• সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

দৈনিক অধিকার ঈদ সংখ্যা-১৯

তামাম শহরে বসে মানুষের হাট

  মাসুম মুনাওয়ার

০৮ জুন ২০১৯, ১০:১৬
কবিতা
ছবি : তামাম শহরে বসে মানুষের হাট

খতিয়ান

উড়ে যাচ্ছে প্রেম, হৃদয় থেকে ক্রমাগত উড়ে যাচ্ছে প্রেমের মৌসুম। হাতের কাছে রাখা চাদরে হৃদয়কে চেপে ধরলাম কিছুটা রক্ষার আশায়। তবু চাদরের ফাঁক দিয়ে উড়ে যাচ্ছে প্রেম। বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলাম। পাশের রুমগুলো থেকে মুহূর্তে কিছু বন্ধু ছোট ভাই আরো কিছু অপরিচিত মানুষ দৌড়ে এলো। কোনো কথা না বলেই শুরু করলো কাড়াকাড়ি। একজন চিৎকার করে বলছে আমার লাল প্রেমটা চাই। অন্য একজন বলছে আমার নীলটাই লাগবে। কাউকে বলতে শুনলাম আমার সবুজটা কেউ আবার শাদা শাদা বলে চিল্লাচ্ছে। কয়েকজন গোলাপি প্রেমের জন্যে ঝগড়া বাধিয়ে দিলো। চাতকের মতো উদাস মুখগুলোর দিকে তাকিয়ে আছি। প্রচণ্ড বেগে উড়ে যাচ্ছে প্রেম। সূক্ষ্মকোণের শূন্যতা ছুঁয়ে ঘুরে ঘুরে ঘূর্ণি হয়ে উড়ে যাচ্ছে হাওয়ার ভিতর। বুদ্ধের ধ্যান ভেঙে প্রবাহমান স্রোতের খণ্ডিত গতিতে উড়ে যাচ্ছে প্রেমের অবশিষ্ট খতিয়ান। হাওয়ার হৃদয় ছিঁড়ে উড়ে যাচ্ছে হিমালয়। পূর্বাপর মিলনের প্রত্যাশায় উড়ে যাচ্ছে আরাফা অভিমুখে। জমজমের পবিত্র শরাবে নেশা কেটে গেলে আদম খুঁজে তার গন্ধমি কাবা। তাওয়াফে বিলিয়ে দিয়ে সবটুকু সময় ফিরে আসে মালিকের দরবারে। তবু উড়ে যাচ্ছে প্রেম, উড়ে যাচ্ছে আদম; উড়ে যাচ্ছে হাওয়া। হৃদয় থেকে ক্রমাগত উড়ে যাচ্ছে প্রেমের মালিক। হৃদয়ের অবশিষ্ট প্রেম চুরি গেলে নিজেকে বিলিয়ে দেবো!


সূর্য 

 

চোখ কচলাতে কচলাতে আমাদের গ্রামে সূর্য উঠে। হামাগুড়ি দিতে দিতে সবুজ ঘাসে ছড়িয়ে পড়ে তার অগণিত চোখ। শিশিরের জল। সেই সব শুরুর আলাপ। পৃথিবীর ঘুম ভাঙে।

দূর সূর্য্যরে নিকট থেকে ধেয়ে আসে আলোর মিছিল। পাল্টে যায় জীবনের গতিপথ। পাল্টায় না মানুষের রূপ। দুপুর হতে না হতে অশ্লীলতা দৌড়ে আসে মনের গভীরে। জেন বয়ানের ফাঁদে পড়ে কাঁদে কবিদের সহোদর। তামাম শহরে বসে মানুষের হাট। মানুষ বিলীন।

সূর্য্যরে আলোতে তারাগুলো মানুষ হয়ে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। তারা ঝিলমিল। মানুষের কোলাহলে বাড়ে পৃথিবীর দৈনিক বয়স। মানুষগুলো রাত নামতেই তারা হয়ে যায়। জমে উঠে তারা আর মানুষের খেলা। মানুষগুলো মানুষ হতে গিয়ে নীলাকাশে দেয় পাড়ি।

জোনাকিরা চুপচাপ ঘুম গেলে আঁধার কুণ্ডুলি কেটে নামে তামাকের ঘ্রাণ। সুরেলা পাখনাগুলো তীর্থ যাত্রা শেষে উঠোনে জমায় গীতের আসর। বুড়োবুড়িদের হাট বসে ছাদের উঠোনে। রাত-দিন, সকাল-বিকেল, সন্ধ্যা বা সময় সকলই চাতকের মতো খোঁজে মেঘজল। তবু সূর্য উঠে আর তারাগুলো মানুষের মতো হেঁটে বেড়ায় নোনা মাটির জমিনে।

পুনশ্চ-: গাল ফোলা। ওঁচা নাক। বাঁকা হাত। মায়ামুখ। লিপিস্টিক। চোখ। খোলা বুক। ফাঁকা মন। বিষাদ-যন্ত্রণা। রাগ অভিমান। 


এরিস

 

একটা মুরগি একটা গরুর পা খেয়ে ফেলছে। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলো একটা রামছাগল।  গরুটা ছাগলের পা ধরে টানছে। একটা ঘোড়া তখন পাড়ে বসে ডিম পাড়ছিলো। ছাগলটা বলদের মত কিচ্ছু না বলে ঘোড়ার ডিমটা খেয়ে ফেললো। এই ভয়ে ব্যাঙগুলো স্লোগান দিতে দিতে পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়লো।

সিঁড়ির উপর থেকে চিল্লাতে চিল্লাতে একটা ছেলে গল্পটা বলছে। চারপাশে বসে থাকা কাপল ও নানান বয়সের মানুষগুলো ছেলেটার কথা শুনে হাসছে। ছেলেটা কিচ্ছু না দেখে বলেই যাচ্ছে- ‘একটা মুরগি একটা গরুর পা খেয়ে ফেলছে। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলো একটা রামছাগল। গরুটা ছাগলের পা ধরে টানছে। একটা ঘোড়া তখন পাড়ে বসে ডিম পাড়ছিলো। ছাগলটা বলদের মত কিচ্ছু না বলে ঘোড়ার ডিমটা খেয়ে ফেললো। এই ভয়ে ব্যাঙগুলো স্লোগান দিতে দিতে পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়লো।’

সিঁড়ি বাইতে বাইতে ছেলেটা পুকুরে নামছে। ছেলেটার পকেটে একটা ব্যাঙ। ব্যাঙটা তার প্রেমিকাকে ডাকছে। প্রেমিকা নিরুদ্দেশ। প্রেমিকের আওয়াজ শুনে প্রেমিকা তাড়াহুড়া করে ফোনটা কেটে দিলো। ব্যাঙটা কবিতা পড়তে পড়তে কুকুরের মত পানিতে ঝাঁপ দিলো।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি সূত্রে এই মাত্র খবরটা জানা গেলো। সবাইকে ধন্যবাদ। আমাদের সাথেই থাকুন। 

 

বৈশাখ

 

কান্দালংকা। বাংলাদেশের যেকোনো এক গ্রাম। সবুজ এইখানে চিৎ হয়ে লাল মাটির সাথে জড়িয়ে আছে। সাত রঙের সবুজ। সবুজের বিন্যাস ও সৌন্দর্য মাতিয়ে রেখেছে প্রতিটা লতাগুল্ম। আপনাকে স্বাগতম। চলে আসুন প্রিয় বন্ধু, বিষাদ ফেলে যান। দেখবেন সবুজ হয়ে গেছে হৃদয়। জীবন তখন অধিকতর বিপ্লবের দিকেই যাত্রা করবে।

 

দুই আনা

 

শারুলি, আমাদের গ্রামে আইসো। এইখানে আছে রোদে পোড়া মানুষ। মানুষের ইয়া লম্বা জিভ। অনেক পুরাতন পায়ের লোম। ছড়িয়ে থাকা পানের পিক। সাবধান! শহুরে পোশাক খুইল্যা রেইনকোট পইরা নিও। গায়ে লাগতে পারে গোবরের ছিটা। অথবা তরতাজা পাঠার গন্ধে বমি আসতে পারে। মাস্কটা ঠিক মতো পইরা নিও। আরো আছে লাল টুকটুকে কবুতর। কবুতরের খোপের ভিতর নারী। নারীর বাতাস লাগলে গায়ে জ্বর আসতে পারে। সাথে কিছু নাপা এক্সট্টাও নিয়া আইসো।

শারুলি, তোমাকে আমাদের গ্রামে আসতেই হবে। শিল্প এইখানে ছড়ায়ে ছিটায়ে আছে। কবিতার অলংকার এইখানেই কোথাও চাষ হয়। নদীর জলে ফুলে ফলে জমে উঠেছে গ্রামের উত্তর পাড়া। আসো, দেইখ্যা যাও; আমাদের কানাই এইখানেই কী সুন্দর নুপুর পায়ে ঘুরছে!

আরও পড়ুন- চিতার ঘাসগুলো কেন বড্ড সবুজ

কবি

ছবি : কবি মাসুম মুনাওয়ার


লেখক পরিচিতি : 

মাসুম মুনাওয়ার। যার কবিতায় কথা বলে প্রকৃতি। প্রকৃতির সাথে মানবজীবন। মানবজীবনের ভাঙ্গা-গড়া, আনন্দ-বেদনা। তিনি একজন কবি, সম্পাদক ও সংগঠক। পারিবারিক নাম মসিহুর রহমান। তিনি ১৯৮৮ সালের ১ মার্চ নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ থানার রাম জীবন পুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগে পড়ালেখা করেছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র সাহিত্য সংগঠন ও ছোটকাগজ চিরকুট এর প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ষোলো পৃষ্ঠা প্রকাশনী থেকে অমর একুশে বইমেলা ২০১৬ তে প্রকাশিত হয়েছে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সূর্যকুসুম’। ‘জলবন’ তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালে এবং ২০১৯ এ প্রকাশিত হয় তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘সূর্যোদয়ের দৃশ্যাবলি’।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড