• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ১৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সময়মতো স্কুলে আসেন না প্রধান শিক্ষক, বেঁধে রাখলেন অভিভাবকরা!

  ভিন্ন খবর ডেস্ক

২০ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:০৭
প্রধান শিক্ষক
ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষার্থীরা সময়মতো স্কুলে না আসলে দেওয়া হয় নানারকম শাস্তি। হয়তো বন্ধ করে দেওয়া হয় স্কুলের মূল ফটক কিংবা দাঁড় করিয়ে রাখা হয় শ্রেণিকক্ষের বাইরে। কিন্তু একই কাজ যদি করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক? সম্প্রতি এমন ঘটনার অভিনব প্রতিবাদ করলেন অভিভাবকরা। 

সময়মতো স্কুলে না আসায় বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় নামে এক প্রধান শিক্ষককে বেঁধে রাখা হলো বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে। দেরিতে আসার এই শাস্তি দিলেন অভিভাবকরা। এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় ঝালদার পুস্তি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

পুঞ্চা থানার বদঙা গ্রামের বাসিন্দা স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যোগদানের পর চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সময়মতো স্কুলে আসেন না তিনি। শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলেও দেওয়া হতো না মানসম্পন্ন খাবার। কেউ কোনো অভিযোগ নিয়ে তার কক্ষে গেলেও, তাকে সেখানে পেতেন না। 

প্রধান শিক্ষকের স্বভাব বদলানোর অনেক চেষ্টাই করেছিলেন অভিভাবকরা। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেও মেলেনি কোনো ফল। স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত ঐ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এই প্রথম নয়। এর আগের দুই প্রতিষ্ঠানেও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আর সে কারণে তিনবার তাকে বদলিও করা হয়েছে শাস্তিস্বরূপ। কিন্তু তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। 

এর আগেও একবার অভিভাবকরা স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। সে সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মুচলেকা দিয়ে পুনরায় স্কুল শুরু করেন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু গত আগস্ট থেকে আবার নিজের স্বভাবে ফিরে যান তিনি। শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলে মুড়ি চানাচুর দেওয়া, দেরিতে স্কুলে আসা— সব অনিয়মই চলছিল সেখানে। 

এরই জের ধরে গত ১৮ নভেম্বর (সোমবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রধান শিক্ষক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় বিদ্যালয়ে এলে তাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে ফেলেন এলাকাবাসী। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসে তাকে মুক্ত করেন। ছাড়া পেয়েই স্থানীয় থানায় এ নিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়।

আদালত প্রধান শিক্ষকের পক্ষে রায় দিলেও পুরুলিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এই ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ওই প্রধান শিক্ষককে তলব করা হবে বলে জানা গেছে। 

ওডি/এনএম 

আপনার চোখে পড়া অথবা জানা অন্যরকম অথবা ভিন্ন স্বাদের খবরগুলোও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড