• সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

৯৭ বছর ধরে যে গ্রামের জনসংখ্যা একই আছে

  ভিন্ন খবর ডেস্ক

১৬ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫৬
জনসংখ্যা
যে গ্রামে ৯৭ বছর ধরে জনসংখ্যা একই (ছবি : প্রতীকী) 

দীর্ঘ ৯৭ বছর যাবত একটি গ্রামের জনসংখ্যা একই আছে। শুনতে অবাক লাগলেও ঘটনাটি সত্যি। ওই গ্রামে ১৯২২ সালে জনসংখ্যা ছিল ১৭০০ জন। আর ২০১৯ সালে এসেও জনসংখ্যা ১৭০০ জনই আছে গ্রামটিতে। তার মানে দাঁড়াচ্ছে গ্রামটির জনসংখ্যা ৯৭ বছর ধরে একই আছে।

ভারতের মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলার এই গ্রামটির নাম ধনোরা। গ্রামের কোনো পরিবারেই ২টির বেশি সন্তান নেই। মজার বিষয় হচ্ছে ওই গ্রামের ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে কোনো ধরনের ভেদাভেদ নেই। অবশ্য এর পেছনে একটি গল্প আছে।

১৯২২ সালে কংগ্রেসের একটা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ধনোরা গ্রামে। আর ওই সভায় গান্ধীর স্ত্রী কস্তুরবা গান্ধী বক্তব্য দিয়েছিলেন। কস্তুরবা গান্ধী একটি স্লোগানে বলেন, 'সুখী জীবনের মানে ছোট পরিবার অর্থাৎ সুখী পরিবার।' গ্রামবাসীরা কস্তুরবার সেই কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। সেদিনের পর থেকে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ শুরু করে গ্রামের লোকজন।

ধনোরা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সে দিনের পর কস্তুরবা গান্ধীর সেই কথাটি গ্রামের মানুষের মনে গেঁথে যায়। এরপর থেকেই পরিবার পরিকল্পনার বিষয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে সচেতনতা লক্ষ করা যায়। পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের পর থেকে প্রতিটি পরিবারে এক বা দুইটি সন্তানের বেশি কেউ নেয়নি। এভাবে একটা সময় গিয়ে গ্রামের জনসংখ্যা স্থির হওয়া শুরু করে। গ্রামের বাসিন্দারা এক বা দুইটি সন্তান হওয়ার পরে সন্তান নেওয়া বন্ধ করে দেন। খবর এনডিটিভি

ওই এলাকার সাংবাদিক মায়াঙ্ক ভার্গব বলেন, পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ধনোরা গ্রামটি এখন মডেল। ছেলে হোক বা মেয়ে হোক দুটি সন্তান মানেই হচ্ছে- ‘সুখী পরিবার’। এই পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ করার পর থেকে গ্রামে ছেলে মেয়ের অনুপাত অন্য স্থানের চেয়ে অনেক ভালো। এখানে ছেলে ও মেয়ে সন্তানের মধ্যে কোনো বৈষম্য নেই।

তিনি আরও বলেন, এখানকার বাসিন্দারা বলেছেন ধনোরা গ্রামের আশপাশের বহু গ্রামে ৫০ বছর আগের জনসংখ্যার থেকে বর্তমানে ৪-৫ গুণ জনসংখ্যা বেড়ে গেছে। কিন্তু ধনেরো গ্রামটির জনসংখ্যা এখনো ১৭০০ জনই আছে।

গ্রামটির স্বাস্থকর্মী জগদীশ সিং পরিহার জানান, গ্রামবাসীদের কোনোদিন পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ করার কথা বলতে হয়নি তাকে। তারা এতটাই সচেতন যে, দুইটি সন্তান হওয়ার পর তাদের পরিবার পরিকল্পনা সম্পন্ন করেন।

ওডি/টিএএফ

আপনার চোখে পড়া অথবা জানা অন্যরকম অথবা ভিন্ন স্বাদের খবরগুলোও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪, ০১৯০৭৪৮৪৮০০ 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড