• রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬  |   ১৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কানাডায় উচ্চশিক্ষা এবং স্থায়ী আবাসনের সুযোগ

  সাদিয়া রহমান স্বাতী

২২ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:৫৩
টিউশন
ছবি : প্রতীকী

ফয়সাল রহমান বাংলাদেশের একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে পড়ছেন। কিন্তু তার স্বপ্ন হলো কানাডার কোনো একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডমিশন নেওয়া। একইসঙ্গে পরবর্তীতে পড়াশোনা শেষ করে কানাডায় স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়া। কিন্তু কীভাবে কানাডায় অ্যাডমিশন এবং স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া সম্ভব?

কানাডায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজে প্রধানত দুটি সেশনে ভর্তি নেওয়া হয়, ফল ও উইন্টার। বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের ওয়েবসাইটে অ্যাডমিশনের বিস্তারিত দেওয়া থাকে যা দেখে একজন স্টুডেন্ট সহজেই অনলাইনে অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট করতে পারেন। অনেক স্টুডেন্ট ভাবেন যে, কানাডায় এসে পার্ট টাইম কাজ করে সম্পূর্ণ টিউশন ফি ম্যানেজ করা সম্ভব। এই চিন্তাটি আসলে অমূলক। কারণ, কানাডায় একজন স্টুডেন্ট সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন যা দিয়ে তার থাকা-খাওয়ার খরচ হয়তো মিটানো সম্ভব, কিন্তু টিউশন ফি নয়। 

আবার কানাডার কোনো ছোট শহরের বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কলেজে অ্যাডমিশন নিলে প্রথমেই যে সমস্যাটা দেখা দিতে পারে সেটি হলো, পার্টটাইম কাজ ম্যানেজ করা। যেমন কিছুদিন আগে নাজমুল হাসান ব্রিটিশ কলম্বিয়ার ক্যামলুপস শহরের থমসন রিভার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিলেন। কিন্তু পাহাড় ঘেরা ক্যামলুপস একটি ছোট শহর এবং এখানে কাজ ম্যানেজ করাটাও কঠিন ছিল তার জন্য। একইভাবে সিনথিয়া ইসলাম এসেছিলেন অন্টারিও প্রভিন্সের কিচেনার শহরের কানেসতোগা কলেজে একটি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা প্রোগ্রামে। কিন্তু একইভাবে কিচেনারেও পার্টটাইম কাজের অভাব। 

কাজেই নাজমুল কিংবা সিনথিয়ার মতো অনেক স্টুডেন্ট পরবর্তীতে বড় শহরের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শর্ত সাপেক্ষে চলে যান যেখানে তারা পার্টটাইম কাজ জোগাতে পারবেন। তবে স্টুডেন্টশিপ বজায় রাখতে হলে একজন স্টুডেন্টকে নিয়মিত ক্লাস করার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা দিতে হয়। একই সাথে টিউশন ফিও যথাসময়ে পরিশোধ করতে হয়।

সেলফ ফাইন্যান্সে আসা অনেক স্টুডেন্ট নিজের স্পাউসকে কানাডায় সঙ্গে নিয়ে যেতে চান। ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে একজন স্টুডেন্টের পক্ষে তার স্পাউসকে কানাডায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। উল্লেখ্য যে, সেলফ ফাইন্যান্স ছাড়াও কানাডায় বিভিন্ন স্কলারশিপ প্রোগ্রাম রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে একজন স্টুডেন্ট কানাডার নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডমিশন পেতে পারেন। 

কানাডায় পড়তে আসা একজন স্টুডেন্টের আসলেই যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়। পড়াশোনা চালিয়ে যাবার পাশাপাশি তাকে কাজও করতে হয়। কিন্তু দীর্ঘ এই পরিশ্রম বৃথা যায় না। কারণ বর্তমানে স্টুডেন্টদের জন্যে কানাডা সরকার বেশ কিছু সুবিধা দিয়েছেন। পড়াশোনা শেষ করে তারা ওয়ার্ক পারমিট পান এবং পরবর্তীতে পারমানেন্ট রেসিডেন্সির জন্য আবেদন করতে পারেন। কানাডার প্রভিন্সগুলোর মধ্যে সাসকাচুয়ান, ম্যানিটোবা, নিউ ফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরে স্টুডেন্টদের স্থায়ীভাবে আবাসনের সুযোগ রয়েছে। একই সাথে অন্টারিও প্রভিন্সের মাস্টার্স প্রোগ্রাম কমপ্লিট করার পরেও একজন স্টুডেন্ট স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। সম্প্রতি রুরাল অ্যান্ড নর্দার্ন পাইলট প্রোগ্রামটিও স্টুডেন্টদের আশার আলো দেখাচ্ছে।

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড সেটেলমেন্ট টিমের ভলান্টিয়ারগণ বিনা মূল্যে তাদের ওয়েবসাইট এবং ফোরামের মাধ্যমে কানাডার স্টুডেন্ট ভিসা এবং ইমিগ্রেশনের সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। আপনিও চাইলে তাদের ওয়েবসাইট এবং ফোরাম থেকে ঘুরে আসতে পারেন : 

ওয়েবসাইট: http://immigrationandsettlement.org/Home/Index

ফোরাম: http://forum.immigrationandsettlement.org/


লেখক :  সাসকাচুয়ান কানাডা থেকে

ওডি/জেআই 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড