• সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

লেখক: মহিউদ্দিন ইবনে আল আরাবি

দিওয়ান-ই-ইবনে আল আরাবি

দৈনিক অধিকার ঈদ সংখ্যা-১৯

  ভাষান্তর : মঈন মুনতাসীর

০৮ জুন ২০১৯, ১৫:১৭
কবিতা
ছবি : দিওয়ান-ই-ইবনে আল আরাবি

لمعَ البرقُ علينا عشاءً 

لمعَ البرقُ علينا عشاءً    وكمثلِ الصبحِ ردَّ المساءُ 
وسطا باسمٌ حكيمٌ فأخفى    زمن الصيفِ وأبدى الشتاء 
زرعَ الحكمة َ في أرضِ قومٍ    وكساها من سناه البهاءُ

 

১ 


বজ্রের আলোয় আলোকিত হই আমরা

বজ্রের আলোয় আলোকিত হই আমরা
সন্ধ্যার প্রতিপক্ষ হিসেবে সকাল যেমন
গ্রীষ্মকালেও তিনি শীতকাল দেখান এমন
সে প্রজ্ঞাময় (মানুষের মাঝে) লুকিয়েছেন চামড়া
এটি তাঁর জমকালো ঘরের বাইরের বাঁশি
তিনিতো সাধারণ মানুষের মাঝে (সার্থক) জ্ঞানচাষী 


لي الأرضُ الأريضة ُ والسماءُ 

لي الأرضُ الأريضة ُ والسماءُ    وفي وسطي السواءُ والاستواءُ
لي المجدُ المؤثلُ والبهاءُ    وسرُّ العالمينَ والاعتلاءُ
إذا ما أمتِ الأفكارُ ذاتي    يحيرّها على البعد العماءُ
فما في الكون من يدري وجودي    سوى من لا يقيدهُ الثناءُ
له التصريفُ والأحكام فينا    هو المختارُ يفعلُ مايشاءُ

 

২  

 
আমার অসুস্থ জমিন ও আসমান

(আমাদের) উভয় সমীকরণের মাঝে
আমার অসুস্থ জমিন ও আসমান
এ বিশ্বের বাহাদুরী ও সুনিপুণ সাজে
আদর্শ ও প্রতারণা যাদের গৌরব সমান
তাদের মাটিতে মিশিয়ে দাও চিরতরে 
যেনো শরীরের সাথে চিন্তাগুলোও হয় ফানা
প্রশংসামুখরহীনরা ধ্বংস হবে না নিজের ঘরে
এই বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডে নিজের পরিচয় আমার জানা 
(আর তাঁর পরিচয়) তিনি যা চান তাই করেন-সুশীল
                    আমাদের মাঝে তাঁর বিচার এবং নির্গমন ক্রীয়াশীল।

 

للحقِّ فينا تصاريفٌ وأشياءُ 

        
للحقِّ فينا تصاريفٌ وأشياءُ    ولا دواءَ إذا ما استحكم الداءُ         
الداءُ داءٌ عضالٌ لا يذهبه    إلا عبيدٌ له في الطبِّ أنباءُ         
عن الإله كعيسى في نبوته    ومن أتته من الرحمن أنباء         
لا يدفعُ القدرَ المحتومَ دافعهُ    إلا به ودليلي فيه الاسماء         
إنا لنعلمُ أنواءَ محققة     وقد يكفرُ من تسقيه أنواءُ         
العلمُ يطلبُ معلوماً يحيط به    إنْ لم يحط فإشاراتٌ وإيماء         
ليس المرادُ من الكشفِ الصحيح سوى    علمٍ يحصلهُ وهمٌ وأراءُ         
إن الذين لهم علمٌ ومعرفة     قتلى وهم عند أهلِ الكشفِ أحياءُ. 

       



আমাদের চিন্তা ও পরিণতির বৈধতা আছে

                    যদি (তাঁকে খোঁজার) রোগটি গুরুতর হয়, তবে তার কোনো প্রতিকার নেই
                    (তবে) আমাদের চিন্তা ও পরিণতির বৈধতা আছে
শুধু তাঁর গোলাম যে, প্রতিষেধক পাবে সেই
                    এটা এমন রোগ- অসুখী করে, নিমূল করে না পাছে
                    এ রোগ আমাদের কল্যাণ জানে
                    যেমন মসীহে আকাশবাণীতে দিয়েছেন খোদার সংবাদ 
                    তাঁর মাধ্যমে আসমানী কিতাব যে নামগুলো বয়ে আনে
                     সেদিকেই ধাবিত হয় আমাদের নিয়তি-মতবাদ
                    যে তাঁর পথে রক্ত দেয় তাকে ক্ষমা করা যেতে পারে 
                    আমরা জানি কী ঘটছে (এই ব্রহ্মাণ্ডে)
                    যদিও তাঁর ইঙ্গিত ও অঙ্গভঙ্গি নেই (বিশ্ব-চরাচরে)
                    বিজ্ঞান কাছাকাছি তথ্য চায় (তাঁকে খোঁজার কর্মকাণ্ডে)
                    এমনও হয় তারা পেয়েও যায় তাঁর সন্ধান
অথচ সনাক্ত করতে পারে না কোথায় তাঁর ঘর
তারা প্রাণ ফিরে পেয়েও আবার হারায় প্রাণ
এ তত্ত্বকথা সেই শুধু বুঝবে, মারেফাতের জ্ঞান আছে যার


إذا سدَّسَ الذاتَ النزيهة َ عارفٌ 

إذا سدَّسَ الذاتَ النزيهة َ عارفٌ    وأدرجَ في بدرٍ التمامِ ذكاءَ
وألحقَ أرواحَ العُلى بنفوسِها    وأعطاك من نور السَّناء ضياء
وأحكم أشياءَ وأرسلَ حكمة     وصيرَّ أعمالَ الكيانِ هَباء
فذاك الذي يجري إلى غير غاية    ويطلعُ أقمارَ الشهودِ عشاءَ
وتبصره يعطي صباحاً حياتَه    ويقبضُهاه جوداً عليكَ مساءَ

 

৪    


বুদ্ধিমানরা স্বধার্মিক

এটি (এমন ইন্দ্রীয় যা) সৃষ্টিতত্ত্ব সম্পর্কে জ্ঞানীদের মধ্যে বিরাজ করে
যখন তাঁদের স্বধার্মিকতা জাগ্রত হয় 
তিনিতো নূর হতে তোমাকে দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি দিয়েছেন
আর সত্যকে তিনি নিচ থেকে তুলে তাঁর নফসের উপর রেখেছেন
প্রকৃতপক্ষে আমল ছাড়া সত্তার কোনো নিজস্বতা নেই
আমি চিন্তার দ্বারা বিচার করি এবং জ্ঞান বিতরণ করি
রাতের উজ্জ্বল চাঁদগুলোতো তাঁর সন্ধান দেয়
তারাতো এক অজানা পথে ঘুরে বেড়ায় 
সন্ধ্যা হলেই তারা তোমাকে আকৃষ্ট করে 
এই চাঁদ নিজের মাঝে তাঁকেই লুকিয়ে রাখে

 

يقرر المنعم النعما إذا شاءَ 

يقرر المنعم النعما إذا شاءَ    على الذي شاءه ومثله جاءَ
امتنَّ جوداً فأعطاهُ عنى ً وهدًى    معنى وحساً وإيجاداً وغيواءَ
من جودهِ كانَ شكرُ الجودِ في خبرٍ    كان الحديثُ عن النعماءِ نعماء
رفقاً منَ اللهِ للبحلِ الذي عجبتْ    نفوسُنا فيه إذْ أنشأنَ إنشاءَ
إنَ المنازعَ في الأمثالِ ذو حسدٍ    ماشئتهُ لمْ يشأْ مالمْ أشأْ شاءَ
وقد يكون لنا خيراً نفوز به    لعلمِنا أنَّ ظِلَّ المثلِ قدْ فاءَ

 

৫    


দয়ালের ইচ্ছায় সব হয়

(বান্দার মাঝে) তিনি যেভাবে চান সেভাবেই আসেন 
এগুলো দয়ালের মর্জি অনুসারে হয়ে থাকে
তার অর্থ হলো- অনুভূতিতে, অনুসন্ধানে এবং ঈর্ষায় তিনি ভর করেন
আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ, আমার কথা ও পাথেয় তাঁকে দিতে চাই 
তাঁর প্রেরিত পুরুষদের কথাগুলো মধুর ছিলো
মহাপুরুষগণতো তাঁর প্রশংসার খবর দিয়েছেন
আমাদের আত্মা যখন মানুষে রূপান্তরিত হলো 
খোদার বন্ধুত্ব লাভের আগেতো আমরা নির্বোধ ছিলাম 
তিনি যতোক্ষণ ইচ্ছা পোষণ না করবেন ততোক্ষণ কিছু করেন না 
নিশ্চয়ই এসব ঈর্ষন্বিত ধাঁধাঁর  মধ্যে দ্বন্দ্ব উপস্থিত 
অথচ এসব (ধাঁধাঁর) উত্তরতো দেয়া আছে 
অবশ্যই আমাদের ভালোর জয় হতে পারে


 
سرجُ العلمِ أسرجتْ في الهواءِ        
سرجُ العلمِ أسرجتْ في الهواءِ    لمرادٍ بليلة الإسراءِ
أسرجتَها عندَ المساءِ لديهِ    طالعاتٌ كواكبُ الجوزاء
فاهتدى كلُّ مالكٍ بسناها    من مقامِ الثرى إلى الاستواء
ثمَّ لمَّا توحَّدوا واستقلوا    ردّ أعلاهُمُ إلى الابتداءِ
    
هكذا حكمة المهيمنِ فينا    بين دانٍ وبين وانٍ ونائي
    
    


ঘূর্ণায়মান বাতাসে জ্ঞানের লাগাম টেনে ধরো 

পাথরের মতো রাত্রি আবৃত হয়
ঘূর্ণায়মান বাতাসে জ্ঞানের লাগাম টেনে ধরো
গ্রহের মিথুনরাশি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করো 
আমি সন্ধ্যায় তাকে যেতে দেবো 
সম্পদগুলোকে সমতাবিধানের পর 
ফলত মালিক সব সম্পদ ফেরত নেবেন
(জ্ঞানের যাত্রা শুরু করার জন্য) এর উত্তর প্রয়োজন
অতঃপর তারা (উত্তর খোঁজার জন্য) একত্রিত হয় এবং জ্ঞানের সান্নিধ্যে ঢুকে পড়ে
ধর্ম ও শূন্যের মাঝামাঝি (তোমার মালিকের) জ্ঞানের অবস্থান 
আর এভাবে জ্ঞান আমদের নিয়ন্ত্রণ করে।

 

بالمالِ ينقادُ كل صعبٍ        

بالمالِ ينقادُ كل صعبٍ    من عالم الأرض والسماء
يحسبه عالمٌ حجاباً    لم يعرفوا لذة َ العطاءِ
لولا الذي في النفوسِ منهُ    لم يجب الله في الدعاء
لا تحسب المال ما تراه    من عَسْجد مشرقٍ لرائي
بل هو ما كنتُ يا بنيّ    به غنياً عن السواء
فكنْ بربِّ العلى غنيّاً    وعاملَ الحقَّ بالوفاءِ

 

  
সম্পদ সবকিছু কঠিন করে তোলে

যে আসমান ও জমিন সম্পর্কে জানে 
(সে এটাও জানে) সম্পদ সবকিছু কঠিন করে তোলে 
তারা মূলত আদান-প্রদানের বিষয়ে অবগত ছিলো না 
তারা জাগতিক জ্ঞান থেকে গণনা বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেছে
প্রার্থনাকারীরের উত্তরতো খোদা সবসময় দেন না 
যদি (খোদাকে) সে আত্মার ভেতর ধারণ না করে 
আমার অন্তরের উজ্জ্বলতা থেকে 
যে সম্পদ দেখো তা কখনো গণনা করো না। 
(টাকা এবং অন্তরের উজ্জ্বলতা) দুটোই সম্পদ
তুমি কি আমার সন্তান?
আমি তোমাকে আমল পূর্ণ করার কথা বলছি
তাহলে তোমার প্রভুর নিকট থেকে বিরাট সম্পদের অধিকারী হবে।

 

ستكونُ خاتمة ُ الكتابِ لطيفة
ستكونُ خاتمة ُ الكتابِ لطيفة     من حضرة التوحيد في عليائها
تحوي وصايا العارفين وقطبهم    فهي المنار لسالكي سِيسَائِها
من كلِّ نجم واقع بحقيقة    وأهلَّة طلعتْ بأفقِ سمائها
وأتى بها عرساً غرانيقٌ على    منْ منزلِ الملكوتِ في ظلمائها
ليعرِّف النحرير قطب وجودِه    وبنيهُ بدراً بنورِ سنائِها
فمن اقتفى أثر الوصية إنه    بالحال واحد عصره في يائها
ويكونُ عندَ فطامِهِ منْ ثديها    وطلابه الترشيح من أمرائها
هذي الطريقة أعلنت بعلائها    فمن السعيد يكون من أبنائها

 

   
বইয়ের সমাপনীটা চমকপ্রদ

(যে খোদার প্রেমিক) তার চোখে একত্ববাদের আলো থাকে 
(সে এমন বইয়ের উদাহরণ) যার সমাপনীটা চমকপ্রদ 
আর খোদার নূরের আলোয় সে আলোকিত হয় 
এ কথাগুলো মূলত জ্ঞানীদের জন্য খুুঁটি হিসেবে কাজ করবে 
মানুষ কি তাঁর আকশের সীমানার বাইরে যেতে পারে?
তারাগুলোতো সেই বাস্তবতাকেই ধারণ করছে 
রাজসমারোহের ভেতর থেকেতো তাঁকে দেখা যায় না
তিনিতো ব্রহ্মা-কে নিজের আয়ত্তাধীন করেছেন
বদরের বাস্তবতাতো সেই আলোকিত অংশের নিদর্শন 
তাঁর অস্তিত্বের স্বাধীনতার চর্চা সম্পর্কে জানতে হলে
তাঁর একক সময়ের মাঝামাঝি অবস্থা সম্পর্কে জনতে হবে
এ বিষয়টি এমন আজ্ঞা অনুসরণ করে যা এমন-
একজন ছাত্রকে যেমন তার গুরুর আদেশেই চলতে হয়।
(তোমার বিবর্তন দেখো) যখন তোমার স্তন অপরিচ্ছন্ন ছিলো 
আর তুমি উৎফুল্ল শিশু ছাড়া কেউ নও
এই (তত্ত্বকথার) পথ তাঁর মালিকের পক্ষ থেকে এসেছে।

 

لبستْ صفية ُ خرقة َ الفقراءَ 
        

لبستْ صفية ُ خرقة َ الفقراءَ    لمّا تحلتْ حِلية الأمناءِ 
وأتتْ بكلِّ فضيلة ِ وتنزهتْ    عن ضدّها فعلَتْ على النظراءِ 
وتكاملت أخلاقها وتقدَّست    وتخلقتْ بجوامعِ الأسماءِ 
جاءتْ لها الأرواح في محرابها    فهي البَتُول أُخيَّة العذراءِ 
وهي الحصانُ فما تزنُّ بريبة ٍ    وهي الرزانُ شقيقة ُ الحمراءِ 
نزلتْ تبشِّرها ملائكة السما    ليلاً بنيلِ وراثة ِ النسباءِ

 

    
আমার পোশাক ফকিরের মতো

যখন আমার মাথায় বিশ্বাসের তাজ
তখন আমার পোশাক ফকিরের মতো হলে দোষ কী
তাঁর জন্যইতো আমার এই বেহাল দশা
আমার নিয়ন্ত্রিত গুণাবলীর ভেতর তিনি উপস্থিত
দেখো, মসজিদগুলোতে তাঁর নাম জপ হতে লাগলো
যেখানে আমার নৈতিকতা ও পবিত্রতা পূর্ণ হলো 
(জান্নাতে) আমি কুমার-কিশোর পাবো। 
সে প্রফুল্লচিত্তে আমার কাছে আসবে 
রাজনের লাল টুকটুকে বোনের মতো
(ঘোড়ার গতির হিসাব হতে পারে) 
ঘোড়ার ওজনের বিচার হয় না। 
রাতে আমি মৃতদের উত্তরাধিকারী 
অবশেষে আমার অবস্থান চিরস্থায়ী জান্নাত।

কবিতা

লেখক : মহিউদ্দিন ইবনে আল আরাবি

 

লেখক পরিচিতি: 


আবু আব্দুল্লাহ শেখ মহিউদ্দিন মোহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আরাবি। ‘ইবনে আরাবি’ নামে অধিক প্রসিদ্ধ। রহস্যময়ী চরিত্রের অধিকারী এই দার্শনিক কবি ১১৬৫ খ্রিস্টাব্দে স্পেনের মুরসিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। ইবনে আরাবি আইয়ামে জাহেলিয়াতের (আরবের তাঈ যাযাবর আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর) কবি হাতেম তাঈ- এর বংশধর। মায়ের দিক থেকে তিনি আফ্রিকান বার্বার যাযাবর আদিবাসীদের গোত্রভুক্ত। তিনি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় স্পেনের আন্দালুসিয়ার সেভিলিতে জ্ঞানার্জনে কাটিয়েছেন। পিতা আবু আব্দুল্লাহ সেনাবাহিনীতে কাজ করতেন। পিতার মৃত্যুর পরেই তাঁর পরিবার মুরসিয়া থেকে সেভিলিতে স্থানান্তরিত হন।  যেসকল কাজী কিংবা খতিবদের কাছ থেকে তিনি আধ্যাত্মিক শিক্ষা লাভ করেছিলেন তাঁদের মধ্যে মোহাম্মদ ইবনে কাসিম আল তামিমীর নাম অগ্রগণ্য।  

৫৯৮ হিজরীতে তিনি হজ্জ পালন করেন এবং পূর্বপুরুষের এই ভূমিতে বসবাস শুরু করেন। এ সময় তিনি ‘আল ফাতুহাত-আল মক্কা’ গ্রন্থটি রচনা করেন। তিনি আরবে কিছুদিন কাটানোর পর মদিনা থেকে যাত্রা শুরু করেন এবং মসুল (ইরাক), সিরিয়া, প্যালেস্টাইন, ইরাক আর আনাতোলিয়া জুড়ে দীর্ঘ ভ্রমণ করেন। আলেপ্পো ও দামেস্ক শহরে তিনি বহুদিন অতিবাহিত করেছেন। যাযাবর জাতিগোষ্ঠী থেকে (কাঈ) জাতি কর্তৃক তুর্কি জাতি প্রতিষ্ঠায় ইবনে আরাবির সুচিন্তা, পরামর্শ এবং আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতিফলন ছিলো বলে ঐতিহাসিকগণ মনে করে। উল্লেখ্য, কাঈ গোষ্ঠী ইবনে আরাবির পূর্বপুরুস তাঈ গোষ্ঠীর সাথে রক্তের বন্ধনে এক ছিলো। ইবনে আরাবিকে আধ্যাত্মিক শিক্ষক বা ঋষি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের অনেকে স্বীকার করেছেন। এই ইসলামি চিন্তকের মাধ্যমে প্রাচীনকালের প্রধান বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান ও দার্শনিক উত্তরাধিকার ইউরোপে এসে ঢেউ তোলে। আধ্যাত্মিকতায় অর্জিত শিক্ষা তাঁর ছোটবেলা থেকে পরিলক্ষিত হয়। 

ইহুদি, খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মে নবীদের আগমনের কারণগুলো তিনি রহস্যপূর্ণ অন্তর্দৃষ্টি মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। ইবনে আরাবির গ্রন্থ সংখ্যা ৩৫০ টির বেশি। আরবি ভাষা তিনি দিওয়ান ও তারজুমান আল আশওয়াক রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। সুফিবাদী ও মিস্ট্রিক ধারার এই চিন্তক ও কবি পশ্চিমা দর্শন ও সাহিত্যের পাশাপাশি ইসলাম বিস্তারে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তিনি মূলত অপরিহার্য আত্মা ও ঈশ্বর সম্পর্কে দূরদর্শী ও বিজ্ঞানভিত্তিক কথার অবতারণা করেছেন তাঁর দিওয়ানে। ইবনে আরাবি প্রায় ৮০০ গ্রন্থের প্রণেতা অথচ তাঁর গ্রন্থগুলোর বেশির ভাগই রয়ে গেছে পান্ডুলিপি আকারে। এই মহান কবি ও দার্শনিক ১২৪০ খ্রিস্টাব্দে দামেস্ক শহরে মৃত্যুবরণ করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড