• মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

পৃথিবীর নানা স্থানে আয়না নিয়ে যত রূপকথা

  অধিকার ডেস্ক    ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:০২

আয়না
আয়না নিয়ে যত কল্পকথা (ছবি: বিবিসি বাংলা)

রূপকথার গল্প-কবিতা পড়লে বা সিনেমা দেখলে আয়নার উপস্থিতি পাওয়া যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। আয়নায় দেখতে পাওয়া অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার নেই কোনো কমতি। আবার কোনো হারানো জিনিসের তথ্যও এক মুহূর্তে বলে দেয় আয়না। সৌভাগ্য-দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবেও দর্পণ জায়গা পেয়েছে পৃথিবীর দেশে-দেশে নানা গল্প-গাঁথায়।

আয়না নিয়ে প্রচলিত তেমনই কিছু কাহিনী নিয়ে বিবিসি প্রকাশ করেছে একটি প্রতিবেদন। চলুন জেনে নিই তেমন কিছু কাহিনী-

ভবিষ্যতের আভাস

প্রাচীন গ্রীসে ডাইনিরা আয়না ব্যবহার করত। খ্রিষ্টের জন্মের প্রায় তিনশ বছর আগের সেসব প্রাচীন গাঁথা থেকে জানা যায়, আয়নার মাধ্যমে ডাইনিরা নিজেদের দৈবদেশ ও বাণীগুলো লিখে রাখত।

এছাড়াও প্রাচীন রোমেও ধর্মগুরুরা অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বর্ণনা করার জন্যে দর্পণ ব্যবহার করতেন।

অন্য ভুবনের সংযোগ সাঁকো

বর্তমানে আয়না তৈরিতে অ্যালুমিনিয়ামের গুঁড়ো ব্যবহার করা হয়। কিন্তু প্রাচীন মিসরীয়রা ব্যবহার করত তাম্র চূর্ণ। তামার সাথে দেবী 'হাথোর'- এর সম্পর্ক ছিল বলে ধারণা করত মিসরীয়রা। হাথোর ছিলেন সৌন্দর্য, প্রেম, কাম, সমৃদ্ধি ও জাদুর দেবী।

আয়না

তেজকাটলিপোকা'র মুখোশ (ছবি: বিবিসি বাংলা)

প্রাচীন অ্যাজটেকরা আয়না বানানোতে ব্যবহার করত অবসেডিয়ান যা মূলত কাচের মতন দেখতে একজাতীয় কালো আগ্নেয়শিলা। অ্যাজটেকরা বিশ্বাস করত তারা দেবতা 'তেজকেটলিপোকা'র সাথে সম্পৃক্ত। রাত্রি, সময় ও বংশ পরিক্রমায় পাওয়া স্মৃতির দেবতা ছিলেন এই তেজকাটলিপোকা। স্বর্গলোক থেকে এই মাটির পৃথিবীতে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে শক্তিধর এই দেবতা আয়নাকে তার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতেন।

সুদূরের মিত্ররা

প্রাচীন চীনে চাঁদের স্বর্গীয় শক্তি ধরে রাখার জন্য আয়না ব্যবহারের চল ছিল। কথিত আছে, চীনের এক সম্রাট জাদুকরী এক আয়না বসিয়েই নিজের সাফল্য পেয়েছিলেন।

আয়না

প্রাচীন চীনে চাঁদের স্বর্গীয় শক্তি ধরে রাখার জন্য আয়না ব্যবহারের চল ছিল (ছবি: বিবিসি বাংলা)

আজ থেকে প্রায় দুই হাজার বছর আগে, ২৫ খ্রিষ্টাব্দে চীনের সম্রাট কিন শি হুয়াং দাবি করেছিলেন আয়নার দিকে তাকানো মানুষের মুখে তাকিয়ে তিনি তাদের আসল চিন্তা-ভাবনা ও মনের খবর পড়তে পারতেন।

রূপকথার কথক

জার্মানদের 'স্নো হোয়াইট' রূপকথায় কথা বলা এক আয়নার কথা আছে। সেই আয়না সব সময় সত্য কথা বলত।

আয়না

জার্মানদের স্নো হোয়াইট রূপকথায় কথা বলা এক আয়নার কথা আছে যেই আয়না সব সময় সত্য কথা বলত (ছবি: বিবিসি বাংলা)

জার্মানির বাভারিয়া অঞ্চলের লোর এলাকার জনগণ একসময় বিশ্বাস করত যে, আয়না সর্বদা সত্য কথা বলে।

ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক

আয়না নিয়ে বহু কুসংস্কার রয়েছে। আয়না ভেঙে ফেললে সাত বছরের জন্য দুঃখের দিন শুরু হয় বলেও মনে করত অনেকে।

প্রাচীন রোমানরা মনে করত মানুষের সাতটা করে জন্ম থাকে। আর কেউ যদি কোনো জন্মে একটা আয়না ভেঙে ফেলে তবে আয়নার ভাঙা টুকরোগুলোর ভেতরে সেই ব্যক্তির আত্মা আটকা পড়ে যায়। আবার পুনর্জন্ম না হওয়া পর্যন্ত সেই ব্যক্তির মুক্তি ঘটে না বলেই মনে করত তারা।

আয়না

আয়না ভেঙে ফেললে সাত বছরের জন্য দুঃখের দিন শুরু হয় বলেও মনে করত অনেকে

আর যদি ভাঙা কাচের সকল টুকরো জড়ো করে মাটির নিচে পুঁতে ফেলা যেত বা খরস্রোতা নদীর বুকে ফেলে দেয়া যেত তবে আর দুর্ভাগ্য থাকত না বলেও মনে করা হতো। তবে আয়না ভেঙে ফেলাকে পাকিস্তানে দুর্ভাগ্য নয় বরং সৌভাগ্য বা ইতিবাচক ঘটনার ইঙ্গিত বলেই মনে করা হয়। অর্থাৎ আয়না ভেঙে গেলে কোনো একটা অশুভ শক্তি গৃহ ছেড়ে যাচ্ছে বা শুভ কিছুর সূচনা ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করা হয়।

আর অভিনেতারা তো আয়না নিয়ে রীতিমতো কুসংস্কারে আক্রান্ত। কোনো অভিনেতা যদি আয়নার সামনে নিজে সাজ-পোশাক পড়তে থাকে আর তার ঘাড়ের ওপর দিয়ে যদি অন্য কেউ উঁকি দিয়ে দেখে তবে সেটিকে একটা খারাপ কিছু বা মন্দ ভাগ্যের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। তাছাড়া মঞ্চের উপর আয়না রাখার ক্ষেত্রেও নাট্যকর্মীদের একটা প্রবল অনীহা রয়েছে। একে তো বস্তুটা ভঙ্গুর। তার উপরে সেটি আবার বাতির সমস্ত আলো প্রতিফলন করে।

পর্দা টেনে দেওয়ার প্রথা

সেই ভিক্টোরিয়ান যুগের ব্রিটেনে বিশ্বাস করা হতো যে, মৃত ব্যক্তির শেষকৃত্য শুরু হবার সময় সেই বাড়িতে থাকা সকল আয়না পর্দা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

কারণ তখন মনে করা হতো যে, পর্দা দিয়ে আয়নাগুলো সব ঢেকে না দিলে মৃত ব্যক্তির আত্মাটা কোনো আয়নার ভেতরে ঢুকে আটকা পড়ে যেতে পারে।

প্রেতসাধনার উপাদান

আয়না নিয়ে 'ব্লাডি মেরি' নামের একটি খেলার কথা পুরোনো ডাকিনীবিদ্যা বিষয়ক লেখায় পাওয়া যায়।

কখনো খেলেছেন এই খেলা? এটি খুবই ভয়-ধরানো। বুকের পাটা না থাকলে এই খেলার নামটাও নেয়া ঠিক না।

আয়না

এভাবেই ডাকা হয় 'ব্লাডি মেরি'কে (ছবি: বিবিসি বাংলা)

কোনো এক গভীর অন্ধকার রাতে, হাতে একটা মোমবাতি নিয়ে আয়নার দিকে তাকিয়ে আপনি তিনবার বলবেন 'ব্লাডি মেরি।' নির্দিষ্ট কিছু আচারও পালন করবেন। তারপর চোখ বন্ধ করবেন। যখন চোখ খুলবেন তখন বুঝবেন যে ঠিক আপনার পেছনেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন ব্লাডি মেরি।

মনের এই ট্রিকটা বা ট্রিকের ধাক্কাটা নিতে পারলে, ব্লাডি মেরিকে দেখে চিৎকার দিয়ে আপনি হয়তো ওখানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারেন!

তীক্ষ্ম স্মৃতি

প্রাচীন কিছু সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করা হতো যে, আয়নার মধ্যে মানুষের আত্মা বা মানুষের ভেতরের প্রকৃত সত্ত্বার ছায়া পড়ে। এ ধারণাটি হয়তো এই বিশ্বাস থেকে এসেছে যে, ভ্যাম্পায়ার বা মানুষরূপী রাক্ষসদের আত্মা নেই। আর তাই তাদের কোনো ছায়া পড়ে না।

এরপর আপনি যখন কোনো আয়না দেখবেন তখন ভালো করে লক্ষ্য করবেন তো সেখানে কার ছায়া পড়ছে! সে কি সত্যিই আপনি?

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড