গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই এক ইতিহাসের পাতায় না তোলা ঘটনার কথা। তাদের অনুসন্ধানে সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন স্থানে মাটির ভিতরে পারদের অস্বাভাবিক উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন যা এই নতুন তত্ত্বের সাথে বিভিন্নভাবে সমর্থন জানিয়ে আসছে। মাটির ভিতরে বিভিন্ন স্থানে পারদের এমন চাপ বেশ অস্বাভাবিক বলেই বিবেচ্য। তবে আপাতভাবে সবচেয়ে সমর্থনযোগ্য ব্যাখ্যা হতে পারে এমনই এক অগ্ন্যুৎপাত।

ইতিপূর্বে ধারণা করা হয়েছিল কোনো এক ব্যাপক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে পৃথিবীতে ভূমিরূপে বিশাল এক বৈচিত্র্য ধরা দিয়েছে। কিন্তু সেটি কি কোন উল্কাপাত বা মহাকর্ষীয় প্রভাবে নাকি পৃথিবীর একান্ত নিজস্ব তা নিয়ে ছিল ব্যাপক গবেষণা। গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য এবং প্রবন্ধের মূল লেখক চায়না ইউনিভার্সিটি অফ জিওসায়েন্সের সহকারী অধ্যাপক জুন শেং বলেন, ‘মাটির যে গভীরতায় আমরা পারদস্তম্ভ আবিষ্কার করেছি তাতে বোঝা যায়, আগ্নেয় কোন বিস্ফোরণ কিংবা সরাসরি অগ্ন্যুৎপাতের ফলেই মাটির নিচে নিজস্ব স্বাভাবিক অবস্থান ছেড়ে পারদের এমন অবস্থান দেখা দিয়েছে।’

বিজ্ঞানীদের ভাষায় এই আগ্নেয় বিস্ফোরণ ঘটেছিল ডাইনোসরের আবির্ভাবেরও আগে। ভৌগলিকভাবে তখনও পৃথিবীতে চলছিল ভূমি গঠনের সময়কাল। ভয়াবহ এই আগ্নেয়গিরির প্রভাবে ধ্বংস হয়েছিল স্থলজ এবং জলজ মিলিয়ে তৎকালীন পৃথিবীর প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রাণ।

বিজ্ঞানীরা অবশ্য আগ্নেয়গিরির ঘটনা আবিষ্কারেই ক্ষান্ত হননি। খুঁজে বের করেছেন আগ্নেয়গিরি উৎসও। গবেষক দলের ধারণা, অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছিল সাইবেরিয়ান ট্র্যাপ অঞ্চলে যা বর্তমান রাশিয়ার একেবারেই মধ্যভাগের কোন এক স্থানে অবস্থিত। এবং স্বাভাবিক যেমন অগ্ন্যুৎপাত আমরা দেখে অবস্থিত এটি তেমন কোন ঘটনা ছিল না বলেই বিশ্বাস করেন বিজ্ঞানীরা। সাধারণ আগ্নেয়গিরির ক্ষেত্রে আগ্নেয় পর্বতের শীর্ষে চোঙার ন্যায় লাভামুখ দেখা যায়। তবে এক্ষেত্রে তেমন লাভামুখের পরিবর্তে সম্পূর্ণ মাটিতেই ফাটল দেখা গিয়েছিল বলে ধারণা তাদের।

তবে এই আবিষ্কারকে এখানেই থামিয়ে দিচ্ছেন না গবেষকরা। জুন শেং বিশ্বাস করেন, অগ্ন্যুপাতের উত্তাপে যে ক্ষতি পৃথিবীতে একবার হয়েছিল তা আবারো সম্ভব। এবং সেটা নিকট কোন ভবিষ্যতে, কেবলমাত্র গোবাল ওয়ার্মিং এর কারণে। শেং এর মতে, আগ্নেয়গিরির এমন বিস্ফোরণে পৃথিবীর একেবারে ভিতরের কার্বন ভূমির উপর ছড়িয়ে পড়ে যা থেকে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আর ঠিক একই অবস্থা হতে পারে আজকের দিনেও, অনিয়ন্ত্রিত কার্বন নিঃসরণের ফলাফল হিসেবে।

তথ্যসূত্র: সায়েন্সডেইলি

ওডি/এএন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড