• সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

দৈনিক অধিকার ঈদ সংখ্যা-১৯

শিকারে শিকারিতে হয় কাব্যিক মিলন

  রকিব লিখন

০৮ জুন ২০১৯, ১৩:৩৬
কবিতা
ছবি : শিকারে শিকারিতে হয় কাব্যিক মিলন

গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী


প্রতিনিয়তই তুমি; আমারই মাঝে 
জল আর আগুনের করো খেলা মৃত্তিকার মতো
প্রেম আর পতনের নিঃশব্দ ক্রন্দনের সুরে
ছোপ ছোপ কষ্টের কারুকাজে রঞ্জিত হয় তরল হৃদয়

তুমি বনফুল; তরল মুদ্রার মতন সুগন্ধি  ছড়াও বাতাসে
উন্মুখ ভ্রমরের গান হও নগ্ন শিশিরে 
আমার আরশিতে তখন মেঘ ভাঙ্গার ক্রন্দন
জ্বলে ওঠে তিয়াসি চাতকের তৃষ্ণার্ত আর্তনাদ

আমি মন ভোলা পাখি হতে চাই
ভুলে যেতে চাই সব পথ গ্রহ নক্ষত্র পৃথিবী

তবুও তোমারই কাছে করতে চাই
গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী হয়া প্রেমের কীর্তন।


আদিম দীর্ঘশ্বাস


এভাবেই একদিন দিগন্তকে সাথী করে চলে যাবো
শেষ হবে ধুলোমাখা জীবনের গল্প
নীল নীল স্মৃতির সন্ধ্যায় হবে ধূসর কুয়াশার সঙ্গীত
সেদিনও আমি থাকবো তোমারই মাঝে

তারপর একদিন গাঙ্গের জোয়ারের মতন
ভাসবে তুমিও; 

ভেসে ভেসে ক্লান্ত হবে; 

শিয়রে ঝুলে যাবে আদিম দীর্ঘশ্বাস
স্মৃতির অর্গানে বাজবে অতীত সঙ্গীতের ধোয়া
তখন ভাববে তুমি; আমিই ছিলাম তোমার বিশুদ্ধ প্রেম
আর সব প্রেমিক ভাবে তোমায় রিরংসু...

 

কাব্যিক মিলন


অনুভূতির অনুভূমে তুমি এক কাব্যিক পেয়ালা
চুমুকে চুমুকে ধোয়ায় ধোয়ায় ওঠে বিরহী কীর্তন
মদিরের মদিরায় সুর হয়ে বাজে কৃষ্ণের মোহন

তুমি তপ্ত জল! আমি পিয়াসি বণিক
তোমার ভাঁজে ভাঁজে খুঁজি  অমৃত গরল
সুর আর সুধায় তুমি হও নীরব সঙ্গীত
তৃষ্ণা কমে না, বেড়ে যায় জীবন যোগ


নাব্যতার কর্ষণে হয় জোয়ারি কীর্তন
ওম ওম বাতাসের সঙ্গীতে ওঠে জোয়ার
আমি হই বেধ, তুমি হও মায়াময় হরিণ 
শিকারে শিকারিতে হয় কাব্যিক মিলন।।


বিহারি পথিক


বুকের গহীনে তুমি; যেন রোদ ভোলা ভোর
কুয়াশার সৌরভে মেতে ওঠা আবিষ্ট পৃথিবী।
শীতে আর জলে জ্বলে তুমিই হয়েছো মেঘ
আস্তিনে লুকাই কুয়াশার রূপালি গৌরব।

সকালের সৌরভে মেতে ওঠা রৌদ্র যেমন করে
জড়িয়ে ধরে পৃথিবী; তেমনি আমি তোমার।
আকাশের পথ ভোলা কোন মেঘের কোরাসে
আমিই মন্থিত করবো তোমার আপাদমস্তক।

বাতাসিয়া গানে গানে সুর নৃত্যের মাদলে
তোমাতেই আমি হবো চির হরিৎ বসন্ত
তুমিও মাতাল গান হবে ঘন বন সরিষার
আমি হবো তোমার বনের বিহারি পথিক।


মৃত্যু কীর্তন


নক্ষত্র ফুল হয়ে ফুটে বুকের কোমদ বিছানায়
ছোপ ছোপ কষ্টের লাল বর্ণালী ফোয়ারায়
জোছনাগন্ধা রাত হয় প্রীতিহীন কলঙ্কিত
বুকের তটে চলে দুম দুম নাগাসাকির বারুদ

আর কত! জীবনের অশ্বত্থবৃক্ষ এখন বনসাই
কাতরাতে কাতরাতে হই মনভোলা পাখি
তুমি নদী কিংবা অশ্বত্থ; কিংবা চাঁদ সওদাগর
মনসাই যেখানে ভিলেন; সওদাগর ক্রীড়ানক

তেমনই আমিও যোযোয়া আঁধারে তোমাতেই
হই কাব্যিক গান; অথবা বাজাই ভায়োলিন
শোধ আর সুধার নেশায় তুমি রিরংসু হও
আমি দোলাচলে গাই আমার মৃত্যু কীর্তন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড