• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

একসঙ্গে তিন লটারি জিতে বিপাকে রাজমিস্ত্রী

  ফিচার ডেস্ক

২৩ জুন ২০১৯, ১৯:৫০
রুপি
ছবি: প্রতীকী

লটারির টিকিটে ভাগ্য ফেরানোর আশায় অনেকেই টিকিট কেটে অপেক্ষা করেন। একবার, দুইবার, বার বার টিকিট কিনেও ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ে খুব কম মানুষেরই। লটারির টিকিট কেনার অভ্যাসটা নূর হোসেনের অনেক আগে থেকেই। মাঝেমাঝেই শখ করে ভাগ্য পরীক্ষার জন্য টিকিট কাটতেন তিনি। তবে গত বৃহস্পতিবার যা ঘটল তার জন্য একটুও প্রস্তুত ছিলেন না রাজমিস্ত্রীর কাজ করা ভারতের এই নাগরিক।

ভারতের রেজিনগরের মরাদিঘীর এই বাসিন্দা নিত্যদিনের মতো কাজে বেড়িয়ে পড়েছিলেন চা–মুড়ি মুখে দিয়েই। পথে যেতে যেতে দেখা হলো এক লটারি বিক্রেতার সাথে। কী মনে করে যেন তিনটি টিকিট কেটে ফেললেন তিনি। সে দিন সন্ধ্যাতেই প্রকাশ পায় লটারির ফলাফল। ফল দেখে তো নূর হোসেনের চক্ষু চড়কগাছ। তার কেনা তিনটি টিকিটই পুরস্কার জিতেছে। শুধু তাই না, প্রথম পুরস্কারটিও বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি।

নূর হোসেনের জেতা টিকিট তিনটিতে টাকার পরিমাণ যথাক্রমে ২৬ লাখ, ১০ হাজার, এবং ছয় হাজার ২০০ রুপি। হুট করে এত টাকা পেয়ে স্বল্প আয়ের এই মানুষটির ঘোর যেন কাটছেই না। তিনি লটারি পাওয়ার পরে জানান, ‘মাঝেমাঝে এমন স্বপ্ন দেখতাম, আমি লটারি জিতে অনেক টাকার মালিক হয়ে গেছি। কিন্তু সত্যি সত্যি এটা ঘটেছে এটাই বিশ্বাস হচ্ছে না। মনে হচ্ছে এটা কোন স্বপ্নের ঘটনা। হুট করে ঘুম ভেঙে যাবে।‘

এত টাকা হুট করে পেয়ে রাজমিস্ত্রীর কাজ করা এই মানুষটি কীভাবে খরচ করবেন তাই ভেবে বের করতে পারছেন না। তিনি জানান, ‘এখন যেই অবস্থা, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। এত টাকা কীভাবে কী করব তা ভাবতে গিয়েই আমার রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।‘

রাজমিস্ত্রীর কাজ করে নূর মা, স্ত্রী এবং এক মেয়েকে নিয়ে কষ্ট করেই সংসার চালান। বাড়ি থেকে অনেক দূরে বেঙ্গালুরুতে গিয়ে রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন নূর। লটারি জেতার পর তিনি আবার সেখানে ফিরে যাবেন কি না সেটি এখনও ঠিক করতে পারেননি।

নূরের স্ত্রী মার্জিয়া বিবির খুশি যেন ধরে না। স্বামীর এমন কীর্তিতে তিনি বেশ আমুদেই আছেন। তিনি বলেন, ‘অভাবের সংসারে এমন খবর কী যে শান্তির তা বোঝানো যাবে না। আমাদের দিকে ওপরওয়ালা সদয় হয়েছেন। আমার স্বামীকে বলেছি কোনোভাবেই যেন টাকা নষ্ট না করে।‘

তাদের একমাত্র মেয়েকে নিয়েই স্বপ্ন তাদের। মার্জিয়া বিবি জানান, লেখাপড়া শিখিয়ে মেয়েকে মানুষের মতো মানুষ করতে আর্থের বাধা আর রইলো না এতেই খুশি তিনি। নূরের ভাবনাতেও এমনটাই আছে। তিনি জানিয়েছেন, খানিকটা ঘাবড়ে গেলেও যা করবেন পরিকল্পনা করেই করবেন।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

ওডি/এসএম

আপনার চোখে পড়া অথবা জানা অন্যরকম অথবা ভিন্ন স্বাদের খবরগুলোও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড