• মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দৈনিক অধিকার ঈদ সংখ্যা-১৯

চিঠি

০৬ জুন ২০১৯, ১৩:২২
আমির সোহেলের গল্প
ছবি : চিঠি

বৃষ্টি হলে কত কথা মনে পড়ে যায়, কত রকম অম্ল-মধুর স্মৃতি। বৃষ্টি মনটাকে রোমান্টিক করে তুলে। বৃষ্টি তার কথা মনে করিয়ে দেয়। পুরনো দিনের কথা। সেদিন হুট করে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। সকালটা যেন মনে হয় সন্ধ্যা। এরপর শুরু হয় তীব্র বাতাস। সেই সাথে গাছের ডাল ভাঙার মটমট আওয়াজ। আর ভয়ংকর শব্দে বিদ্যুৎ-এর ঝিলিক মেরে একের পর এক বজ্রপাত। বাতাসের তীব্রতা কমে যাওয়ার সাথে সাথে তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়। ভয়াবহ এক সকাল। এমন ঝড়-বৃষ্টি হবে তার এক ঘণ্টা আগে কেউ আন্দাজও করতে পারেনি। সূর্য উঠার সাথে সাথে বাবা-মা এক সঙ্গে ফুফুর বাড়িতে যান। ফুফু অসুস্থ। তাই দেখতে গেলেন। বাবার একমাত্র ছোট বোন। কাছেই বাড়ি। আমাদের দুই বোন তখন বাড়িতে। ছোট বোন তখন আমার বুকের মধ্যে ভয়ে জড়সড় হয়ে মিশে আছে।

এমন সময় দরজায় কেউ যেন কড়া নাড়ল। এই ঝড়-বৃষ্টির দিনে কে এখন বাইরে! আশ্চর্যজনক! বাবা-মা তো দুপুরের আগে ফিরবেন না বলে গেছেন। তবে কে এল! দু’বোন নিজেরা এমন বলাবলি করতে করতে সদর দরজা খুলে দিলাম। কাকভেজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আদিব ভাইয়া। আমাদের স্কুলের সবার পরিচিত মেধাবী মুখ। তিনি আমাদের দুই ক্লাস উপরের ছাত্র।
- আদিব ভাইয়া, আপনি! আমি অবাক হয়ে জানতে চাইলাম।
- স্যার বাসায় নেই? আমার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বাবার কথা জানতে চাইলেন আদিব ভাইয়া। আমার বাবা আমাদের স্কুলেরই শিক্ষক।
- না, আব্বু তো ফুফুদের বাড়িতে গেছেন। 
- ও আচ্ছা। স্যার একটা কাজ দিয়েছিলেন তা করে নিয়ে এসেছিলাম।
- তাই বলে বৃষ্টিতে ভিজে আসতে হবে কেন ভাইয়া।
- আমি যখন বের হই এমন বৃষ্টি নামার কোন পূর্বাভাস ছিল না।
এই বলে পলিথিনে মোড়ানো কাগজের ফাইলটি আমার হাতে দিয়ে বের হতে উদ্যত হলো। আমি আটকালাম। 
বললাম- একবার ভিজে একাকার হয়েছেন। আবার ভিজে যাবেন। বাইরে বৃষ্টির তোড় এখনো থামেনি। আপনি দাঁড়ান। কথাগুলো বলে আদিব ভাইয়াকে কিছু বলতে না দিয়ে চলে গেলাম আমার রুমে। আমার ব্যবহার করা তোয়ালে এনে দিলাম। তার ভেজা শরীর আর মাথা মোছার জন্য।

আদিব ভাইয়া আর কিছু না বলে আমার তোয়ালে দিয়ে খুব যত্ন করে হাত মুখ আর মাথা মুছল। খুবই আস্তে ধীরে। বিষয়টি আমার খুবই ভালো লাগল।

এই ফাঁকে ভেতর থেকে বাবার একটা জামা এনে দিলাম। ভেজা জামা খুলে পরার জন্য। কিন্তু আদিব ভাইয়া কিছুতেই বাবার জামা পরবে না। এ নিয়ে আমি তেমন একটা জোরাজুরি করলাম না। চেয়ারে বসতে বলে ভেতরে গেলাম আমরা দু’বোন।
একটা বাক্সে চাল-ডাল ভাজা করা ছিল। একটা প্লেটে করে চাল-ডাল ভাজা আর ডিমের পিঠা এনে দিলাম। এরমধ্যে আদিব ভাইয়া জামা খুলে তোয়ালে গায়ে জড়িয়ে বসেছে। তোয়ালেটা বড়ই ছিল। চাদরের মতন।

চাল-ডাল ভাজা তিনি খুব পছন্দ করলেন। খুশি হয়ে বললেন- এই বৃষ্টির দিনে এরচেয়ে মজার খাওয়া আর হয় না।
- আমারও চাল-ডাল ভাজার মিক্স বৃষ্টির দিনে খেতে অনেক ভালো লাগে। আমি বললাম। 
আদিব ভাইয়া, ছোট বোনসহ আমরা মজা করে খেতে লাগলাম। 
গত কয়েকদিন একটা অঙ্ক মিলাতে পারছি না ভাইয়া করে দেবেন? -বললাম আদিব ভাইয়াকে।
একটা কাজের মত কাজ পেয়ে যেন আনন্দিত হয়ে উঠলেন। বললেন, বের কর, করে দিচ্ছি। 
এভাবে কোন ফাঁকে সময় চলে গেল। বৃষ্টি থামার পর তিনি চলে গেলেন। আদিব ভাইয়ার হাতের লেখা অনেক সুন্দর ছিল। আব্বু তাই স্কুলের উপস্থিতি খাতার ছাত্র-ছাত্রীদের নাম লিখতে দিয়েছিলেন। তাই দিয়ে গেলেন তখন।
দু’দিন পর স্কুলে আদিব ভাইয়ার ছোট বোন নিতু আমায় একটা খাম দিয়ে গেল। নিতু ক্লাস সিক্সে পড়ে। আর আমি তখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। আদিব ভাইয়া ছিলেন তখন প্রবেশিকা পরীক্ষার্থী।
স্কুল শেষে বাড়ি এসে আর অপেক্ষা করতে পারলাম না। কখন খাম খুলে পড়ব। ভিতরে একটা উত্তেজনা কাজ করছিল। 
খাম খোলার সাথে সাথে একটা সুন্দর ঘ্রাণ মনটা ভরিয়ে দিল। আদিব ভাইয়ার অসাধারণ সুন্দর হাতের লেখা।

মৌলী,
বৃষ্টিস্নাত কদমের শুভেচ্ছা নিও। আশা করি তুমি তোমার মত চঞ্চলা হরিণীই আছ। তেমনি থাকো, সবসময়। দূর থেকে তা দেখতেই তোমায় তোমার অজান্তে অনুসরণ করি।
তোমার শরীরের ঘ্রাণ তোমার তোয়ালে থেকে পেয়ে আমার নাকে লেগেই আছে। খুব দারুণ সুবাস। যদি সুবাসটা সারা জীবন পেতাম। কতই না ভালো হত!
সুবাসে সুঘ্রাণে দিওয়ানা
এক মজনু

-তারপর কি হয়েছিল দাদু? তুমি কি চিঠির জবাব দিয়েছ? সাব্বিরের প্রশ্ন।
রুমু, সুমি, নুরু ইশারায় ঠোঁটে আঙুল দিয়ে চুপ থাকতে বলল। কারণ দাদীর গল্পের সময় কোন কথা বলা নিষেধ। গল্প বলার সময় দাদী একটাই শর্ত দেন। কোন প্রশ্ন করা যাবে না। গল্পের মাঝে তোমার মনে জাগা প্রশ্নের উত্তর ঠিক খুঁজে পাবে তিনি বলেন। দাদী গল্পের মধ্যে ডুবে গেছেন তাই সাব্বিরের প্রশ্ন তার কানে ঢুকেনি। এ যে তার জীবনের গল্প।

দাদী আবার বলা শুরু করলেন, যেন তিনি এখন সেই ক্লাসের ছাত্রীটি আছেন। এমনভাবে- আদিব ভাইয়ার চিঠি এতবার পড়েছি। কোরানের সূরার মত মুখস্থ হয়ে গেছে। দু’দিন পর কাঁচা হাতে আদিব ভাইয়াকে একটা চিঠি লিখি। তবে চিঠি না বলে চিরকুট বললেই ভালো হয়। চিরকুটে লিখি-
‘আমি এমন চিঠি প্রতিদিন পেতে চাই...
সারাজীবন পেতে চাই...’

আদিব ভাইয়া প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে একটা করে নানান রকম অনুভূতির কথা লিখে খামে ভরে দিতেন। আমি প্রতি সপ্তাহে চিঠির জন্য অপেক্ষা করতাম। সরাসরি কোন কথা হত না আমাদের। একি স্কুলে থাকার পরও।

এরপর প্রবেশিকায় সেরা রেজাল্ট করে আদিব ভাইয়া চলে যায় কলেজে। তখনও সপ্তাহে একদিন করে চিঠি পাঠাতেন।
এভাবে চলে যাচ্ছিল সময়। দেশ তখন অস্থিতিশীল। মার্চ মাস। দেশের নেতা শেখ মুজিব তখন নানা ভাষণে অধিকার আদায়ের বক্তব্য বিবৃতি দিচ্ছিলেন। ক্লাসে স্যারেরা এসে সেসব বলেন। আমি তখন প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ৭মার্চ রেসকোর্স ময়দানে দেশের নেতা শেখ মুজিব ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ স্কুলের সবার মনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। একটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে সকলের মনে। কি হয়! কি হয়! সকল কাজ যেন স্থবির হয়ে পড়ে। ক্লাসে স্যারেরা পড়াশুনার বদলে কি হচ্ছে নতুন কি খবর তা নিয়ে আমাদের সাথে আলাপ করতো।
এই সময় আদিব ভাইয়ার চিঠি আসে। কলেজে যাওয়ার পর আদিব ভাইয়ার চিঠি ডাকঘরে আসত। আগে তো তার ছোট বোন নিতু ছিল ডাক পিয়ন।

আদিব ভাইয়ার চিঠিতে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির বিস্তারিত জানায়। শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ে যুব সমাজ ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত। শুধু শেখ মুজিবের নির্দেশের অপেক্ষা। আদিব ভাইয়া কলেজে ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দেয়। তাই মিছিল মিটিং করত।

অপেক্ষার মাঝেই ২৫ মার্চের কালো রাত্রী আমাদের সামনে ইতিহাসের নির্মমতার স্বাক্ষী হয়ে হাজির হয়। পাকিস্তানী বাহিনী গণহত্যার নাম দেয় অপারেশন সার্চ লাইট নামে। পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকদের আদেশে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী পরিকল্পিত গণহত্যা শুরু করে। শেখ মুজিবকে সেই রাতে পাকিস্তানী হায়েনারা গ্রেফতার করে। তার পূর্বে তিনি ঘোষণা দিয়ে যান স্বাধীনতার। মুক্তি পাগল মানুষ শোষণ-বঞ্চনা আর নিপীড়ন থেকে বাঁচতে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে। চারদিকে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়। আতঙ্কিত মানুষ বাঁচতে ছুটতে থাকে এখান থেকে ওখানে আর পাশ্ববর্তী দেশে।

এলাকায় এলাকায় সংঘটিত হতে থাকে মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিতে থাকে ছাত্র-শিক্ষক, কৃষক, জেলেসহ সব ধরনের মানুষ। এই সময় একদিন আদিব ভাইয়ার চিঠি আসে। সেই চিঠিতে স্বাধীনতা যুদ্ধে যাওয়ার কথা লিখেন। লিখেন দেশের এই দুর্দিনে আমরা ছাত্র সমাজ এগিয়ে না গেলে ভাল কিছু অর্জন সম্ভব না। যুদ্ধে যাওয়ার পর আদিব ভাইয়া আরো দুইটা চিঠি পাঠান। সেখানে বিভিন্ন গেরিলা হামালায় জয়ে কথা উল্লেখ করেন। সে জয় গুলোতে তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন।
অক্টোবরের দিকে পাক বাহিনী আমাদের এলাকায় ঢুকে পড়েন। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করার অপরাধে বাবাকে ধরে নিয়ে যায় স্কুল থেকে। তার আর খোঁজ মেলেনি।

কাঁদতে কাঁদতে মা আমাদের দু’বোনকে নিয়ে চলে যান নানার বাড়িতে। সব জায়গায় আতঙ্ক। সেখানে গিয়েও শেষ রক্ষা হলো না আমাদের। এক রাতে নানার বাড়িতে ঢুকে পড়ে পাক সেনারা। আমাদের দু’বোন কে তুলে নিয়ে যায়। মা বাঁধা দিলে বুলেটে ঝাঁঝরা করে মায়ের বুক। চোখের সামনে মায়ের নির্মম মৃত্যু, এখনও স্বস্তিতে থাকতে দেয় না।
পাক ক্যাম্পে আমাদের উপর চলে পৈশাচিক নির্যাতন। টানা তিনদিনের নির্মম নির্যাতনে ছোট বোন মারা যায়।
বলতে বলতে দাদী একটু থামলেন। তার চোখ দিয়ে টপ টপ করে পড়তে থাকে পানি। রুমু, সুমি, নুরু আর সাব্বিরদের গল্প শুনতে শুনতে কখন যে চোখ দিয়ে পানি ঝরছে তারা বুঝতে পারল না।

আমাদের আটকের চতুর্থ দিন খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ক্যাম্পে আক্রমণ করে। দাদী আবার বলা শুরু করলেন। মুক্তিযোদ্ধারা তিন ঘণ্টা হামলা চালিয়ে ক্যাম্প দখল করতে সমর্থ হয়। পাক-বাহিনীর আটজন মারা পড়ে। আরো কয়েকজন ক্যাম্প ছেড়ে পালায়। মুক্তিবাহিনীরা আমাকেসহ আরো কয়েকজন মেয়েকে উদ্ধার করে।

উদ্ধার তাদের করে গোপন আস্তানায় নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। আমার সুস্থ হওয়ার পূর্বেই বিজয়ের সংবাদ আসে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার। 

অসুস্থ অবস্থায় দু’জন মুক্তিযোদ্ধার সহযোগিতায় বাড়িতে ফিরে যাই। বাবার খবর পাওয়া যায় কিনা, আদিব ভাইয়ার খবর পাওয়া যায় কিনা জানতে। কিন্তু বাবার খবর আর পাইনি। আদিব ভাইয়ার খবর নিয়ে পনেরদিন পর যিনি আসছিলেন তিনিই তোদের দাদা। সবচেয়ে বড় কথা তিনি ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তিনি আদিব ভাইয়ার সাথে মুক্তিযুদ্ধ করা সাহসী একজন বীর ছিলেন। তিনি একটা চিঠি নিয়ে আসেন। সেই চিঠিতে লেখা ছিল- 

মৌলী,
তোমাদের সব খবর পেয়েছি। এই মুহূর্তে তুমি একা। তোমার দুঃখ কষ্টের সময় পাশে থাকার ইচ্ছা মনে হয় আর পূরণ হবে না। যাকে পাঠাচ্ছি সে তোমাকে আমার মত করে ভালোবাসবে। ভালো একজন মানুষ সে। তোমার সব কথা তাকে বিস্তারিত বলেছি। সে তোমার সব সময়ে সঙ্গি হবে, আমার প্রস্তাবের পর সে রাজি হয়েছে। সেও যুদ্ধে সব পরিজন হারিয়েছে। আশা করছি সকল যাতনা ভুলে ভালো থাকবে। তাকে গ্রহণ কইরো। আমি তাতে খুশি হবো।
ইতি
আদিব মাহবুব

তোদের দাদার কাছে থেকে জেনেছিলাম। সম্মুখ যুদ্ধে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে আদিব ভাইয়া যুদ্ধ করছিল। তখন একটা গ্রেনেড এসে তার পায়ে লাগে, তাতে পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। উদ্ধার করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দু’দিন পর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পূর্বে আমার জন্য ওই চিঠি লিখে তোর দাদার হাতে দিয়ে যায়।
- তোমার আদিব ভাইয়ার প্রস্তাবেই গ্রহণ করেছিলা? সাব্বির, সুমি, নুরু আর রুমু সমস্বরে দাদীকে প্রশ্ন করল।
দাদী হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লেন। মুখে কোন শব্দ আর উচ্চারণ করলেন না। তার দৃষ্টি অন্য কোথাও যেন হারিয়ে গেল।

আরও পড়ুন- শুঁটকি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড