• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

বিনা মাথায় দেড় বছর বেঁচে ছিল যে মুরগি!

  অধিকার ডেস্ক    ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ১১:৩৩

মাথাহীন মুরগি
লয়েডের মাথাহীন মুরগি (ছবি : সংগৃহীত)

মাথা ছাড়া মানুষ! ভৌতিক গল্প ছাড়া এমন কিছু কখনোই সম্ভব নয়। কেবল মানুষ কেন, মাথাহীন কোনো প্রাণীর পক্ষেই বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। তবে এই অসম্ভব কাজটাই সম্ভব হয়েছে একটি মুরগির ক্ষেত্রে। এক-দুই দিন নয়, পাক্কা দেড় বছর যে বেঁচে ছিল মাথা ছাড়াই! 

কলোরাডোর ফ্রুটা শহরের আদিবাসী লয়েড ওলসেন ও তাঁর স্ত্রী ক্লারা। খাবার দোকানে মুরগি সাপ্লাইয়ের কাজ করতেন তারা। ১৯৪৫ সালের সেপ্টেম্বরের এক সকালের কথা। চল্লিশটি মুরগি কাটার পর তারা দেখতে পান ধড় আলাদা করার পরও একটি মুরগি টলতে টলতে হেটে বেড়াচ্ছে। দম্পতি ভেবে নেন, মরতে একটু বেশি সময় নিচ্ছে সে। আর তাই তাকে একটি বাক্সে রেখে ঘুমাতে যান। 

পরদিন সকালে ঘুম ভেঙেও যেন স্বপ্ন দেখছিলেন তারা। এমন অদ্ভুত দৃশ্য দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না এ দম্পতি। একি অলৌকিক ক্ষমতার জোরে মাথা ছাড়াই বেঁচে আছে একটি মুরগি! লয়েডের এমন মুরগির খবর বেশ দ্রুত বেগে ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে। সাংবাদিকরাও ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সবকিছু মিলিয়ে খাবারের পাতে যার থাকার কথা সে মুরগি রীতিমত সেলিব্রেটি হয়ে যায়।

অলৌকিকভাবে নতুন জীবন পাওয়া মুরগির নাম দেওয়া হয় ‘মিরাকল মাইক’। আর তাকে এক নজর দেখার জন্য চারদিকে হইচই শুরু হয়ে যায়। এই মুরগিকে নিয়ে প্রদর্শনীর সুবাদে লয়েড দম্পতির দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন সত্য হয়ে যায়। 

মাথা ছাড়া কীভাবে বেঁচে রইলো মাইক?

মূলত মাইকের মাথায় যখন কোপ মারা হয়েছিল তখন একটি কান বাদে তার চোখ, ঠোঁটসহ পুরো মাথাটাই কেটে যায়। মুরগীদের মাথার পেছনের অংশে থাকে মস্তিষ্কের মূল অংশ। আর মাইকের ক্ষেত্রে বেশ আশ্চর্যজনকভাবে মস্তিষ্কের ৮০ শতাংশই অক্ষত থেকে যায়। 

এই বেঁচে যাওয়া মস্তিষ্কের অংশই তার হৃদস্পন্দন থেকে শুরু করে শ্বাসপ্রশ্বাস, খিদে, হজম— সব নিয়ন্ত্রণ করত। 

খাবার ছাড়া বেঁচে ছিল কীভাবে? 

মাথা নেই এমন প্রাণী খাবার গ্রহণ করতে পারবে না এমনটাই আপনি আমি ভাবব। তবে মাইক খাবার গ্রহণ করতে পারত। পানি আর তরল খাবার সিরিঞ্জের মাধ্যমে তার খাদ্যনালীতে ঢেলে দেওয়া হতো। খাদ্যনালীর চারদিকের ময়লাও সিরিঞ্জের সাহায্যে পরিষ্কার করে দিতেন লয়েড। 

১৯৪৭ সালের মার্চের এক রাতে খাবার আটকে প্রাণ হারায় মাইক। মাথা হারিয়েও দেড় বছর দিব্যি বেঁচে ছিল যে মুরগি। তবে মৃত্যুর পরও মানুষের গল্প আর কল্পকথায় বেঁচে ছিল মাইক। কলোরাডোর ফ্রুটা শহরে গেলে এখনও দেখা মেলে মাথাহীন এক মুরগির স্ট্যাচুর। এমনকি প্রতি বছর মে মাসে মাইকের স্মৃতিতে পালন করা হয় ‘হেডলেস চিকেন ফেস্টিভ্যাল’।

আপনার চোখে পড়া অথবা জানা অন্যরকম অথবা ভিন্ন স্বাদের খবরগুলোও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড