এ কেমন প্রশ্ন!

প্রশ্নপত্রে ‘রবীন্দ্রনাথ’-এর বাবা মিয়া খালিফা!

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:২৬

 অধিকার ডেস্ক   

ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বাংলা প্রথম পত্রের বহু নির্বাচনি একটি প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতার নাম। এই প্রশ্নের সম্ভাব্য চারটি উত্তরের একটির মধ্যে রয়েছে পর্ন তারকা মিয়া খালিফার নাম! তবে বিতর্ক এড়াতে তার নাম লেখা হয়েছে ‘মিয়া কালিফা’।

শুধু তাই নয়, বিকৃত করা হয়েছে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত কিশোর উপন্যাস ‘আম-আঁটির-ভেঁপু’-এর বানান (প্রশ্নে ‘আঁটি’ বানানে চন্দ্রবিন্দু নেই)। পাশাপাশি উপন্যাসটির রচয়িতার নাম জানতে চাওয়া প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তরে নাম হিসেবে রাখা হয়েছে সাবেক পর্ন তারকা, অভিনেত্রী সানি লিয়নের নাম!

বুধবার (১৭ এপ্রিল) পরীক্ষা শেষে, কুরুচিপূর্ণ এই প্রশ্নপত্রটির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা জন্ম দিয়েছে তুমুল সমালোচনার।

এখানেই শেষ নয়, এই প্রশ্নপত্রে রয়েছে এমন বেশ কিছু উদ্ভট বিষয়। প্রশ্নপত্রটিতে প্রমথ চৌধুরীর পৈতৃক নিবাস জানতে চাওয়া প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তরে রাখা হয়েছে রাজধানীর বহুল আলোচিত বলধা গার্ডেনের নাম। তবে এক্ষেত্রেও নামটির বানান পরিবর্তন করে লেখা হয়েছে ‘বলদা গার্ডেন’।


একটি স্কুলের প্রশ্নপত্রে পর্ন তারকার নাম অন্তর্ভুক্ত হতে দেখে রীতিমতো হতবাক হয়ে পড়েছেন দেশের সচেতন সমাজ এবং অভিভাবকরা। স্কুলটির নবম শ্রেণির বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এমন অসংলগ্নতার কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বয়ে যাচ্ছে সমালোচনার ঝড়।


তবে, বিষয়টি নিয়ে উক্ত বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জয় প্রকাশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এগুলোকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে দাবি করেন। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না বলেও জানায় সাংবাদিকদের। 

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে আমরা মিটিং করেছি। খুব দ্রুতই এর বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্কুল সূত্রে জানা যায়, রামকৃষ্ণ মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক শংকর চক্রবর্তী প্রশ্নপত্রটি তৈরি করেছেন। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক ছাত্রের খসড়া প্রশ্নের সঙ্গে ভুল হয়ে ছাপা হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে খবর না বানানোর জন্যে সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান ওই শিক্ষক। 

এই ভুলের জন্য যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নিতে রাজি আছেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন এটি মানবিক ভুল। আমি বুঝতেই পারিনি এটি এমন বিতর্ক তৈরি করবে। প্রধান শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। আর কখনও এমন ভুল হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক সৌমিত্র শেখর গণমাধ্যমকে বলেন, এটি একটি অশিক্ষক সুলভ আচরণ। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকতা হচ্ছে একটি দায়িত্বশীল পেশা। শিক্ষকদের মানুষ অনুসরণ করে। এছাড়া তার এই কাজটি করা মোটেও উচিত হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ওডি/এসএসকে