• বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অনলাইন পাঠদানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাড়া নেই

  শিক্ষা ডেস্ক

০৪ এপ্রিল ২০২০, ১২:১৮
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি : সংগৃহীত

প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই দীর্ঘ ছুটিতে। অনাকাঙ্ক্ষিত এ বন্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে টেলিভিশনের মাধ্যমে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্যও একই পদ্ধতিতে ক্লাস সম্প্রচার হবে আগামী সপ্তাহ থেকে। 

একইভাবে সেশনজট ঠেকাতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ পরিপ্রেক্ষিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু করলেও ইউজিসির এ আহ্বানে সাড়া নেই বেশির ভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের। 

জানা যায়, গত ২৩ মার্চ করোনার বন্ধের সময়টাতে অনলাইনে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানিয়ে দেশের সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি নির্দেশনা দেয় ইউজিসি। কমিশনের দেওয়া চিঠিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষকদের অনলাইনে পাঠদান চালাতে উৎসাহ দেওয়া হয়। 

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ গবেষণা ও শিক্ষা নেটওয়ার্কের (বিডিরেন) ডেটা সেন্টারের জুম অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে বিনা খরচে এ অনলাইন কার্যক্রম চালানো সম্ভব। এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য শিক্ষকদের বিডিরেনের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়। এ ব্যবস্থায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ডেস্কটপ, ল্যাপটপ অথবা স্মার্টফোনের মাধ্যমে ইন্টারেক্টিভ শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে পারবে।

একইভাবে করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লাইভ ক্লাস অথবা ভিডিও টিউটোরিয়াল পাঠানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরামর্শ দেয় বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতিও। 

বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি ও ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘করোনার দীর্ঘ ছুটির প্রভাব মোকাবেলায় আমরা সমিতির পক্ষ থেকে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার জন্য একটি সেল করে দিয়েছি। বড় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় আমরা সব বিশ্ববিদ্যালয়কে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও সে আলোকে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু করেছে।’

ইউজিসি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির নির্দেশনার আলোকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। করোনার বন্ধে অনলাইনে পাঠদান দেওয়া হচ্ছে বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে নেওয়া এ ক্লাসে শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের হারও প্রায় শতভাগ। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্য অনলাইনে প্রশিক্ষণ কর্মশালারও আয়োজন করেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছুই অনলাইনে সচল রয়েছে। প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী অনলাইনে পাঠ নিচ্ছে। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক সভা করা হচ্ছে। এমনকি আমরা অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণও দিয়েছি।

অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছে আরেক শীর্ষস্থানীয় উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)। অনলাইনে ক্লাসে ৮০ শতাংশের মতো শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে বলে জানান ইউআইইউ উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোফিজুর রহমান। 

তিনি বলেন, ‘এই আপত্কালে প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা অনলাইনে সীমিত পর্যায়ে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এটা মূলত বসে না থেকে সময়কে কিছুটা কাজে লাগানো এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো। কিন্তু গ্রামে-গঞ্জে ইন্টারনেটের বেহাল অবস্থার কেউ কেউ অনলাইনে ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না। তাদের ভিডিও ও অডিও ফাইলগুলো ডাউনলোড করে ব্যবহার করার অনুরোধ করছি। তাও না পারলে চিন্তার কোনো কারণ নেই। ইউনিভার্সিটি খোলার পরে যথেষ্ট পরিমাণ সময় হাতে নিয়ে ক্লাস করে সিলেবাস শেষ করে ফাইনাল পরীক্ষা নিয়ে আমরা পরবর্তী সেমিস্টার শুরু করব।’

এদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইনে ক্লাস নিলেও এক্ষেত্রে তেমন কোনো সাড়া নেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর। দেশের সুপ্রাচীন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে না নেওয়ায় সেশনজটে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। তবে শিক্ষার্থীদের শঙ্কিত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান।

আরও পড়ুন : বেতনের টাকা শ্রমজীবীদের দেওয়ার ঘোষণা রাবি শিক্ষকদের

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হবে। তখন অতিরিক্ত সময় দিয়ে ঘাটতি পূরণ করা হবে। আমাদের ছেলেমেয়েরা করোনার কারণে সমস্যায় পড়ে গেল। যেহেতু এটা একটি জাতীয় সমস্যা তাই একে যে কোনোভাবে মোকাবেলা করতে হবে। এ সমস্যা যখন শেষ হয়ে আসবে তখন আমাদের শিক্ষকরা বিষয়টির দিকে সদয় দৃষ্টি দেবেন। তারা অতিরিক্ত সময় দিলে এ ঘাটতি পূরণ করা যাবে। করোনার কারণে আমরা যদি এক-দুই মাস পিছিয়ে যাই, তাহলে হয়তো সমস্যাটি সমাধানের জন্য আমাদের বিশেষ ড্রাইভ লাগবে।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যাতে ক্ষতি না হয়, সেজন্যই আমরা সব বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দিয়ে আহ্বান জানিয়েছি অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার জন্য। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সহায়তা চেয়েছে, আমরা সাপোর্ট করেছি। আসলে সবার তো প্রস্তুতি এক নয়। আবার শিক্ষার্থী সংখ্যাও এক নয়। তাই সবাই তো পারবে না। তবে আমাদের পরামর্শ থাকবে, ভবিষ্যতের জন্য যেন সবাই প্রস্তুতি নেয়।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড