• বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দৈনিক অধিকার ঈদ সংখ্যা-১৯

লালঝুঁটি মোরগফুল-ভুল-ভুল ভোরবল

  মাহবুব মিত্র

০৪ জুন ২০১৯, ১২:৪৪
কবিতা
ছবি : লালঝুঁটি মোরগফুল-ভুল-ভুল ভোরবল

কবিতার গর্ভপাতকলা
   

দমদম হাওয়াটোস্ট; হাসতে-হাসতে ভাসতে-ভাসতে~আমি এখন থোকা-থোকা বোকা-সোকা ভ্রূণফুল। কবিকুল মহাসঙ্কুল~মহাশয়ের মহাশঙ্খ বাজে মহারণ্যে। নাকপাশ ঘিরে নাগপুরের নাগপুষ্প ওড়ায় নগরনাগর। কী এক হট্টগোল রটে-রটে রুটে-রুটে ছুটে-ছুটে ফোটায় কবিতাশ্রম!

বিভ্রমাশ্রমে ওরা কারা~যারা তারা বানায়~নদীর বাঁকে ফাঁকে-ফাঁকে। একদিন সাঁকো-সাঁকো সাঁতারখেলা হবে আঁকুপাঁকু; সাঁতারু এঁকেবেঁকে এঁকে যাবে বাঁকো-সাঁকো কৌণিক ঢেউ। কবিতাকাশে খসে-খসে ঝরে পড়বে খসখসে আঁধার! এবার থামাও সেতারের ভুলভাল মুদ্রানাচ।

মশারির ঝালরে স্ফীত হয় মুদ্রানীতি। চায়ের লোহিতকণিকায় হ্রাস পাচ্ছে শ্বেতকণিকার রাশভারি চোখ। দলছুট বানর হয়ে~শব্দ-বাক্য-যতিচিহ্নের যত্রতত্র পড়ে আছে~অতিশয় নীচু বামন। বামুনের ছলছল ছলাকলায় বিস্মৃত বাকল-বকনা যেনো কবিতাগতর।

 


হাঁটুকের পাদুকা


দাঁড়িয়ে আছে স্টেশন। ট্রেনবাহী উম্মা-উম্মা শৈশব। হাম্বা-হাম্বা নীরবতা। খাম্বা-খাম্বা কঙ্কালঢেউ~কুটির-কুটির অট্টহাসি। মা কি জানতো~শিয়ালবাড়িতে শিয়াল নেই! বহুগামী কুকুরেরা বাগান সাজায় চাঁদেরহাটে। খিয়ালবাড়িতে খিলখিল হাসে শিয়াল-বেজির চাটুকার।

স্টেশন ফাঁকা হলেও তোমাদের জিহ্বাটান~পরিপূর্ণ ভরাট হলেও জিভেজল! ডিপজল কি আলকাতরার আলকাটা পোকা! চেসোয়াভ মিউশ~আমার বিগত রিক্তবক্ষ কারাগারে~মাংসপিণ্ডের প্রাতরাশ; সুবল-ধবল গাভীর দেহরক্ষী। জিভচাটা বিড়াল হাঁটে সমান্তরাল। বীর্যহীন একটা বীভৎস বলদ হতে চাইলো রাজসাক্ষী।

স্টেশন ঘুমিয়েছে। লালঝুঁটি মোরগফুল~ভুল-ভুল ভোরবল। রক্তবীজ ডাকছে। ঝরে পড়ছে পাউডারমাখা লাবণ্য। নিউরনের খোলাবাক্সে আরশোলার গন্ধম সঙ্গম। আর আমরা হাঁটুজলে হাঁটতে-হাঁটতে ক্লান্ত। হাঁটুক জানে না~কখন হারিয়ে গেছে~তার স্বপ্নের জাদুকরী পাদুকা।

 

 

সেলুলয়েড প্রেমিকা
 

পৃথিবী এখন খুব গোপনের---কুয়োতলে কুয়াশাচর
কোনো রাগ নেই---ভাসছে বেলুন---ফাটছে ছায়া,
বারবার কেটে ফেলছে ফটোগ্রাফ---গ্রিনহাউজে ধোঁয়া
বুকের গহীনে ভাসমান নাগিনীরা ফেলছে নিঃশ্বাস;

 

কাঁদছে বাসের জানালা---কষ্টরা নিত্যফেরিওয়ালা
সারা বাসজুড়ে কাঁচা-পাকা গন্ধ---তুমিই উড়াচ্ছো ছাই!
জানালা আর আয়নায় তোমারই দীঘল ছায়া দোলে
সরল মানুষের ডানায় চলন্ত বাসের ঘামক্লান্ত শরীর;

 

স্নানাগারে যাও---দ্যাখো, উদোম করেছে ঊরুর কপাট
আধঘণ্টা খুব বেশি নয় সময়---শুধু একবার এসো...
গন্ধ শুঁকে বুঝে নিবো তুমি পারিজাত প্রজাপতি
প্রেমের কোকিল যেভাবেই ডাকে---গান হয়ে যায়;

 

শুধুই দু'জন---প্রতিদিন বাসায় একই লাইটপাখি জ্বলে
রেডি হয়ে যাও---সেলুলয়েডে ছাপা হবে অর্ধনগ্ন নাভী,
রোজসংসার আর ভালোলাগে না---উড়িয়ে দাও মেঘ;
পৃথিবী দেখুক থমকে দাঁড়িয়ে---চলো পাখি হই ডানাহীন।

 


পিলের মমতায় বাড়ছে প্রেম


তুমি কি পিল খাও---না...
‘না’ বলে পাখিটি উড়ে গেলো
পিছনে পুকুরের জলে একটি দীর্ঘ ছায়া
শোনো, শিশুটি কাঁদছে পিলের উষ্ণতায়!

