• মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দৈনিক অধিকার ঈদ সংখ্যা-১৯

প্রিয়তম কাঁকড়ার পাশে আঁকলাম ঘর

  অরবিন্দ চক্রবর্তী

০৬ জুন ২০১৯, ১৩:৪৭
ছবি
ছবি : প্রিয়তম কাঁকড়ার পাশে আঁকলাম ঘর

উল্লম্বী


আরোহী উপত্যকা, চক্রবর্ণ। কর্ণচোরা উট।
পা খুলে উদ্যম ছড়িয়ে গরগর সরসর...

তোমার বাদাম পেলাম, আঙুলও
সোনালি আঁশ খুটছি
               খুলছি
               ছাটছি
               চাটছি
একটি বীজ খসে উড়ুক্কু গেল।

 

ও আপেল, ও পেল
তোমায় ভাবতে ঢিলঢিল লাগে।

 

পিঁপড়েমাখা পাতার লোবানে
                      অসভ্যতা নড়ছে
                      ফুলস্টপের নিচে
                      মানুষগুলো ঢেকে যাচ্ছে।

 

আড়াল থেকে পিচ্ছিলসব সাদা অর্গল
নদী আয়, নদিয়ায় জলস্বরে
জুট-কারখানা ভাষার বাদামি মেয়েটার গায়ে মেখে
আমাকে আসতে দেখা যায়।

 

সন্দেহবাদী


শরমিন নামের পাশে তুমি যদি হাসো 
মেয়েটি জানবে এখানে চাষ হয় বোকাবংশ।

 

পুরুষের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা স্ট্যাচু 
ধরবে রমণীয় গান 
লোল ঝরবে যার
আজ সে আকাশ নিয়ে ভাবনা করে
নদীকে কোলে তুলে নিয়ে তাম্শা দ্যাখে।

 

লজ্জাতুন্নেছাকে দেখে জিরাফ কোমর দুলিয়ে
ইউটার্ন চলে যায়, যাকে ভাবা যায় লেসবিয়ান।

 

ভারতবর্ষে লুকিয়ে থাকা একটি গোপনচিত্র
ঘুমে তরল ঢেলে আরববিশ্বের স্বপ্ন দেখে।

 

কয়েকজন


মুখোশ সরিয়ে নেওয়ার পরে যে মুখ পাওয়া যায়
জলের মতো জল, স্রোতের রাজনীতিতে সে একাকার।

 

শুধু 
কাঁদল আমার আত্মা, কদম বনে আমি
পৃথিবী ঝাঁকিয়ে দানবীরদের হুলস্থূল হাসালাম।

 

পাশের বনের রৌদ্রপেত্নী
দলছুট পেয়ে আমাকে
বলল
সাপ যে দেবতার শ্রী, আশ্রয়ঘর।

 

লাশ পাওয়া গেল, কাছিমের
দৃশ্য ফুটল, ব্রহ্মাণ্ড ধসে গেছে 
অসহায় থুবড়ে আছে গতি।

 

আমি 
প্রিয়তম কাঁকড়ার পাশে আঁকলাম ঘর
কেউ কেউ মাছের লেজে মাখালো তেলোবাতাস।
পুকুর তখন আপন আসনে জল উড়িয়ে উজবুক
হতে চাচ্ছে এক উজ্জ্বল মেঘপ্রাণ।


অবদমন


কথার পাশে তুষার জমছে, যেন দুধসর।

 

প্রসঙ্গত    তোমার ঋতুতে ফুটে উঠছে মধু মধু হাওয়া
ফলত     উড়ে আসছে পৃথিবীর সকল সফল পাহাড়
ফুলত     পাশের গুহামুখে ওই দেখা যায় আলো।

 

যা হয়
শুধু তুমি নও, যেকোনো কবি শীতসংকেতের আড়ালে
মাফলারের ভাষায় কথা কয়। আমরা কজন কিংবদন্তি-মুখোশ
নিরীহ আগুনের পাশে গোল গোল রুপালি কথার স্বামীভাই হয়ে 
শুনি কেবল শুনি...

 

মহিয়ান


তুমি একজন তুমি
দেখলাম তার ভেতরে নিরালম্ব ঢুকে গেলে
যার অশেষ বর্তুল

উপত্যকানির্ভর অসহায় গৌরব উদ্যাপনের
                             দেওয়ানি আছে।

তিনি তক্তা স্বভাবের ঢালু সামনে রেখে
           খরচ করে যাচ্ছেন জগতের আয়ু।
বন্ধু এরস, বুঝতে পারছি না
আমি কার হাঁটুর সমান্তরাল, নিচুতলায় হয়ে উঠছি আবাসিক;
একদিন নগর-মেয়রের খাসকামরায়
                       করব ওপেন সিক্রেট...
অধিকার রাখব তোমার করতলে বসে
ব্যবহারিক জিওলকে করে দিতে
                          রজতজল ফেনাজল।

 

আরও পড়ুন- লালঝুঁটি মোরগফুল-ভুল-ভুল ভোরবল

কবিতা

ছবি : কবি ও সম্পাদক অরবিন্দ চক্রবর্তী

 

লেখক পরিচিতি:

কবি ও সম্পাদক অরবিন্দ চক্রবর্তী। তিনি ১৯৮৬ সালের ১১আগস্ট ফরিদপুর জেলার রায়পাড়া সদরদী গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। একনিষ্ঠ ভাবে সাহিত্য চর্চা পাশাপাশি সম্পাদনার কাজ করে যাচ্ছে অনেক দিন ধরে এই কবি। তিনি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির পত্রিকা ‘মাদুলি’র সম্পাদক।

অরবিন্দ চক্রবর্তীর এই পর্যন্ত চারটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে এবং সম্পাদনা করেছেন আরো চারটি গ্রন্থ। 

কাব্যগ্রন্থ:  ছায়া কর্মশালা (২০১৩), সারামুখে ব্যান্ডেজ (২০১৬), নাচুকের মশলা (২০১৮) ও রাত্রির রঙ বিবাহ (২০১৯)

সম্পাদনা:   দ্বিতীয় দশকের কবিতা (ফেব্রুয়ারি ২০১৬), অখণ্ড বাংলার দ্বিতীয় দশকের কবিতা (ডিসেম্বর ২০১৬), একজন উজ্জ্বল মাছ বিনয় মজুমদার (ফেব্রুয়ারি ২০১৯)।  

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড