‘মা’ হারানোর শোক বুকে চেপে নির্বাচনী মাঠে গোপাল

প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:১৭

  দিনাজপুর প্রতিনিধি

‘জননী জন্মভুমিশ্চ স্বর্গাদপী গরিয়সী’। অর্থ্যাৎ মা এবং জন্মভুমি (দেশ) স্বর্গের চেয়েও শ্রেষ্ট। এক্ষেত্রে চিরন্তন এই উক্তি অনুযায়ী মা এবং জন্মভুমি কোনোটাই কোনো অংশে কম নয়। তাইতো একদিকে সন্তান হিসেবে মায়ের জন্য শেষকর্ম, আর অন্যদিকে দেশের এই চরম মুহূর্তে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ রক্ষার কাজ। কোনোটাকেই খাটো করে দেখছেন না দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল। 

মনোরঞ্জন শীল গোপালের জন্মদাত্রী মা নিত্যরানী শীল ইহলোক ত্যাগ করেছেন গত শনিবার। হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী শেষকৃত্ত্বে মায়ের মুখাগ্নি করেছেন একমাত্র পুত্র মনোরঞ্জন শীল গোপাল। আর শ্রাদ্ধ্যাদি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী একমাত্র ছেলে হিসেবে মায়ের সব কাজ তাকেই সম্পন্ন করতে হচ্ছে। 

ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দিনভর নানান কর্ম, এক কাপড়ে থাকা, এরপর নিজেই রান্না করে বিধি নিষেধ মেনে দিনে একবার আহার। মায়ের আত্মার শান্তির জন্য ছেলে হিসেবে মৃত্যুর দিন থেকে টানা এগারো দিন এসব কর্ম সম্পাদন আর এভাবেই চলতে হবে তাকে। মায়ের আদরের একমাত্র ছেলে হিসেবে হিন্দু রীতি অনুযায়ী সব কাজই যথারীতি সম্পাদন করছেন মনোরঞ্জন শীল গোপাল।

এরই মধ্যে আবার নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আস্থা ও বিশ্বাস রেখে দিনাজপুর-১ আসনে এবারও তাকেই মনোনয়ন দিয়েছেন। শেখ হাসিনার মতে- এই নির্বাচন দেশ রক্ষার নির্বাচন, দেশের উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্বাচন। এই নির্বাচনযুদ্ধে দিনাজপুর-১ আসনের যোগ্য সৈনিক হিসেবে মনোরঞ্জন শীল গোপালকেই আবারও মনোনয়ন দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার এই অবিচল বিশ্বাস ও আস্থা অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি দেশকে রক্ষার জন্য মায়ের শেষকর্মের পাশাপাশি পরনে এককাপড় আর হাতে কুশ আসন নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণাতেও নেমেছেন সদ্য মাতৃহারা মনোরঞ্জন শীল গোপাল। 

মনোরঞ্জন শীল গোপাল জানান, জন্মদাত্রী মাকে হারানো আর দেশের এক বিশেষ মুহূর্তে দুটোই কঠিন সময়। মাকে হারিয়েছি এমনি এক কঠিন সময়ে। কিন্তু জনগণের ভালোবাসা হারাতে চাই না। দেশ ভালো থাকলে জনগণ ভালো থাকবে। আর জনগণকে ভালো রাখতে পারলে আমার মায়ের আত্মও শান্তি পাবে। 

তাই জনগণকে ভালো রাখার জন্য আমার এই কঠিন মুহূর্তেও দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে আমি মায়ের কর্মাদির পাশাপাশি জনগণের পাশে যাচ্ছি। “জননী জন্মভুমিশ্চ স্বর্গাদপী গরিয়সী” এর বাস্তবতা বিশ্বাস করেই আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় জনগণের কাছে যাচ্ছি। 

যদিও নির্বাচনের মাঠে যতটা সময় দেওয়া দরকার-তা হয়তো পুরোপুরি পারছিনা আমার মায়ের আত্মার শান্তিতে শেষকর্মাদি সম্পন্নের জন্য। কিন্তু মা তো সবার আছে। কারও বেঁচে আছে-আবার কারও চলে গেছে পরপারে। কিন্তু সবাই তো মাকে ভালোবাসে সারা অন্তরজুড়ে। তাই জনগণ আমার এই অবস্থার কথা বিবেচনা করবে অবশ্যই। 

তিনি আরও জানান, মা হারানোর শোক তো প্রতিটি সন্তানের জন্য পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় কষ্টকর। আমার ক্ষেত্রেও তাই। তারপরও জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশ রক্ষায় আমার ওপর দিনাজপুর-১ আসনের যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন, তা পালনেই মাতৃহারা এই শোক বুকে চেপে রেখেই দেশ রক্ষার সংগ্রামে নেমেছি।