 

টেড হিউজ আর সিলভিয়া প্লাথ টেমসের দুঃখ
গাছের ডালে-ডালে কথা কয় কবিতাপুত্র,
শ্রী শ্রী লোকনাথ বাবা তাকিয়ে আছে বোবা
সিগ্রেট জ্বলছে---তোমার মুখে ধূমকেতু;

 

আপনি থেকে তুমি---আর সেই থেকে (a+b)2
(a-b)2 ভাবতে-ভাবতে প্রপাগান্ডিস্ট কাদায় লুকায়,
শতশত জীর্ণ মুখ দাঁড়ায় (a2-b2)-এর ক্ষুধার্ত সারিতে;
মন্দিরের ঘণ্টার মতো চেয়ে আছে শীতল দু'টি চোখ।

 


ছায়াবেশ্যা


মৃত্যুর কাছাকাছি। পোকাগুলো নড়ছে। প্রেতালয় কাঁপছে। আঙুলে-আঙুলে মিথ্যা-মিথ্যা খেলা। সারিবদ্ধ কপালে ভাগ্যরেখারা বিলীন। তবু্ও চোখে-চোখে বহু বর্ণিল সতেজ বাসনা। তোমাদের মগজে লাক্স-লাক্স ফেনা। শার্ল বোদলেয়ার মারিয়া রিলকে অক্টাভিও পাজ ডেরেক ওয়ালকট টমাস ট্রান্সট্রোমার এডোনিস~তারাও চুমু খেয়েছে বহুগামী নারীর ঝুলন্ত স্তনে। কামারশালায় ক্ষত-ক্ষত গর্ত-গর্ত দেহ। লাল রঙের বকনা বাছুর~রঙধনু হতে চায়।

বাতাসভর্তি মূর্খছায়া। ছায়াসোপান উড়ছে উড়াচ্ছে গড়াচ্ছে লুটোপুটো। তারায়-তারায় তারা বাঁধে~ধারাবাহিক অলীক হাসির ঢেউ। ভালোবাসার নামে অখণ্ড অবসরে~খুঁজে ফেরে বহুগামী ঘোড়া। তার দেহভঙ্গিমা ডোবা-ডোবা~দেহভরা পঁচাগলা সুরা। কাকেরা তাকিয়ে আছে শূন্য গর্তে; করছে অর্থহীন কা-কা-কা। আমি কি ডরাই সখি অযাচিত ক্রন্দনে! অর্ধমাতাল কবিতারমণী~সময়ের মেঘ ও দুঃখনদী~ছুটে যাচ্ছো এ-ঘাট থেকে ও-ঘাটে। কবিতা কি শিশুর চেয়েও অতি উত্তম~জলফল অথবা জলছবি!

বলটি ঘুরছে এ-কোর্ট থেকে ও-কোর্টে; মহাশূন্যে বাতাসের ঘূর্ণিপাকে~পাতাল থেকে সপ্তআসমান গহীন পাতালে; বাঁকা গোলার্ধ থেকে ফাঁকা গোলার্ধে। সৈনিকেরা মাঠ-মাঠ দূর্বাঘাস! আমার অস্ত্রগুলো মজুদ রেখেছি ছায়াবেশ্যার গোপন আড়ালে। তুমি~তুমি; তোমরা~তোমরা; জোট বেঁধেছো জুটমিলের গোধূলি-ধুলোয়। আমি~আমি; আমরা~আমরা; কক্ষ-কক্ষ পক্ষ দেখি~হাসি-হাসি বৃষ্টি ছাড়ি...

 

আরও পড়ুন- ভ্রমরার হুল ভুলিয়ে দেবে বিরহের গান

ছবি

ছবি : কবি মাহবুব মিত্র

 

কবি পরিচিতি : 

কবি মাহবুব মিত্র। যার কবিতায় পাওয়া যায় নান্দনিকতার মিশ্রণ। শুধু তা-ই নয়, কাব্য ভাবনায় ছন্দিত ঝঙ্কারের সাথে দেশ, মাটি ও সাধারণ মানুষের কথা বলে। আছে ভিন্ন বৈচিত্র। নিজস্ব ঢং ও নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট। তিনি ১৯৮১ সালের ১ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার কদমশ্রীতে জন্মগ্রহণ করেন।

মাহবুব মিত্র খুব ছোটবেলা থেকেই লেখা-লেখি করেন। এপর্যন্ত তার ১১টি একক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর প্রকাশিত কব্যগ্রন্থগুলো- জননীর করতলে কবিতার মিছিল, অমীমাংসিত কবিতার রক্তাক্ত সংলাপ, আমি নীল পাহাড়ের গান, ভালো থেকো নীল আকাশ, শাদা কফিনে মেঘের শব্দ, মার্বেল পাথরের গহীন ছায়া, জলের নিচে অনন্ত দুপুর।

টুকরো কথামালা : টুকরো কথা সত্য সংলাপ, আমার কথা উড়াল পাখি, আমার বিশ্বাস আমার অবিশ্বাস, আমার বিশ্বাস আমার ভাবনা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড