• রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৫  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন

সাপের বিষ যেভাবে কাজ করে

  ডা. মোঃ সাইফুল ইসলাম ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:০৩

সাপ
ছবি : প্রতীকী

সাপের বিষ (Venom) সাধারণত এক প্রকার হলুদ বর্ণের তরল পদার্থ যা বিশেষ ধরনের পরিবর্তিত স্যালিভারি গ্লান্ড বা লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। সারা বিশ্বে শত শত বিষাক্ত সাপের প্রজাতি রয়েছে যারা তাদের শিকারকে দুর্বল এবং নিশ্চল করার জন্য বিষ উৎপন্ন করে। সাপের বিষ সাধারণত বিষাক্ত প্রোটিন, এনজাইম ও অন্যান্য আণবিক উপাদান দ্বারা গঠিত। এই বিষাক্ত উপাদান বা টক্সিনগুলো কোষ ধ্বংস করে এবং স্নায়বিক স্পন্দন বন্ধ করে। ফলে বিষে আক্রান্ত ব্যক্তি বা শিকারের প্যারালাইসিস হয়। সাপ সতর্কতার সাথে তাদের বিষ শিকারের দেহে প্রবেশ করিয়ে দেয় এবং তাদেরকে শিকারে পরিণত করে।

সাপের বিষ কোষ ও টিস্যু ভেঙে ফেলে। প্যারালাইসিস হয় এবং অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের কারণে সাপে কাটা ব্যক্তি মারা যায়। সাপের বিষের বিষক্রিয়ার জন্য বিষকে কোষ, টিস্যু অথবা রক্তস্রোতে যেতে হবে। যদিও সাপের বিষ খুবই বিষাক্ত এবং মারাত্মক, তবুও গবেষকরা সাপের বিষ থেকে মানুষের চিকিৎসার জন্য নানা ধরনের ওষুধ তৈরি করেন।

সাধারণত সাপের বিষ রক্তে প্রবেশ না করলে সেই বিষ দিয়ে কেউ মারা যায় না। সুতরাং যদি কেউ সাপের বিষ খেয়ে ফেলে তাহলে সে মারা যাবে না। এই বিষ পেটের ভেতরের এসিড এবং অন্যান্য এনজাইম দ্বারা হজম হয়ে যাবে।

সাপের বিষের প্রাথমিক উপাদান হচ্ছে প্রোটিন। এই প্রোটিনই সাপের বিষের সর্বাধিক ক্ষতিকর উপাদান। সাপের বিষে প্রোটিন ছাড়াও রয়েছে এনজাইম। যা শরীরের বৃহৎ মলিকিউলের রাসায়নিক বন্ধনকে ভেঙে ফেলে। এই এনজাইম শরীরে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফসফোলিপিড ও নিউক্লিওটাইডকে ভাঙতে সহায়তা করে। এছাড়াও এই বিষ রক্তচাপ কমিয়ে দেয় ও লোহিত রক্ত কণিকা কে ভেঙে ফেলে। পেশীর নিয়ন্ত্রণকে বাধা প্রদান করে।

এগুলো ছাড়াও সাপের বিষে বিষাক্ত পলিপেপটাইড চেইন রয়েছে। পলিপেপটাইড হচ্ছে এমাইনো এসিড। সাপের বিষে ৫০ বা তার কিছু কম সংখ্যক অ্যামাইনো এসিড রয়েছে যা কোষের কার্যক্রমকে বাঁধা দেয়। এভাবে কোষকে মৃত্যুর দিকে টেনে নিয়ে যায়।

বিষাক্ত উপাদানগুলো সব ধরনের বিষাক্ত সাপে প্রায় একই ধরনের। তবে বিভিন্ন ধরনের উপাদানগুলো বিভিন্ন ধরনের সাপে কমবেশি থাকে। এই উপাদান ও কার্যক্রমের ওপরের ভিত্তি করে সাপের বিষকে সাধারণত তিনটি গ্রুপে ভাগ করা যায়।

•    সাইটোটক্সিন
•    নিউরোটক্সিন এবং
•    হেমোটক্সিন

এছাড়াও কিছু বিশেষ ধরনের টক্সিন রয়েছে সেগুলো হচ্ছে কার্ডিওটক্সিন, মায়োটক্সিন ও নেফ্রোটক্সিন।

এদের মধ্যে সাইটোটক্সিন দেহকোষ নষ্ট করে। এটি কোষকে ধ্বংস করার পর সেগুলোকে পঁচিয়ে ফেলে এবং তরলীকরণ করতে সহায়তা করে। সাইটোটক্সিন আংশিকভাবে শিকারকে হজম করতে সহায়তা করে। সাধারণত সাপ যেখানে কামড় দেয় সেখানকার কোষগুলোই বেশি ধ্বংস হয়।

নিউরোটক্সিন স্নায়ুতন্ত্রের স্পন্দন প্রবাহে বাধা দেয়। ফলে প্যারালাইসিস হয়। শ্বাসনালীর প্যারালাইসিসজনিত কারণে শিকারের মৃত্যু হয়।

হিমোটক্সিন রক্তের লোহিত কণিকার ভাঙন ঘটায়। রক্তের জমাট বাঁধাকে প্রতিহত করে। ফলে টিস্যু বা কলার মৃত্যু হয় এবং অঙ্গ নষ্ট হয়। লোহিত রক্ত কণিকার ভঙ্গনের ফলে রক্ত জমাট বাঁধা ব্যাহত হয় এবং অভ্যন্তরীণ রক্তপাত শুরু হয়। যেহেতু এখানে লোহিত রক্ত কণিকাগুলো মারা যায় তাই মৃত রক্ত কণিকাগুলো যথাযথভাবে কিডনির কার্যক্রমকে পরিচালিত হতে দেয় না। টক্সিনগুলো প্লাটিলেটস ও অন্যান্য রক্ত কোষগুলোকে একত্রে আটকে ফেলে। ফলে রক্তবাহী নালীগুলোতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়। এর ফলে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রোগীর মৃত্যুর হতে পারে।

সাপের বিষের মধ্যকার অন্যান্য টক্সিন যেমন কার্ডিওটক্সিন হৃদপিন্ডের ওপর কাজ করে হৃদপিণ্ডের কোষগুলোকে নষ্ট করে। নেফ্রোটক্সিন কিডনির কোষকে ধ্বংস করে ও কিডনির কাজকে ব্যহত করে। অপরদিকে মায়োটক্সিন পেশীর কোষগুলোকে নষ্ট করে পেশীর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এভাবেই এক সময় শিকারের মৃত্যু হয়।

সাপের বিষ খুবই মারাত্মক। বিষাক্ত সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন, ওঝা কখনো বিষ নামাতে পারে না। তাই সাপে কাটা রোগীকে ওঝার কাছে নিয়ে গিয়ে রোগীর জীবননাশ করবেন না। 

তথ্যসূত্র : থটকো ডট কম।
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড