• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পাখিদের আত্মহত্যা দেখতে পর্যটকদের ভিড়

  ভিন্ন খবর ডেস্ক

০৫ অক্টোবর ২০১৯, ২২:০৯
পাখি
পাখিরা আত্মহত্যা করে এই গ্রামে (ছবি : সংগৃহীত)

গ্রামের নামটি জাটিঙ্গা। এই গ্রামটি পর্যটনের জন্য ইতোমধ্যে ব্যাপক সুপরিচিত লাভ করেছে। বিশেষ করে প্রতি বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বর এই দুই মাসে প্রচণ্ড পর্যটক গ্রামটিতে ভিড় করে। জেনে অবাক হবেন যে কারণে জাটিঙ্গায় পর্যটকরা ভিড় করে তা খুবই মর্মান্তিক। কী সেই কারণ? সেটা হলো- জাটিঙ্গায় পাখিদের আত্মহত্যা দেখতে পর্যটকের ভিড় লেগে থাকে।

ভারতের আসাম রাজ্যের উত্তর কাছাড় জেলায় জাটিঙ্গা গ্রামটি অবস্থিত। জাটিঙ্গা শব্দের অর্থ ‘বৃষ্টি ও জল বেরিয়ে যাবার পথ’!

রাজ্যটির শিলং পাহাড়ের পর শুরু হয় হাফলং পাহাড়ের সারি। আসামের উত্তর কাছাড় জেলার সদর শহর হাফলং থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে জাটিঙ্গা গ্রাম। ছোট্ট এই গ্রামটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা।

ভারতীয় গণমাধ্যম কলকাতা২৪ এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়, শতাধিক বছর আগে নাগা উপজাতির কিছু লোক জাটিঙ্গায় গিয়েছিল। সেখানে আগুন পোহানোর সময় তারা এক আশ্চর্য দৃশ্য দেখতে পায়। দলে দলে পাখিরা এসে আগুনে আত্মসমর্পণ করছে নিজেকে। হ্যাঁ, স্বেচ্ছামৃত্যু! কিন্তু কেন? পাখিদের এই আত্মহত্যাকে স্থানীয়রা ঈশ্বরের দান বলে মনে করে! প্রতি বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বর মাসে এখানে বিভিন্ন ধরনের পাখি এসে দলে দলে আত্মহত্যা করে! এই রহস্যময় ঘটনাটিই জাটিঙ্গাকে অন্যতম পর্যটন এলাকায় পরিচিতি দিয়েছে।

আসাম পর্যটন দপ্তর একটি ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করেছে জাটিঙ্গায়, যেখানে উঠে রাতের বেলা পাখিদের আত্মহত্যা দেখা যায়!

জানা গেছে, স্থানীয় মানুষদের মাংসের প্রয়োজন হলে রাতে আগুন জ্বালিয়ে বসে থাকে। আর পাখিরা ডানা ঝাপটে আসতে থাকে আত্মহত্যা করতে। আগুণের  ঠিক উপরে এসে পাখা আর পা ছেড়ে দিয়ে ধপাস করে মাটিতে পড়ে যায়। ওই মায়াবী চোখের পাখিগুলোকে তখন দেখে মনে হয় অর্ধমৃত। তারা জীভনের প্রতি প্রচন্ড বিরক্ত। আর তাই এ জীবন রাখতে চায় না তারা।

অবশ্য আকাশ থেকে লুটিয়ে পড়ার সময় সব পাখিই যে আগুনের উপর ঝাঁপ দেয়, তা নয়। কিছু কিছু পাখি ইতস্তত ছড়িয়ে থাকে আগুনের পাশে। কিন্তু ওরা বেঁচে থাকলেও মরার মতোই পড়ে থাকে। খুব সহজেই ধরা দেয় পাখিগুলো। গ্রামবাসীরা আগুনের দিকে উড়ে আসতে থাকা পাখিদের গুলতি দিয়েও শিকার করে থাকে।

ওডি/টিএএফ

আপনার চোখে পড়া অথবা জানা অন্যরকম অথবা ভিন্ন স্বাদের খবরগুলোও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড